প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label প্রায় অনুবাদ কবিতা. Show all posts
Showing posts with label প্রায় অনুবাদ কবিতা. Show all posts

Sunday, December 7, 2025

কে যায়

 কে যায়

"Who goes amid the merry green wood

    To make it merrier?" -- Chamber Music,VII, James Joyce

"তাই শুনে আজি বিজন প্রবাসে হৃদয়মাঝে

  শরৎশিশিরে ভিজে ভৈরবী নীরবে বাজে।" -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



কে যায়? 

বেণু না বাজিয়ে তবু বাঁশি-সুর তুলে 

জনহীন নদীপথটিতে

বসন্ত-বন্যার স্রোতে

কে যায় 

ভাসিয়ে নিয়ে

বইপুঁথি, গিরস্থি-সীমানা?

চলা-সুরে ঝরাপাতা পায়

উল্লাসের উদযাপন-ডানা?

কে ধায়? 

রশ্মি-মশারি ছিঁড়েফেঁড়ে

মেঘবরণ কোন কন্যা 

যায়? শরৎশিশিরে ভিজে 

ভৈরবী নীরব বাজায়।

কে যায়? 

আঁচল উড়িয়ে দিয়ে সাহস-শাড়ির

কে জাগায় এ প্রবাসে

বাসা-ঘর সুর? কে নাচায় কে’বা নাচে 

গাছ ডাল শিরায় পাতাতে?

‘প্রেম’ শব্দ পাখি হয়ে ধায়

বসন্তসেনার ইশারায়?












পিয়ানোতে, গোধূলির নীলে

 পিয়ানোতে, গোধূলির নীলে

"The twilight turns from amethyst

    To deep and deeper blue", Chamber Music, II,James Joyce







রক্তমুখী নীলা থেকে নীল –

আরো নীল গাঢ় নীল

 শাড়ি গা’য়ে লজ্জাবতী বিকালের মেয়ে

দেখি যায় আরো নীলে একলা হারিয়ে।

লাজুক সবুজ আভা লাগে

জানলা থেকে, পথ-বাতি থেকে

পথের কিনারে গাছে, ডালে।

প্রবীণা পিয়ানো-বুক থেকে

মেলে ডানা শান্ত, ধীর, চপল পাখিরা।

মেঘবরণ কেশ নবীনাটি

নুয়ে পড়ে পিয়ানোর টানে। পাখি-ডানা অঙ্গুলী গুলি

চিন্তা বি-চিন্তা পাখা মেলে

পিয়ানোতে, গোধূলির নীলে।


"ওই জানালার কাছে"

 "ওই  জানালার কাছে"

"..     Goldenhair,I hear you singing" -- Chamber Music, V, James Joyce

" তার  কোলে ফুল পড়ে রয়েছে,   সে যে    ভুলে গেছে মালা গাঁথা ।।" -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    


জানালা-পাশে মেঘ বরনী মেয়ে

গুনগুনিয়ে যে গান করো তুমি

আমি শুনি, আমি অবাক হয়ে শুনি

বাতাস ক্রমে হাওয়ার সুরধুনী।

বন্ধ করি খাতা আমার, বন্ধ করি বই।

আগুনের কি গুন আমায় বাঁধে –

আমি অন্ধ চেয়ে রই।

আমি নেভাই ঘরের বাতি

আমি পথেই ঘর বাঁধি।

আলোয় কি কাজ বলো?

তোমার গানের অন্ধকারই ভালো।

সুরের আলো ভুবন ফেলে ছেয়ে –

মেঘ বরনী মেয়ে।


রাত্রি-বাসর বাতি নেভার পরে

 রাত্রি-বাসর বাতি নেভার পরে

"His song is softer than the dew

    And he is come to visit you.", Chamber Music, IV, James Joyce




লাজুকলতা তারা যখন প্রথম প্রদীপ হাতে রাত-নদীকে ডাকতে আসে স্বর্গ-বাড়ির ছাতে ইমন, বেহাগ, বাগেশ্রী রাগ বাজে তখন কাছে দূরে। সেসব সুরের খোলা মেলার ভিড়ে সে চুপ করে তোমার সুরও শোনে – একতারাতে একলা মাঠে, দূরে যে তুমি গাও কেবল তারই তরে। না ডাকলে সে যাবে না তুমি – যাবেনা অন্দরে। রাত্রি-বাসর বাতি নেভার পরে লাজুকলতা তারার মতো তোমার ফেরা ঘরে। ভোরের ঘোরে ভৈরবী-ভিড় যোগিয়া, ললিত ছেড়ে একটু দূরে একতারাতে একলা মাঠের সুরে যে করে গান শুধুই তোমার তরে সে এসেছে তোমার কাছেই – যাবেনা অন্দরে না যদি ডাকো, তবে। শিশির থেকেও মরমী মেঠো সুরে কে করে গান? বাজায় বাঁশি দূরে? আবেশ ঘোর, শরম ডোর ছিঁঁড়ে যাও ছুটে যাও, নাও ডেকে নাও আরেকজন্মে হারিয়ে পাওয়া চেনা অতিথটিকে।



