Saturday, September 24, 2016

কবি ও ঈশ্বরী




কবি ও ঈশ্বরী

কতগুলি জন্মমৃত্যু এবং শোণিতনদী বিমিময় করে
একটি কবিতা হয় রচিত, গহনে,
সে গণিত জানেনা ঈশ্বরী।
কেবল অক্ষরগুলি পুষ্প হয়ে ফুটে উঠলে
কবির মর্মে লীন আদিম উদ্যানে
সে জানে চয়ন করে
মৃদু হেসে খোঁপায় জড়াতে।

কবিতাপরাগে মগ্ন
কবি তার নিজেরি অতলে
ডুবে যায়। ঢালে মদ
নিজহাতে, নিজ করোটিতে।
অতঃপর আপনার মানবিক অস্থি পুড়িয়ে
ঈশ্বরীর গজদন্ত দুর্গে, মিনারে
কবি জ্বালে নলিনীর দলগত আলো –
যদিও শোণিতে তার রাত্রিপাখি গায়ঃ
“কবির ঈশ্বরী থেকে
কুবেরের বেশ্যা হওয়া ভালো...”

Sunday, September 18, 2016

আরণ্যক প্রবাদ আর প্রবচন গুলি




আরণ্যক প্রবাদ আর প্রবচন গুলি

কোথাও অরণ্যে আজো জেগে আছে
আরণ্যক প্রবাদ আর প্রবচন গুলি –
খুলিগুহা, বৃদ্ধ “মজ্‌”, ‘তুফান’, ‘ডেভিল’, ‘রেক্স’, ‘তামাগা’,’গুরান’ –
মশালের মতো জ্বেলে  সেসব প্রবাদগুলি, দেখো,
রাত্রির অশ্বারোহী আজো - অন্ধকারে একা ধাবমান।।

১।
ঈর্ষাগুলি কুশাঙ্কুরহেন ছড়িয়ে রয়েছে পথে পথে
সেইগুলি পার হয়ে এসে
অংশ নাও প্রকৃত দ্বৈরথে।

২।
একটি রূপালী চুলে আয়ু তার চারা রুয়ে গেলে
জেনো এই দাহ্য কিশলয়
মৃত্যু চুপে ফুটিয়েছে
তোমার নিদাঘদীর্ণ জীবনের ডালে।

৩।
তোমার প্রথম শ্বাস
মৃত্যুর প্রথম আশ্বাস
জন্মমাত্র মাতার শিয়রে।
তোমার শোকের অশ্রু
ফলতঃ জমিয়ে রেখো
সাবধানে
প্রতি নবজাতকের তরে।

অশ্রুর অপচয়, প্রিয়,
ঘটিয়োনা শ্মশানে বা কফিনে, কবরে।
ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন
মুষ্টিমেয় নিয়তিতে, তবে
মৃত্যু তোরণ হয়ে
জেগে থাকে
প্রতি দুর্গে, ঘরে।

৪।
নিয়তির আট বাহু। ষোলো চোখ। দ্বাদশ চরণ।
দুই হাত, দুটি পা ও দুই চক্ষু নিয়ে
তুমি ভাবো তার ছায়া যাবে পার হয়ে?
হায় মন! হা সরল মন!!