প্রবেশিকা

ক্ষুদ্রতম কথাটিও, প্রিয়,
বৃহতের কাছে পৌঁছে দিও ...
নতুবা কেমন তুমি কবি?
মাঝে মাঝে শুধু চিঠি দিয়ো...
কতো পথ পেরোলে অথবা
কত পথ বাকি আছে আজো –
- এইটুকু খবর জানিও...
আমি সেই চিঠিতেই খুশি...
আমার কথাটি তুমি, প্রিয়,
বিরাটের পায়ে রেখে যেয়ো।
**************************************************** **

Monday, August 25, 2014

কোটর






কোটর

তথাপি প্রশ্রয় দিলে একদিন কালসাপ হয়ে
গিলেখাবো সমূলে তোমাকে –

নিরীহ রাখাল তবু জেনেরেখো অজগর এক
নিঝুম বসত করে আমার কোটরে।

তাকে ঘুমপাড়ানোর মতো
মন্ত্র কিংবা জাদুকরী হাড়ের বাঁশরি
আছে কি এ মানচিত্রে?
লুকানো গুহাতে?

শকুন্তলার প্রতি আমার কদাপি গুপ্ত পক্ষপাত নেই –
রানী ম্যাক্‌বেথহেন যদি পারো ফিরে এসো
পরজন্মে – রক্তমাখা ছুরি নিয়ে হাতে ...

পিস্তল






পিস্তল
সপ্তর্ষি বিশ্বাস
ঝাপ্‌সা হয়ে যাওয়া কাঁচের মধ্যদিয়ে চুঁইয়ে আসা মফস্বলি চাঁদের আলোতেও চক্‌চক্‌ করছিল পিস্তলটা।
                                        অনেকদিন ঐ ঘোড়ানিমের গাছটার তলায় মাটিচাপা ছিল এই পিস্তল। ঘোড়ানিমের এই গাছটি তখন নিতান্তই শিশু নাহলে কিশোর। সম্ববতঃ জলকাগজ দিয়ে মুড়ে রাখা হয়েছিল যাতে জং নাধরেসম্ভবতঃ নতুন ঘাস গজিয়ে উঠেছিল কয়েকদিনের মধ্যেই এবং নিশ্চিতভাবে  অচিরেই এ’র কথা ভুলেগিয়েছিল কাশীচাঁদ ও তার স্ত্রী দুজনেই। নিশ্চিতভাবেই ভুলে গিয়েছিল কেননা তাদের যাপনের কোনোখানে গোপন পিস্তলের মতো কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিলনা। স্বদেশি শব্দটি তারা জানত, শুনত কিন্তু কোনোদিন তা ছায়া ফেলেনি তাদের মনোজ অভিধানে। কাশীচাঁদ যে পিস্তলটি রাখতে রাজি হয়েছিল তার একমাত্র হেতু এই, যে, না রাখতে চাইলে তাকে তার নিজের অবস্থান সম্বন্ধে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিতেহতো আর সেই সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে বলতে হত নির্মলকেকিন্তু আমৃত্যু নিজের অবস্থান এবং অস্তিত্ব বিষয়ে কাশীচাঁদের মর্মে ছিলনা কোনোই ভাবনা কিংবা দুর্ভাবনা। কাজেই বিপ্লবী সহপাঠীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার ধৃষ্টতা দেখায়নি কাশীচাঁদ। ছোটো বাগানের এককোনে নির্মল নিজের হাতে মাটিখুঁড়ে এটি রেখেযায়। বলেযায় প্রয়োজনে সে বা তার “মানুষ” এসে নিয়েযাবে। যদি কেউ কোনোদিন এসেবলে “নিমফল পাড়তে এসেছি” – তাহলে বুঝতে হবে সে’ই নির্মলের “মানুষ”। সেই রাতেই চলেগিয়েছিল নির্মল।
সে নাকি ছিল এক ভীষণ দুর্যোগের রাত। ঠাকুমার কাছে শুনেছে শমিত। নির্মল চলে যাওয়ার পর বেশ ক’দিন ভয়ে ভয়ে ছিল কাশীচাঁদ আর তার বৌ। বৌকে প্রথমে কিছু বলেনি কাশীচাঁদ। কিন্তু দিন তিনেক পরে বলেছিল। “শুনে আমার সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠেছিল” – ঠাকুমা বলত। বলত “সামনে দিয়ে দারোগা পুলিশ যাচ্ছে দেখলেই ভয় হতো এইনা এসে তালাশি নেয় ...”
