প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label অক্ষৌহিনী জোনাকি সেনাকে. Show all posts
Showing posts with label অক্ষৌহিনী জোনাকি সেনাকে. Show all posts

Tuesday, December 11, 2012

সংলাপঃ মঞ্চের অন্ধকার থেকে

সংলাপঃ মঞ্চের অন্ধকার থেকে



১।
মঞ্চের পার্শ্ববর্তী অন্ধকারে আমি নিজেকে আড়াল করে
ভুলে যেতে চাইছি সমূলে মঞ্চসজ্জা, দৃশ্যভাগ, ছদ্মবেশ এবং সংলাপ –
প্রলাপে অভ্যস্ত হয়ে চেষ্টা নিচ্ছি হয়ে উঠতে শিলালিপি, লুপ্ত ইতিহাস ...
এতো মুখ, এতো মায়া, স্পট্‌ লাইট, কাম ও ইশারা
আমাকে পুড়িয়ে ফেলছে সত্যাগ্রহী আলোর আড়ালে –
তবু কেউ যাত্রাগানে বিবেকের মতো
এনে দিচ্ছে জন্মচিহ্ন, ক্ষত আর ব্যাহত মুকুট ...
আমি তাই দুই চোখ উপড়ে ফেলে দিয়ে
ঘোর অমাবস্যা রাতে অন্তর্গত নদীতে ঝাঁপিয়ে
সমষ্টির সূতো ছিঁড়ে হয়ে যাচ্ছি ইতিহাসে শেষ দলছুট্‌ ...
২।
আমিও চরিত্র এক তোমাদের এ নিখাদ নাটকে,
নির্দেশক তাই খাতা হাতে অন্য সবার সঙ্গে
আমারো নামটি ডাকছে, টের পাচ্ছি, তবু
কিছুতেই আমি আর বুঝতে পারছিনা
কোনটা আমার নাম, কোন নাম মন্ত্রী কিংবা রাণীর দাসীর ...
একেকবার মনেহচ্ছে সব নামই সর্বনাম, আমার উপমা –
পরের মুহুর্তে আমি নামহীন, পরিনামহীন
শূন্যস্থান হয়ে যাচ্ছি তোমাদের এ নিখাদ নাটকে –
যাত্রার বিবেকও আজ ব্যর্থ হচ্ছে  সূত্র দিয়ে যেতে
কেননা বিবেক হয়ে আমিও কখনো
ভুলেগেছি তার নাম, বেশভূষা এবং সংলাপ ...

Tuesday, December 4, 2012

ডাইনোসর দিনের কাহিনী ...





ডাইনোসর দিনের কাহিনী ...

পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দু পাত্তর মদ খাবো বলে
এসেছি আবার এই ডাইনোসর সরাইখানাতে,
এসে দেখি বজ্র বিদ্যুৎহীন আকাশের নীচে
ফসিল এক খাড়া আছে আর
বাঁদীদের স্তন নেই, গোলাকার পরুষ পাথরে
দাঁত ভাঙ্গে –রক্তপাত – নিভে আসা মশাল আলোতে
মালিক মহীন, বুড়ো, ক্র্যাচে ভর দিয়ে
কাছে এসে বসে বলে
সেইসব ডাইনোসর দিনের কাহিনী ...

বিলুপ্ত ঘোড়ার রক্তে ঠোঁট গলা সামান্য ভিজিয়ে
যখন বেড়িয়ে আসি ‘বনলতা সেন স্ট্রীট’ এ পুনরায়
তখন আমাকে ঘিরে আনন্দিত নৃত্য করে যারা
তারা কেউ বন্ধু নয়, তারা সব ফসিল শিকারী ...

সারমেয়র প্রতি যুধিষ্ঠির



সারমেয়র প্রতি যুধিষ্ঠির

যজ্ঞকাঠের মতন স্মৃতি
নামিয়ে রাখি অনুভবের কূটীর-দোরগোড়ায়
‘অভিজ্ঞতা’ পোষা কুকুর
সারাটা পথ কেবল পায়ে পায়
শোনায় কথাঃ ‘কোন্‌বা দেশে কবে ...’

