প্রবেশিকা

**************************
আমি অত্র। আমি তত্র।
অন্যত্র অথবা –
আমার আরম্ভে আমি
নিশীথিনী, প্রভাতসম্ভবা।
**************************

Thursday, October 4, 2018

নশ্বরতা হে


নশ্বরতা হে
 

১।

সুডোল বাহু ও
গোল নিতম্ব
বর্তুল স্তন
দেবীদের। আর
পারসী আতর
হেলোজেন বাতি
ঝাড়লন্ঠন।
জিগোলো কিংবা
দেবতার মতো
সব যুবকেরা।
স্ফটিকপাত্রে
পূত সোমরস।
গীটার তবলা
সরোদ অথবা
রামধনু রঙ
সেলিব্রেশান ও
পারসী গালিচা
ছড়িয়ে পদ্য
পাঠকরা
সবই
মেনে নিতে পারি
গুড্‌বয়হেন
কেবল আবহে
যদি থাকে ছায়া
নশ্বরতার।
[ সাঁঝবেলাকার
  এই পারাপার
  দেখে একেবারে
  মনেহয় না'তো
  এরা নশ্বর।
  মনেহয় না'তো
  এরা জন্মেছে
 মাতৃ জঠরে।
অথবা মৃত্যু
সাহস করবে
এদেরকে নিতে
বৈতরণী বা
'লিথি'র ওপারে।
মনেহয় যেন
সব সম্বল-
ঘটিবাটি ফোন
অক্কা পাওয়ার
পরেও সঙ্গে
এরা নিয়েযাবে
কোনো কুরিয়ারে।
অক্কা পাওয়ার
পরেও যেনবা
এমনি ছুটবে
অফিসে, শপিং'এ
এবং ছুটিতে
আউটিং আর
ফাংশান হবে
রবি ঠাকুরের
মুন্ডু ঝুলিয়ে। ]
এর চেয়ে খাঁটি
হাড্ডিসার বা
বেডপ পৃথুলা
গণিকাবোনেরা
অথবা হিজড়া
হলুদ আলোয়
হোটেলে অথবা
"খত্‌রা গলী"তে।
নশ্বরতা হে,
সবই ঢের ভালো
অফিস ও শপিং
অথবা ছুটিতে
আউটিং আর
ফাংশান আর
সংস্কৃতি লীন
দেবদেবী থেকে।
তাই দেখো, একা
দাঁড়িয়ে রয়েছি
একটি জন্ম
নশ্বরতারই
মমতা আঁধারে।
যদি এই পথে
হেঁটে যাও তবে
একটি করোটি
অথবা ভষ্ম
রেখেযেয়ো এই
মোচ্ছবে জ্বলা
পাদপ্রদীপের
সকাশে
কিংবা
আমাকেও নিয়ো
তোমার সঙ্গে
চক্রবালের ওপারে
যেখানে
সবই ছায়া ছায়া।
নশ্বরতা হে ...

২৯/৩/২০১৮ - ৪/১০/২০১৮



২।
নশ্বরতা হে,
তোমার সঙ্গে
এই জন্মের
বোঝাপড়াগুলি
হলোনা এখনো,
অথচ সময়
চলেযায়, দেখো
ইস্‌কুলে শেখা
ছড়াটির মতো
       নদীস্রোতহেন।
নশ্বরতা হে,
যাপনমূল্যে
জীবনের ঋণ
শোধ করে যাব
ততো আলাদীন
নই এ জন্মে –
জাদুর প্রদীপ
বিক্রি করেছি
কবেই নিলামে
এবং তখুনি
জেগেছি গহনে
শীতঘুমহেন
      নির্বান ভেঙ্গে।
অবিনশ্বর
ঈশ্বরদের
ছায়া পার হয়ে
নশ্বরতা হে,
তোমার ছায়াতে
হাঁটতে হাঁটতে
পেরিয়ে এসেছি
করতলে আঁকা
রেখার জ্যামিতি-
তবুও হলোনা
কোনো বোঝাপড়া
তোমার সঙ্গে –
      নশ্বরতা হে।।
 
 

৫/১০/২-১৮ - ২১/১০/২০১৮


ঘুম ঘর