সেদিন থানায় বিপ্লব বলছিল এই পিস্তল আর যে পিস্তলে উধম সিং বিলাতে সাহেব মেরেছিল তারা একজাতের। বিপ্লব না থাকলে থানা থেকে এই পিস্তল আর হয়ত ফেরৎ পাওয়া যেতোনা। সিগারেট জ্বালায় শমিত। লাইটারের আলোয় ঝিক্‌মিকিয়ে ওঠে পিস্তল। দুই ঠোঁটে সিগারেটটাকে চেপে রেখে পিস্তলের গায়ে হাত বোলায় শমিত। কাশীচাঁদের বৌ’এর মতো সে’ও শিউরে ওঠে।
এই পিস্তলের গায়ে হাত দিয়ে শমিত আজ শিউরেওঠে ঠিকই তবে বালকবেলায় ঐ পিস্তল বহুবার হাতে নিয়েছে সে। ১৯৪৭ এর পরে কবর থেকে ফিরে এই পিস্তল উঠে এসেছিল কাশীচাঁদের সিন্দুকে। হয়ে উঠেছিল এন্টিক্‌। এরই দাক্ষিণ্যে ফ্রিড্‌ম্‌ ফাইটার পেন্সনও পেয়ে গিয়েছিল কাশীচাঁদ। কাশীচাঁদের পরে শমিতের ঠাকুমাও পেয়েছে ঐ পেন্সন। ঐ পেন্সনের টাকায় শমিতকে কিনে দিয়েছে সাইকেল।
না, নির্মল আর ফিরে আসেনি পিস্তলের খোঁজ নিতে। আসেনি তার কোনো “মানুষ”ও। শোনাযায় পিস্তল এখানে গচ্ছিত রেখে যাওয়ার পরের বছরই পুলিশের গুলিতে মরেছে নির্মল। “ তখন তোর ঠাকুর্দা ভেবেছিল পিস্তলটা তুলে এনে ফেলেদেয় চৌধুরিদের ডোবায়। কিন্তু খুঁড়ে তুলতে গেলে ...” – সাহস করেনি কাশীচাঁদ। ভালোই করেছে। নাহলে হয়তো নিজেকে “ফ্রীড্‌ম্‌ ফাইটার” বলার আইডিয়াটাই আসতোনা কাশীচাঁদের মাথায়।
বেশ খানিকটা ঝড়বৃষ্টি হয়েগেছে খানিক আগেই। এখানে এখনো কারেন্ট চলেযায় ব্যাঙ্গের মুতের মতো দুফোঁটা বৃষ্টি হলেই। ফলে এসেই একখানা ইন্‌ভার্টার জোগাড় করতে হয়েছে শমিতকে। তবে সেই ইন্‌ভার্টারের ব্যাটারী যতোটা চার্জ হয় তাতে কারেন্ট গেলে পাখা ছাড়া আর কিছুই চলেনা। সে’ও ভালো। নাহলে শিলা, সম তো বটেই তার নিজেরো যে কি অবস্থা হতো! শোয়ার কোঠা থেকে পাখা চলার আওয়াজ ভেসে আসে। শিলা, সম ঘুমিয়ে পড়েছে। এখানে এসে তিনিজনকেই শুতে হচ্ছে একই বিছানায়। সমের কি অসুবিধা হচ্ছে? কেজানে।  শমিতের ঘুম হচ্ছেনা এখানে আসার পর থেকেই। ঘুম আসেনা চম্পারও। গতকাল রাতে অনেকসময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে চম্পার সঙ্গে কথা বলছিল শমিত। এক সময় উঠে এসেছিল শিলাঃ ‘ চম্পা, ঘুমাতে যাবিনা? সকাল থেকেই তো রাজ্যের কাজ...” বলেনিয়ে শিলা ফিড়ে গিয়েছিল নিজের বিছানায়। শমিত টের পেয়েছিল একা, অন্ধকারে একটি যুবতীর সঙ্গে শমিতের এই জেগেথাকা শিলার পছন্দ নয়। কাজেই আজ চম্পার কিনারে দাঁড়িয়ে বাবার গল্প শোনার পরিকল্পনা বাদ দিতেহলো শমিতকে।
                                           অনেক বছরের এই বাড়ি। খুব বিশাল কিছু নাহলেও দোতলা বাড়ি। সামনে ছোটো বাগান, পেছনে ছোটো পুকুর। জায়গা অনেকটাই। প্রোমোটারের কাছে বেচে দিলে অনেক দাম। বাবার কাছে এসেওছিল বেশ কিছু। কিন্তু বাবা নারাজ। বাবা মেরামত করিয়ে টিঁকিয়ে রেখেছে এদ্দিন। নীচের তলায় কেউ থাকতোনা। বাবা থাকতো দোতলায়। তাও বড় কোঠাটাতে না। মা মারা যাওয়ার আগে থেকেই বাবা আর ঐ কোঠায় শুতোনা। তবে চম্পা বলেছে মা’র অসুখের বাড়াবাড়ির শেষ ক’টা দিন বাবা ছিল ঐ বড় কোঠাটায়। তখন নাকি মাকে রাজা-রানী-পরী-রাজপুত্র-ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর গল্প শোনাতো বাবা। চম্পাকেও লিখতে পড়তে শিখিয়েছে বাবা।