যতোই বলি ‘ কুরুক্ষেত্র শেষে
আমার পথে স্বর্গারোহণ নেই –
চলে যা তুই যেদিকে চোখ যায়,
‘স্বর্গ’ নামের নড়কপুরে আমি
কুকুর ছাড়া একাই যেতে পারি –
লেখাইনি নাম ধর্মপরীক্ষায়’
ততোই অন্ধ রূপতরাসী-মাঠে
অভিজ্ঞতার কাল আলেয়া
অন্ধ করে অনুভবের চোখ –
গ্রামীন স্মৃতিই মশালহেন জ্বলে
জানিয়ে যায় ছন্দ ছাড়াও চলে
যাপন –তেমন জীবন হলে পরে –
৪/১২/২০১২

‘কোই গাতা ম্যাঁয় শো যাতা...”




‘কোই গাতা ম্যাঁয় শো যাতা...”

কে গায়?  সুরের নৌকায়...
শুনে ঘুম নেমে আসে চোখে
সুরের এই সাগরের বুকে
সুখেদুখে ঢেউ গুলি ধায় ...
জাগে সুর, ঘুম নামে চোখে –

যুগান্তের মায়া নিয়ে চোখে
যে আমার গহন অসুখে
মাথা টেনে নিতো তার কোলে
সে’ই গায়  সুরের নৌকায়...
শুনে ঘুম নেমে আসে চোখে

 
জীবনের এ কারাজাল ছিঁড়ে
যার স্বর নিয়ে যেতো দূরে
সে’ই গায়  সুরের নৌকায়...
শুনে ঘুম নেমে আসে চোখে
দিনেরাতে আঁধারে অসুখে ...

[ যে গানের ছায়ায় এই কবিতাটি রচিতঃ
কোই গাতা ম্যায় শো যাতা
সংস্কৃতি কে ভিস্তৃত্‌ সাগর পর্‌
স্বপ্নো কে নৌকা কে অন্দর্‌
দুখ্‌সুখ্‌ কি লহরো মে উঠ্‌ গির্‌
বহতা যাতা ম্যায় শো যাতা ...

আঁখো মে লেকর্‌ পেয়ার অমর্‌
আশিস্‌ হাথেলী মে ভর্‌কর্‌
কোই মেরা শর্‌ গোদি মে রাখ্‌
সহলাতা ম্যায় শো যাতা ...

মেরে জীবন্‌ কি কারাজাল্‌
মেরে জীবন কি হলাহল্‌
কোই আপ্‌নে স্বর্‌ মে মধুময় কর্‌
দোহ্‌রাতা ম্যায় শো যাতা ...

ছবিঃ আলাপ
পরিচালনাঃ ঋষীকেশ মুখার্জী
মুক্তিঃ১৯৭৭
কথাঃ হর্‌বংশ্‌ রাই বচ্চন
সুরঃজয়দেব
কন্ঠঃ যশোদাস ]

Monday, December 3, 2012

অনভিজ্ঞ



অনভিজ্ঞ

থাকতে হলে জোঁকের মতো থাকো,
নুন ছড়ালেও কামড় ছেড়োনা
রক্তচোষা ডাঁসের মতো খোঁজো
কোথায় ক্ষত, কোথায় জমাট ব্যথা –

এতোটা পথ পেরিয়ে এসে জানি
যা কিছু বিষ সকলি ব্যাকুলতা
নিজের চিতা শান্ত হলে পরে
উপমাহীন অন্ধকারই আলো
প্রদীপ জ্বলা আলোই জটিলতা –

এতোটা পথ পেরিয়ে এসে, প্রিয়,
ছন্দ মিলের দাস হয়োনা তুমি –
ছন্দ জানুক তোমার নীরবতা ...

অভিজ্ঞতা মানায় সন্ন্যাসীকে
মর্মে তারাও বিষন্ন সংসারী,
তুমি জোগাও চিতার চ্যালাকাঠ –
পুড়িয়ে দিয়ে মূর্খ অভিজ্ঞতা ।।


৩/১২/২০১২

ঘুম ঘর