প্রবেশিকা

ক্ষুদ্রতম কথাটিও, প্রিয়,
বৃহতের কাছে পৌঁছে দিও ...
নতুবা কেমন তুমি কবি?
মাঝে মাঝে শুধু চিঠি দিয়ো...
কতো পথ পেরোলে অথবা
কত পথ বাকি আছে আজো –
- এইটুকু খবর জানিও...
আমি সেই চিঠিতেই খুশি...
আমার কথাটি তুমি, প্রিয়,
বিরাটের পায়ে রেখে যেয়ো।
**************************************************** **

Friday, August 1, 2014

আমার মোম জ্বলে...

আমার মোম  জ্বলে...




My candle burns at both ends;
   It will not last the night;
But ah, my foes, and oh, my friends—
   It gives a lovely light!
 First Fig, EDNA ST. VINCENT MILLAY

আমার মোম  জ্বলে নিবিড়, উজ্জ্বল      
    দুইটি শিখা তার দুইটি প্রান্তে
যদিও নিঃশেষ রাত না পোহাতেই
     তবুও এ আলোক , যদি হে জানতে...



Tuesday, July 29, 2014

নিহিত শিলালিপি ও অন্যান্য অনুধ্যান

নিহিত শিলালিপি ও অন্যান্য অনুধ্যান




নিহিত শিলালিপি
প্রতিমাসই মলমাস।
প্রতিমাসই পবিত্র রমজান।
অন্তর্গত রক্তপাতে প্রতিজন জনতা শহীদ।
প্রতি পক্ষে বাঁকাচাঁদ
লিখেযায় কোজাগরী, ঈদ।

এ কাহিনী যে জেনেছে
সে’ই নবী, ফরিস্তা, বিদুর –
যে জানেনি সে কাফের,
তর্ক ও বিশ্বাসে তার মর্মমূল থেকে
স্বাতী নাম্নী নক্ষত্রটি
কোটিবর্ষ দূর।।

বাস্তুহীন নুড়ির মতন
প্রতিজ্ঞারক্ষার মূল্যে
দুর্গদুয়ারে যারা আত্মহত্যা করে
ইতিহাসে তারা সুবিদিত।
তোমার কৃতিত্ব তবু
একটি প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে মুহুর্মুহু চলে যাওয়া
অন্যতর প্রতিজ্ঞার দিকে।

তাই তুমি ইতিহাসহীন।
ঝর্নাজলে ভেসেযাওয়া বাস্তুহীন নুড়ির মতন
তোমার শরীরে কোনো শ্যাওলারেখা নেই।
যা আছে তা ক্ষতরেখা-
অসহায় ঈশ্বরের মতো
স্মৃতিরেখা –
জন্মাবধি ভগ্ন প্রতিজ্ঞার।।


আমাদের প্রেম, প্রিয় ...
আমাদের প্রেম, প্রিয়, বোতলে ভাসিয়ে দেওয়া
নাবিকের পত্রটির মতো
এখনো সমুদ্রগর্ভে নিরাপদ, চিরঅপঠিত।

আমাদের প্রেম, প্রিয়, এখনো দুর্জ্ঞেয় ঐ
নগর, বন্দর জুড়ে ভ্রাম্যমান ফরেদের কাছে।

তোমার নিকটে আসা
তাই আজো এতো ষ্পষ্ট, সহজ-সম্ভব...

তুলোনা বোতল, প্রিয়, নীল ঐ জলরাশি থেকে
খুলোনা পত্রটি এই সূর্য, নক্ষত্র, চাঁদ, তারার সমুখে।
আমাদের প্রেম, প্রিয়, ভেসেযাক অরচিত কাহিনীর মতো
পরিধি পেরিয়ে দূর গ্রহান্তরে – কোনো চক্রবালে –
আমাদের প্রেম, প্রিয়, বৃষ্টি হয়ে ঝরেযাক্‌
কুমড়োলতা দিয়ে ঢাকা
অবলীল গৃহস্থের চালে ...




দেখাহলে ...
দেখাহলে কথাহবে।
জেনে নেওয়া যাবে সব
উচাটন-মারণের বিধি।
সেই ভয়ে সাক্ষাতের দিন
ঠেলেদিই, দূরে, প্রতিদিন
নিয়ত বিরত থাকি
রহস্যের শব ব্যবচ্ছেদে।

তুমিবা কতোটা জানো?
উচাটন ও মারণ ব্যতীত
জানো কি অপর বিদ্যা?
অপরূপ সঙ্গমের রীতি?

দেখাহলে জানাযাবে না’কি
আমি এসে হাত পেতে দেবো বলে তুমি
যক্ষহেন আগ্‌লে আছো
জন্মভয়, গর্ভগৃহভীতি?

টবে গজানো গাছ
টবে গজানো গাছ
শিকড় ছড়াতে গিয়ে দেখে
সীমিত পরিধি
বন্দীকরে রেখেছে কেন্দ্রকে।
মাটি বিমাতার মতো
কোল মেলে আছে তবু
পরিধির বাধা
পেরোতে পারেনি বলে
শিকড়ের টান্‌
চেনেনি কখনো...

শ্মশানের পার্শ্বে ঐ
অযত্নে গজিয়ে ওঠা মহীরূহ জানে
মাটির গোপন কথা-
অন্ধকারে প্রানের বিস্তার –

টবের গাছের দিকে চেয়ে
নিহিত অশ্রুর মতো
পাতাঝরে তার।


সমূহ বন্দর থেকে আরো আরো দূর...
সমূহ বন্দর থেকে আরো আরো দূরে নিয়েচলো।
নিয়েচলো গতজন্মে, শান্ত খেয়াঘাটে।
যেখানে জাহাজ নয়, ময়ূরপংখীও নয়
মাঝে মাঝে ছোটো খেয়াগুলি
দূরের নিকট থেকে
কুটুম ও নাইয়রি নিয়ে আসে...

যেখানে কলার তলে বিয়া হয় আর
নন্দি-ভিরিঙ্গিসহ পার্বতীর বর
ঝামুরঝুমুর শব্দে আমতলা আলো করে –
নেচেগেয়ে মুকুটবিহীন –


ব্যাপারীসঙ্কুল এই বন্দরের মানচিত্র ছিঁড়ে
চলো ফিরি সেই গ্রহান্তরে
বিলোচন আজো যেথা
পার্বতীর কাছে শোধে এ জন্মের ঋন।