ঐ বড় কোঠাটাতেই শমিতরাও আছে। কিনারে কোঠাটায় শুচ্ছে চম্পা। এটা তার কোঠা নয়। কিন্তু শিলা ভয়পায়। শমিত থাকলেও ভয়পায়। তাই এই কোঠায় শুচ্ছে চম্পা। চম্পা ভয় করেনা। বলেঃ ‘আমার বাপ বলো, মা বলো সবই ঐ মেসোমশাই। উনি ভূত হয়ে আসেন, যদি গলা টিপে দেন তাহলেও আমার কিচ্ছু হবেনা ...” – আট’ন বছর বয়সে চম্পা এসেছিল এ বাড়িতে। মা’কে এটাওটা এগিয়ে দেওয়াই ছিল তার কাজ। ক্রমে বাসন মাজা,কাপড় ধোয়া করতে করতে সে এখন এই বাড়িরই একজন। অন্ততঃ শমিতের থেকে ঢের বেশী “একজন”। আঠারো পেরিয়েছে চম্পা। তার বিয়ের জন্য ফিক্সড্‌ ডিপোজিট্‌ করেগেছে বাবা।
দোতলার বারান্দার দক্ষিণদিকের কোঠাটায় থাকতো বাবা। ঐ কোঠাতেই এখন দাঁড়িয়ে আছে শমিত। ঝড়বৃষ্টির পর আবার চাঁদ উঠেছে আকাশে। দেখাযাচ্ছে ঐ ঘোড়ানিমগাছ। দেখাযাচ্ছে বৃষ্টিধোয়াপাতায় চাঁদের আলোর চিকিমিকি।  এলোমেলো মনে আসছে নানান পুরোনো কথা। আসছে কিন্তু তিষ্ঠোচ্ছে না। পুকুরঘাটের  কিনারে ভেসেওঠা মাছের মতন চলে যাচ্ছে পিছ্‌লে। ডুবেযাচ্ছে অতলে আর শমিতের চোখ ঘুড়েফিরেই এসে আটকে যাচ্ছে এই পিস্তলে। হ্যাঁ, এবার এইবাড়ি বিক্রি করে চলেযাবে শমিত। কিন্তু কি করবে সে এই পিস্তলটা নিয়ে? বিপ্লব বলেছে ওকে দিয়েদিতে। দিয়েদেবে? না’কি নিয়েযাবে সঙ্গেকরে? – এই ভাবনাটা, থানা থেকে পিস্তলটা ফেরৎ পাওয়ার মুহুর্ত্ত থেকে ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথায়।
এই পিস্তল ঠিক সেই অর্থে না হলেও কোনো এক অর্থে তার উত্তরাধিকার তো বটেই। আর  হ্যাঁ, এক অর্থে এ’ওতো ঠিক যে এই পিস্তলই তাকে এতো বছরের পরে ফিরিয়ে আনলো এখানে । মা মারা যাওয়ার পরে এসেছিল শমিত। আর তারপরে এই আসা। মাঝখানে বাবাকে বোম্বে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবার পীড়াপীড়ি করেছিল শমিত। বাবা রাজি হয়নি।
“আমি জানতাম তোমার বাবা রাজি হবেন না”। শিলা বলেছিল। কিছু উত্তর দেয়নি শমিত। বাবা যে রাজি হবেনা এটা শমিতেরো জানাছিল গহনে। তবু সে উচ্চারন করেনি কিছু। আসলে শমিত জানে যে তার মা বাবার ব্যাপারে শিলার এক রকমের শীতলতা আছে। একে পরিস্কার ভাবে অবহেলা হয়ত বলা যাবেনা। কিন্তু কোথাওযে বোতলের মুখে আর খাপে জোড় খায়নি তা টের পাওয়া যায়। এই জোড় না খাওয়া নিয়ে শমিত আর ভাবেনা । তবে শিলার উপস্থিতিতে নিজের মা-বাবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায় শমিত। এই এড়িয়ে যাওয়া তার অভ্যাসে পরিণত হয়েগেছে সে’ও প্রায় একযুগ।
শনিবার সকালে উঠে বাজারে গিয়েছিল শমিত। বাজার বলতে ওয়ালমার্ট। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। তাদের অস্থায়ী আস্তানা থেকে তিন চার কিলোমিটার। ওয়ালমার্টের পার্কিং এ গাড়ি রেখে নামতেই শমিত টেরপায় যে সেল্‌ ফোনটা সে বাড়িতেই ফেলে এসেছে। একটু বিমর্ষ বোধকরে শমিত। মোটামোটি প্রতি শনিবার সকালেই বাবাকে ফোন করার চেষ্টা করে সে। বাজারে এসে, গাড়ি পার্ক করে, তারপরই ডায়াল্‌ করে বাবার নাম্বার। বাবার নাম্বার বলতে বাড়ির ল্যান্ড্‌ ফোনের নাম্বার। বাবাকে একটা সেল্‌ ফোন কিনে দেওয়া সত্ত্বেও বাবা তা ব্যবহার করেনা। এটা চম্পার কাছেই থাকে। বাড়ির ল্যান্ড্‌ লাইনে কল্‌ না গেলে শমিত চম্পার ফোনেই কল্‌ করে। তবে কোনো কোনো শনিবারে শিলাও তার সঙ্গে বাজারে আসে। সেসব দিনে ঐ ফোন করার পাটটা আর হয়না। শিলার উপস্থিতিতে বাবাকে ফোন করতেও অস্বস্তি বোধ করে শমিত। কেন যে করে ...
