দিহারি
“बड़े दिनों के बाद, हम बेवतनों को याद, वतन की मिट्टी आई है,चिट्ठी आई है”। - আনন্দ বক্সী
হর্ম্য উঠছে। আরো একটি
হর্ম্য উঠছে কৃতান্ত নগরে
আরো একটি বস্তি খেদিয়ে। দিহারি মজুর
এক ফাঁকে গিলে নিচ্ছে
দিনের খোরাক। শস্তা হাতফোনে বাজছে
“আই হ্যায়, চিটঠি আই হ্যায়”, বহযুগের
ওপাড় হতে, আই হ্যায়, ওয়াতন কি
মিটটি আই হ্যায়। খামে নাম
কার? তোমার না
আমার, হে দিহারি মজুর? খাম খুলে
হাউসফুল ভিড় – দুর্গা না
রাধা সিনেমার? খাম না খুলেই পড়া যায়
“পরদেশে যারা গেছো, তোমরা আর আসবেনা? আর
পাতবে না আড্ডা এসে বারান্দায়, পাড়া বেপাড়ায়? আয়,
সাত সমন্দর পার হয়ে আয়, পনছি, পিঞ্জর
ভাঙ্গ। ভেঙ্গে আয়। তা নাহলে বাঁচা মানে
বয়ে যাওয়া যাপনের দায়। ঘুমাই না, ঘুমায় না
ঠিক করে কেউ। খায় কম। দিনরাত্রি যায়
লুকিয়ে কান্নায়”। খাম না খুলেই যায়
পড়াঃ “সুনী হো গই শহর কে গলিয়া”। কলি
শুকিয়ে কবে কাঁটা”। দিহারি মজুর
মাটি খুঁড়ছে। মাটি খুঁড়ছে
হর্ম্য প্রতিষ্ঠা নাকি পৃথিবী-কমলালেবু ফুঁড়ে
নিজের দেশের মাটি
খুঁজে পেতে খুঁড়ে যাচ্ছে
নিভৃত টানেল? “বিয়ের আসরে বসা বোন –
চোখ তার রাস্তায় পাতা”। হাউসফুল ছিল, কিন্তু
তিনটি টিকিট রেখেছিল
রাধার ব্ল্যাকার শামুদা। তারপর থেকে
পিপল গাছের ডাল
খালি। “পনঘট সুনা”
আজ অবধি। আয়,
সাত সমন্দর পার হয়ে আয়। পনছি, পিঞ্জর
ভাঙ্গ। ভেঙ্গে আয়। তা নাহলে বাঁচা মানে
বয়ে যাওয়া যাপনের দায়। “ম্যায় তো বাপ হুঁ
মেরা ক্যায়া হ্যায়? তোমার মায়ের হাল
দেখা যায়না চোখে। তোমার বিবি-টি
রাখে নাই শুশ্রূষায় ত্রুটি। তবু তাকে দেখে
লোকে ভাবে, সে বিধবা”। এই কথা সুরে
ভর করে ঢুকে যাই
আমি ওই নিভৃত টানেলে। টানেলের শেষে
আমারো দেশের মাটি, ওয়াতন কি মিটটি
আছে নাকি? আমিও এগোতে থাকি
হামাগুড়ি দিয়ে। হঠাৎ টানেল-মুখ
ঢেকে যায়। ধস নয়, অনন্ত টানেলে
শুধু লাশ, আমার নিজের লাশ
পড়ে আছে
স্তূপে। টানেল খননে রত
দিহারী মজুর, তুমি
এ সম্বাদ চিঠি দিয়ে
পৌঁছে দিও
আমাদের, তোমাদের
দেশে, ওয়াতনে।
===