Saturday, November 1, 2025

কুভেম্বুর ছায়া ।। ১।।

কুভেম্বুর ছায়া ।। ১।।





এইসবে কিবা আসে যায় বর্ষার? কে এখনো বেঁচে আছে, কে মরেছে, কারা মরবে, জন্মাবে কারা আর কারা জন্মাবে না – এইসবে কিবা আসে যায়? বর্ষার? সে এখানে এসেছে, এসে চার হাত-পায়ের থাবাতে আস্তানা গেড়েছে যাতে এক ঋতু থাকতে পারে সদলে, এখানে। 

সে এসেছে থাকতে এখানে আকাশে মেঘের তাঁবু, মেঘের খিলান স্তম্ভে সূর্যকে যতোদূরে পারে ঠেলে দিয়ে, আপাত রাত্রির রঙে আকাশকে ঢেকে এক ঋতু বসবাস তার। তাই তার কিবা আসে যায় এই সবে – কে এখনো বেঁচে আছে, কে মরেছে, কারা মরবে, জন্মাবে কারা আর কারা জন্মাবে না …

কালপুরুষ, কাল কারো তোয়াক্কা করেনা। বয়ে যায়, উড়ে যায়, পায়ে হেঁটে পার হয়ে যায় আমূল উদাস। সহ্যাদ্রি পর্বতমালা,অরণ্য ও আরণ্যকে একই ছায়া, একই ছবি, একই উদাস। পাদদেশে যারা বাস করে, তাদের ছোট্ট সুখ, ছোট ছোট শোক দুঃখ থেকে নির্লজ্জ দৃষ্টি ফিরিয়ে তারা মগ্ন থাকে শঙ্কাকূল নিঃশব্দে অটল। তাই তার কাছে, তাই তারা সকলের, প্রত্যেকের কাছে কোনুর, হুভাল্লি কিংবা বেত্তাল্লি,সিম্বাভির মতো বসত, বসতি, তাদের সামন্ত, প্রজা, চাষীবৌ, চাষা – অবান্তর, অনর্থকই হবে, কি আছে চমকেওঠার তাতে?

বালক ধর্মুর শোক মা-বাপ দুজনকেই একত্র খুইয়ে – জোয়ান যুবক ছেলে মুকুন্দাইয়া, যার প্রেমাস্পদা আজ বৃদ্ধ সামন্তের বৌ, তার তুমুল হতাশা – পুলিশের পাতা-ফাঁদ দুঃসাহসে ছিঁড়ে পালানো তরুণ গুত্তি’র সাধ – খোয়া যাওয়া প্রেমিকার সাথে দূরের মানচিত্রে গিয়ে ফিরে ঘর বাঁধবার – নিশ্চিহ্ন হওয়ার যাতনা – পত্নী আক্কানি’র ক্রমে, অসুস্থ পতীর থেকে পয়সাওলা চিঙ্ক্রা’র দিকে স্পষ্ট ঝুঁকে যাওয়া আর সেইহেতু পিজিনার ক্রোধ ও বেদনা – দেবায়ার হাস্যকর দ্বিধা, চেষ্টা পালানোর খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি থেকে — এইসব ছোটো ছোটো কথা কিভাবে, কেন’ই নজরে পড়বে সহ্যাদ্রি পর্বতমালা, পাহাড় অরণ্য আর  অতিথি বর্ষার? 

পাহাড়! পাহাড়! দেখো, রোমশ দৈত্য যেন, অহং এ উদ্ধ্বত – প্রত্যহ ছিঁড়ে দিতে, ছিঁড়ে দিয়ে আকাশ, নীলিমা, মেধ – রোদ মাখে, বৃষ্টি মাখে, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা সূচীভেদ্য রাত কুয়াশার – গায়ে মাখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এদেরকে দেখে কারো মনে আসতেই পারে বাঘের ভয়ঙ্কর কিংবা শূকরের শীতল নিষ্ঠুর! বর্ষা! বৃষ্টি! দেখো ঝমঝম, ঝুমঝুম! নির্মম হানা দিচ্ছে হাটে মাঠে দালানে কুটীরে, হানা দিচ্ছে জীবনে, যাপনে!