“তুমি বাবাকে এখানে আসতে বলছো – এদিকে তোমার যে বাইরে যাওয়ার কথা চলছে...” শিলা বলেছিল। অর্থাৎ বাইরে গেলে শিলাও যাবে সঙ্গে। নিশ্চিত। হ্যাঁ, বাবা এলে শিলাকে রেখেই যাওয়ার কথা ভেবেছিল শমিত। সে ক্ষেত্রে হয়ত একটানা, লম্বা থাকাটা হতোনা। আর অন্ততঃ বছর দু বছর বিদেশে না কাটালে বোম্বেতে ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনাটা...হ্যাঁ, পিছিয়ে যেতো। তবু ...
“না, মানে বাবা এলে চম্পাত আসবেই সঙ্গে”
“চম্পা আর বাবা পারবে এখানে একা একা থাকতে? তোমার মনেহয়?”
শমিত কিছু বলেনা। বিছানায় আধশোয়া হয়ে টিভির চ্যানেল ঘোড়ায়। শিলা রাত্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ও প্রস্তুতি এখনো উত্তপ্ত করে শমিতকে। শিলা হয়তো জানে। তাই যথেষ্ট সময় নিয়ে ক্রিম ঘষায়, নিলোম পায়ে আবার লালিয়ে দেয় লোমতোলা মেশিন। শমিত দেখে।
 কিনারের কোঠায় সম ঘুমিয়ে পড়েছে। ঐ কোঠাটা ছোটো। তবু আলাদা ত। একে সম এখন যঠেষ্ট বড় হয়েছে তায় এদেশে বাপ’মার সঙ্গে এক বিছানার শোয়ার রীতি নেই। বোম্বেতেও ওর একটা আলাদা কোঠা ছিল।  বাবা মা যখন এসেছিল বোম্বেতে তখন সমের কঠাতেই থাকতো ওরা। মাসখানেক ছিল। শিলার আচরনে কোনো অসহিষ্ণুতা ছিলনা। ওদের বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, ডাক্তার দেখানো – সবই করেছে শিলা বা সঙ্গে থেকেছে শমিতের তথাপি তার ঐ শীতলতা, তাদেরকে ঘিরে, শমিত টেরপায়। টেরপায় বাবাও নিশ্চয়। মা’র বুদ্ধি বা অনুভুতি দুই’ই ঐ শীতলতা টের পাওয়ার মতো তীক্ষ্ণ নয় বলে হঠাৎ না ধাক্কা খেয়েযায় – এই ভয়ে বাবা আগ্‌লে আগ্‌লে রাখত মা’কে।
শীতলতা কি বাবার মধ্যেও ছিলনা? আজ বাবার কোঠায় দাঁড়িয়ে, অন্ধকার আর এই ঝড়ো রাতকে সাক্ষী রেখে নিজেকে এই প্রশ্নটা করবার সাহস পায় শমিত। শীতলতা বাবার দিক থেকেও হয়ত ছিল। হয়ত শিলা তাঁদের মনমতো নয়। কিন্তু শমিতের পছন্দকরা বৌ। ফলে মানিয়ে নিয়েছিল বাবা। মা’কেও শেখাচ্ছিল মানিয়ে নিতে। ক’দিনের আর ব্যাপার? শমিত বোম্বে থাকে আরো আগেথেকেই। বিয়েকরে বৌ নিয়ে চলেযাবে ওখানেই। বছরে দুবছরে দেখাব সাক্ষাৎ হবে কি হবেনা। কাজেই বৌ বাবা-মা’র মনমতো হলো কি’না বা মা-বাবা বৌ’এর মন মতো হলো কি’না ও নিয়ে বেশী ভাববার প্রয়োজন তখন বোধ করেনি শমিত।
                                         “ না রে, এই বয়সে আর অন্য কোথাও গিয়ে পারব না। চম্পা ত আছেই – আর তাছাড়া তোদের বিদেশ যাওয়ার কথা এরমধ্যেই। এখানে আমার সব কিছু ঠিক করা আছে। ফোন করলে অরবিন্দ বাড়ি এসে দেখেযায়। মাছঅলা, শব্জিওলা – সব ঘরে আসে ...আমি এখনো তোর থেকে, তোদের বয়সী ছেলেদের থেকে ঢের বেশী দূর হাঁটতে পারি...আর যদিও আজকাল গাড়িঘোড়া, পলিউশন বাড়ছে এইসব ছোটো জায়গাতেও তবু এইসব জায়গায় এখনো চেষ্টা করলে পাওয়া যায় তাজা বাতাস -”
এমনি আরো নানান অজুহাত দিয়েছিল বাবা। ফোনের স্পীকার ছিল অন্‌। শিলাও ছিল কিনারেই। কল্‌ শেষ হলে শিলা বলেছিল “আমি জানতাম তোমার বাবা রাজি হবেন না”। শমিতও জানতো। তাদের ভিসা হয়েগেছে ততোদিনে। অন্‌ সাইট্‌ ম্যানেজারের সঙ্গে প্রায় রোজ কল্‌ হচ্ছে শমিতের।
মাস তিনের মধ্যেই সপরিবারে সেন্ট্‌ লুইস্‌ এসেপড়েছিল শমিত।
শিলা স্নানঘরে ঢুকতেই শমিত ডাকেঃ “বাবু, বাবু...”  উত্তর আসেনা। নির্ঘাৎ কানে হেড্‌ফোন লাগিয়ে গেইমে ডুবেয়াছে ছেলেটা। “সম – সম - ” গলা আরেক পর্দা চড়ায় শমিত। এবার তার ডাক পৌঁছায় ছেলের কানে। “ হ্যাঁ বাবা ...” নিজের কামরা থেকে লিভিং কাম ডাইনিং রুমে আসে সম। কানের হেড্‌ফোন এখন হাতে।
“বাবু, দাদুকে একটা ফোন কর্‌ তো ...”
“এখন? এখন ক’টা হবে ইন্ডিয়ায়?”
সম পনেরো পেরিয়ে ষোলোয় পা রাখছে। লম্বায় মাঝারি । স্বাস্থ্যেও। শমিত জানে – মেধায়ও। থাকে নিজের মনে। শমিতের মধ্যে মধ্যে মনেহয় এ হয়েছে তার ঠাকুর্দার মতো। চেহারায় নাহলেও স্বভাবে। কিছুটা অন্ততঃ। সে’ও যেন বহুকিছু টেরপায় কিন্তু কিছু বলেনা।
“ক’টা হবে আর ... বড়জোর রাত সাড়ে ন’টা ...”
“দাদু ঘুমিয়েপড়েনি ত?”
সম। বাবার রাখা নাম। শমিতের নামও অন্তিমে বাবারই রাখা। ঠাকুর্দা কাশীচাঁদ ছেলের নাম রেখেছিল কালীপ্রসাদ। নাতির নাম কালীকিংকর। নিজের নাম আর পাল্টাতে পারেনি বাবা। তবে তার নাম শমিত করে দিয়েছিল কাগজে কলমে।
“আরে না। প্রথমে ল্যান্ড্‌ এ কর্‌। না ধরলে চম্পাপিসীর মোবাইল এ...”
ছোটো টেবিলের কিনারের সোফায় বসে টেবিলে রাখা ফোনটা হাতে তুলে নেয় সম। শমিত একটু স্বস্তি পায়। আড়চোখে তাকায় বাথরুমের দিকে। শিলা বারহয়ে দেখলে দেখলে ভেবেনেবে সম ফোন করেছে দাদুকে। না। এটা শিলা ভাববে না। শিলা ঠিক জানবে শমিতই সম’কে দিয়ে ফোন করিয়েছে। জানুক। তনু একটা আব্‌ডাল থেকেযাবে। আগেও এক দুদিন যে এমন হয়নি তা নয়। হয়তো শিলার অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরের ফোন থেকে বাবাকে ফোন করেছে শমিত। শিলা এসেগেছে মাঝপথে। শিলার আগমন টের পাওয়ামাত্র শমিতের স্বর পাল্টেগেছে মুহুর্তে।
“আচ্ছা আচ্ছা – ঠিকাছে – তুমি সমে’র সঙ্গে কথা বলবে তো – সম – এ’ই সম ...”
তারপরে এসে বসেপড়েছে সোফায় বা চেয়ারে। আলগা সুরে বলেছে “ এ-ক কথা বার বার বলে ... বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ...” আড়চোখে দেখার চেষ্টা করেছে শিলার রি-এক্‌শান। - আসলে নিজের অজান্তেই কখন যে শমিত তার বাবার প্রতি শিলার শীতল আচরনের শরিক হয়ে উঠতে মড়িয়া হয়ে উঠেছে তা সে নিজেও জানেনা। তবে টেরপায়। কোনোদিন কোনো কারনে শিলার সামনে বাবার সঙ্গে একটু বেশী কথা বলে ফেল্লে তারপর “ওহ্‌ এই ওল্ড্‌ ফুল্‌ দের নিয়ে ...” – ধরনের বাক্যে, পরে, কিযেন একটা ব্যালান্স করে নিতেচায় শমিত। কি ব্যালান্স্‌ করতে চায়? কি বোঝাতে চায় সে? কাকে বোঝাতে চায় সে? – না, এই প্রশ্ন কখনো দানা বাঁধলেই তাকে তাড়িয়ে দেয় শমিত।
আচ্ছা, সম কি এসব কিছু বুঝতে পারে? টেরপায়? সমের প্রকৃতই কোনো আকর্ষন আছে কি তার ঠাকুর্দার প্রতি? ... এই ভাবনাটাকেও দূরে রেখেই চলে এসেছে শমিত এতাবৎ। তবে কোনোদিন, কোনো কোনো মুহুর্তে... না শিলার উপরে নয়, নিজের উপরেই একটা ...
“ঘুমিয়ে পড়েছিলে? ... যাবো।...একটু পরে ...হ্যাঁ... দুপুরের দিকে গরমই লাগে ...”
ফোন লেগেছে। বাবা উঠিয়েছে ফোন। একটা স্বস্তি টেরপায় শমিত। সমের কথা থেকে বুঝেনিতে চেষ্টাকরে তাদের কথাবার্তার বিষয়।  ঠিক ধরতে পারেনা। তবে কথাবার্তা যে খুব একটা কেন্দ্রীভূত হচ্ছেনা তা সে টেরপায়। অর্থাৎ তাদের দাদুনাতির মধ্যে স্বাভাবিক কারনেই নির্মীত হয়নি কোনো নিজস্ব বন্দর – যা কাশীচাঁদের সঙ্গে ছিল শমিতের ...
স্নান সেড়ে বাইরে আসে শিলা। মুহুর্তে সোফা ছেড়ে জানালার কিনারে এসে দাঁড়ায় শমিত। বাইরের দিকে চোখ  রাখে। কন্ঠস্বর শীতল রেখে বলে “ নেক্সট্‌ উইক্‌ একটা লং ড্রাইভ্‌ প্ল্যান করতেই হবে ... জাস্ট গেটিং বোর্‌ড্‌” । শিলা শোনে কি? বোঝা যায়না । শুনলেও কিছু বলেনা। সোফায় বসে হেয়ার ড্রায়ারটা চালিয়ে দেয়।
“বাবা? হ্যাঁ। বাবা আছে। বাড়িতেই –“
সম বলে “বাবা, দাদু তোমাকে ফোনে ডাকছে ...”
শমিতের দৃষ্টি মুহুর্তে চলেযায় শিলার দিকে। শিলা শীতল। যেনবা এই কোঠার কোথাও নেই সে। সে মগ্ন চুল শুকানোর কাজে। শমিত জানে আসলে সবই শুনছে শিলা। সবই দেখছে। শিলার সামনে বাবার সঙ্গে কথা বলবে শমিত? বাবার ডাকে সাড়াদেবে?
“বাবা –“  সম ডাকে। তার হাতে রিসিভার।
“বল্‌ একটু ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করব...কাল ... “
ঠক্‌। সামান্য একটা শব্দ হয়। কিন্তু রাত্রির স্তব্ধতা আর বাবার কোঠার আবহে এই আওয়াজেই চম্‌কে ওঠে শমিত। তার হাত থেকে পিস্তলটা পড়েগেছে মেঝেতে। আস্তে আস্তে ঝুঁকেপড়ে পিস্তলটা আবার হাতে নেয় শমিত। চম্পা কোনো শব্দ পায়নি। পরে পোস্টমর্টেমে বলেছে রাত বারোটা নাগাদ ঘটেছে ঘটনাটা। বাবার নোটেও সময় লেখা আছে রাত্রি ১১টা বেজে ৪৭ মিনিট। বালিশ চাপা দিয়ে গুলিটা করেছিল বাবা। সময়ের হিসেবে তার ঘন্টা দেড়েক আগেই সমের ফোন এসেছিল বাবার কাছে। বাবা সম’কে বলেছিল শমিতকে দিতে। বাবা কি তখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছিল আর তাই শেষ কিছু কথা বলতে চেয়েছিল শমিতকে? শেষ কোনো কথা? সম যদি ফোন না করতো বাবা কি করিতো ফোন নিজেই? কম হলেও মাঝে মাঝে ফোন করতো বাবা। যদি বলার কিছু থাকতই তাহলে পরেও কি ফোন করতে পারতোনা? না’কি শমিত যে ইচ্ছেকরেই বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়নি তখন তা টের পেয়েছিল বাবা তাই আর ফোন করেনি? না’কি শমিত যে ইচ্ছেকরেই বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়নি তখন তা টেরপেয়েই মুহুর্তে ঐ সিদ্ধান্তে এসেছিল বাবা? সুইসাইড’এর ব্যাপারটা না’কি অনেকসময়ি এভাবে ঘটেযায়। মুহুর্তের কোনো উত্তেজনায়, সামান্যতম ঘটনায় উস্কে উঠতে পারে ঐ প্রবণতা। সুইসাইডেল টেন্ডেন্সি নাকি একটা অসুখ –
পিস্তলটার গায়ে হাত বোলায় শমিত। যদিও ঠাকুর্দাই তাকে প্রথম দেখিয়েছিল পিস্তলটা তবে পরে বাবাও অনেকবার খুলে দেখিয়েছে ঐ পিস্তল। তাকে। তার বন্ধুবান্ধবদেরকে। একদিন ওটা হাতে নিয়ে শমিত বলেছিল “ঢিসুম –“ – “আহ্‌” বলে বুকে হাত দিয়ে মড়ে যাওয়ার অভিনয় করে বিছানায় পড়ে গিয়েছিল বাবা। জিহ্বা বারকরে। খুব ভয় পেয়েছিল শমিত। তারপরেই বাবা উঠেছিল লাফ দিয়ে। - এরপর এই খেলাটা আরো কয়েকদিন বাবার সঙ্গে খেলেছে বালক শমিত। - এই মুহুর্তে ঐ খেলাটিকে একটি সিম্বল বলেই যেন মনেহচ্ছে শমিতের। বাবা কি আগেথেকেই জানত যে শমিতের সঙ্গে বাবার দূরত্ব হয়ে উঠবে এত বিশাল? এতো গভীর? ...
কিভাবে জানবে? শমিত কি জানে না’কি ভাবে কোনোদিন সমের সাথে তার –
চম্‌কে ওঠে শমিত। সহসা খুব ভয় করতে থাকে তার। না, সমের ব্যাপারটা এভাবে কোনোদিন মাথায় আসেনি তার। এই মুহুর্তে এলো। এলো? না’কি ঝাঁপিয়ে পড়লো তার চেতনার আকাশে? ঢেকে ফেল্লো তার চেতনাকে মুহুর্তে? ...
“বাবা, দাদু তোমাকে ফোনে ডাকছে ...”
“বল্‌ একটু ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করব...কাল ... “
ঐ মুহুর্তটা তার সর্বস্ব নিয়ে এই মুহুর্তে এসে দাঁড়ালো শমিতের আবহে। সম তাকিয়ে আছে তার দিকে। অর্থাৎ সম তাকিয়ে আছে তার নিজ পিতার দিকে, সম ডাকছে তার নিজপিতাকে যখন শমিতের নিজ পিতা ডাকছে শমিতকে। শমিত সাড়া দিচ্ছেনা সেই ডাকে। শীতল স্বরে মিথ্যা বলাচ্ছে নিজের সন্তানকে দিয়ে। সব বলছেঃ “বাবা এখন কথা বলতে পারবেনা। পরে তোমাকে ফোন করবে”। সমের চোখ আর শমিতের চোখ রচনা করছে একটি রেখা। সে রেখা ছুঁয়ে কি পরস্পরের কাছে যাওয়া যায় না’কি এই রেখা ম্যাগ্‌নেটের “সেইম্‌ পোল্‌ রিপাল্‌স্‌...” এর অভিকেন্দ্ররেখা? রিসিভার রেখেদিচ্ছে সম। চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শমিতের চোখ থেকে। চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শমিতও তারপরে দরজা খুলে চিলতে ব্যালকনীতে গিয়ে ধরাচ্ছে সিগারেট। দিন চলেযাচ্ছে। শনিবার দিন। শনিবারের মতোই। আলস্যে। রবিবারের পরিকল্পনায়। বাবার ভাবনা মুছেযাচ্ছে তার আড়ালে। তবে বাবা আছে, ভালোই আছে, সমের সঙ্গে কথা বলেছে – এই এক নিশ্চয়তা ভরসা দিচ্ছে শমিতকে। রাতের খাওয়া শেষকরে সম চলেযাচ্ছে তার কোঠায়। বেডরুমের দরজা বন্ধ করেদিয়ে রাত্রির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে শিলা। বিগতযৌবনা হলেও তার শরীরের আনাচেকানাচে এখনো পাখির নীড়, সাপের গর্ত, খড়ের আগুন ...। ঘুমিয়ে পড়ছে শমিত। ঘুমিয়ে পড়ছে শিলা। এই গোলার্ধের রাত যাচ্ছে পরের সকালের দিকে। ঐ গোলার্ধের সকাল গড়িয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যায়। হঠাৎই এই গোলার্ধের ভোরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে ঐ গোলার্ধের টেলিফোন।
“হোয়াট্‌? ইট্‌ ইস্‌ এ সুইসাইড্‌?????” – চীৎকার করে উঠেছে শমিত। ঐ প্রান্তে বিপ্লব। শান্ত। কেননা পুলিশে চাকরি করার দরুন এমন অনেক সুইসাইড সে দেখেছে। শমিতের আর্তনাদে বেডরুমের দরজা দিয়ে বার হয়ে আসছে শিলা। তার নিজের কোঠার দরজা খুলে বারহয়ে আসছে সম। আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরের আর তখুনি চোখাচোখি হচ্ছে সমের সঙ্গে শমিতের ...
সেই মুহুর্তে ঐ বিনিময়, দৃষ্টির, শমিতের মর্মে কোনো খাল কাটেনি তেমন। কাটেনি তার হেতু হয়তো তখন তার আবহে সেন্ট্‌ লুইস্‌ নামের শহর, লঙ্‌ ড্রাইভ, মিসৌরি, ইলিনয়েস্‌, পারডিয়াম, ম্যাক্‌ডোনাল্ড্‌, পার্‌ডিয়াম – ইত্যাদিনির্মীত চালচিত্র আর এখন যে দাগ কাটছে তার হেতুও হয়তো এই আবহ – এই আধা মফস্বল, এই কারেন্ট্‌বিহীন সন্ধ্যা, রাত্রি, এই বৃষ্টিবাদল, এই বাড়ি, ঐ ঘোড়া নিমগাছ, এই পিস্তল ...
“সম, সম – সম কোথায়? সমকে দাও – ফোনটা অন্ততঃ দাও সম’কে তোমরা ...”
“দিলাম তো। ডাকলাম তো...”
“তাহলে? তাহলে কেন এসে ফোনটা ধরছেনা সম? কেন শুনতে পাচ্ছিনা তার স্বর?”
“ না, সে বলেছে সে ফোন ধরবেনা। সে এখন ব্যস্ত আছে। পরে ফোন করবে তোমাকে ...”
“না। ওকে দাও। ওকে ডাকো। কারন এর আর পর বলে কিছু নেই – এরপরে শেষ। সবশেষ। পায়েপড়ি তোমাদের সম’কে ফোনে ডেকেদাও তোমরা...”
“ বাবা, আমি সম। বাবা, আমি এখন ব্যস্ত আছি। এখন তোমার সঙ্গে কথাবলা যাবেনা” –
ফোন কেটে দিচ্ছে সম। সমকে ঘিরে ওরা কারা? সমের বৌ? বাচ্চা? মানে শমিতের ছেলের বৌ, নাতি? তা’ই হবে। তাই তো হওয়ার কথা। তবে ওরা দিচ্ছেনা কেন সম’কে? সম’ইবা কেন কথা বলছেনা তার সঙ্গে? ...
তাহলে? তাহলে আর কোনো রাস্তানেই। সমকে বলার যা ছিল তা আর বলা হবেনা কোনোদিন। বলা যাবেনা কোনোদিন। সম জেনেছে এটাই নিয়ম। বাবা ফোন করলে বলতে হয় “বলেদে ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করব”। হ্যাঁ, সম এই নিয়ম মেনেই বলেছে যা বলার। আর শমিত? সে কি শিখেছে? সে শিখেছে ছেলেকে শেষকথা বলতে না পারার, শেষবার ছেলের গলা শুনতে না পাওয়ার পরে পিতাকে –
না না, সে সুইসাইড করবেনা। সুইসাইড রতো একটা অসুখ। তাহলে কি করবে সে? কি করবে তারা? কি করবে শমিত? কি করবে শমিত-শিলা? তাদের অন্ধকারের কিনারে তো থাকবেনা কোনো চম্পাও। তাহলে? তাহলে কি এই পিস্তলটা নিয়েই যাবে সে? সঙ্গে রাখবে? না’কি –
না। সহসা একটা সহজতর সমাধান পেয়েযায় শমিত। পেয়েগিয়ে খুশি হয়েওঠে। সে বুঝতে পারে আসলে ঐ পিস্তলটাই যতো নষ্টের গোড়া। ওটা বাবার কাছে না থাকলে –
দোতলার বারান্দার থেকে পিস্তলটা ছুঁড়ে পেছনের ছোটো, পানাভর্তি পুকুরটাতে ফেলেদেয় শমিত।
ঝপাং করে আওয়াজ হয় একটা।
তারপর আবার চরাচর স্তব্ধ হয়েওঠে।
২৪ অগাস্ট ২০১৪, বেঙ্গালোর