“ওল্ড হাউস” পরিবারে সম্প্রতি যা ঘটেছে – ঘটনা, দুর্ঘটনা কিংবা অঘটন – অদ্য সেইসকলই তল্লাটে সর্বক্ষণ চর্চার বিষয়। ডোড্ডান্না হেগডের মৃত্যু, স্বেচ্ছামৃত্যু পত্নী রাঙ্গাম্মার – এইসবই দিবারাত্রি ফিসফাসে অথবা সরবে আলোচিত হয়। কখনোবা কাঁদতে কাঁদতে, হাসতে হাসতে পরক্ষণে আলোচনা হয়। আলোচনা হয় ক্ষেতে, আলবাঁধা, নালা কাটা আর বীজ রোয়ার ফুরসতে। তাম্বাকুপাতা মুখে দিতে দিতে, মুখে দিয়ে ফিসফাস ও কলরব হয়। চচ্চা হয় সুপারি বা পান-সুপারী চিবানোর ফাঁকে। মেঘের মলাট ঢাকা ভোরে, মাঠ-কাজে যেতে যেতে, পথে এ সকল অঘটন, ঘটনা বা দুর্ঘটনা নিয়ে বার্তালাপ হয়। কাজ সেড়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা পথেও আবার একই আলোচনা। এই আলোচনা তারা অক্ষম থামাতে যেনবা। যেনবা এসব কথা তাদের আফিং, তাদের চিরন্তন শান্তিদায়ী জল, যে জলে মিশেছে ভীতি, করুনা, মমতা, প্রেম প্রীতি। তথাপি পাহাড়ে, পথে, খাড়া-নামা খাদে জন্ম হয় নতুন ঘাসের। পোড়ামাড়ি সে’ও ঢাকা পড়ে কালের স্বহাতে রোয়া ঘাসের প্রলেপে। শ্মশান, কবর ক্রমে ভুলে যেতে আগে পূর্বতন দাহ ও গোরের ছবি। যাপনের হাতে এভাবেই ক্রমে দোদ্দান্না হেগড়ে আর রাঙ্গাম্মা হেগডতির আজীব কাহিনী স্মৃতিকথা হয়ে মিশে যায় উপকথা, রূপকথা ভিড়ে।


[ সূত্রঃ Kuvempu. Bride in the Hills, অধ্যায় ৪৫ ]

 

Wednesday, September 3, 2025

রিলকের প্রহর বহি'র ছায়ায়

 

রিলকের প্রহর বহি'র ছায়ায়



“ Nothing was complete before I saw it”



আমাকে স্পর্শ করে এখন প্রহর গুলি নুয়ে

পেলক-ধাতব আঙ্গুলে। সেতার-তারের মতো বাজে  

আমি আর আমার রক্তের শ্বেত ও লোহিত 

সব কণা। অবয়ব নেয় ক্রমে ক্রমে

সক্ষমতা, আমি

দিনটিকে স্পর্শ করি 

মৃত্যুশীল জীবিত আঙ্গুলে।

#

আমার দেখার আগে এখানে যা ছিল সব

টুকরো ছিল, টুকরো টুকরো, খন্ড খন্ড 

ছিল। এখন খুলেছি চোখ, দৃষ্টিতে

যা'ই ধরে তা'ই অক্ষীপটে স্বয়মাগতার মতো

আসে, যেন

বধূবেশে।

#

যে আসে অক্ষীপটে তাকেই দৃষ্টি আঁকে

বিরাট ক্যানভাসে, রাখে 

স্বর্ণ-বর্ন আবহে টাঙ্গিয়ে। জানিনা 

কখনো জানবোনা 

অক্ষীপটে লেখা হলো 

কার খোলা ডানা।

–---


“I don’t know: am I a falcon, a storm,

or a sovereign song?”


ঢেউ এর বৃত্তের মতো আমার পরিধি, ব্যাস

একটু একটু করে বড় হ'তে হ'তে 

বয়ে যায়, বয়ে যেতে যেতে

ছুঁয়ে দেয়, ছুঁয়ে দিতে চায়

যা’ই পাবে, পায়

চলার রাস্তায়। হয়তো অসম্ভব তবু ইচ্ছা যায় 

স্পর্শ করি

যা'ই ঘিরে রয়েছে আমায় —

কবর, শ্মশান, দুর্গ, মীনার, টাওয়ার

ছুঁয়ে দেবো বলে আমি ঘুরে যাই ভিড় শহর, শূন্য

নগরী। ভাবি

আমি কি গাংচিল, বাজ, সাইরেন, ঝড় না'কি

কোনো অন্ধ

ভিখারির গান?

–---

“You, neighbour God”... 


পড়শী ঈশ্বর, যদি নির্জন করিডর হেন 

দীর্ঘ কোনো রাতে ত্রস্ত-অস্থির হাতে আমি 

কড়া নাড়ি আপনার বন্ধ দরজার

তবে তার হেতু আমি দীর্ঘ দিন, সপ্তাহ, মাস

আপনার শ্বাসধ্বনি শুনিনি, শুনিনা। তবে 

লোক মুখে জানি নির্জন করিডর হেন 

দীর্ঘ কোঠাতে আপনি একাই থাকেন বহুযুগ। 

পড়শী ঈশ্বর, যদি নির্জন করিডর হেন 

দীর্ঘ কোনো রাত্রে হঠাৎই  

জলতৃষ্ণা পায় আপনার, তাহলে সামান্য কিছু 

ইঙ্গিত দিলেই আমি জল-গেলাস নিয়ে

আসতে প্রস্তুত। তাই, ফিল ফ্রি, ঈশ্বর। 

আপনার আমার মাঝামাঝি 

বালির বাঁধের মতো বালির দেওয়াল ছাড়া 

অন্য কিছুই নেই আমার কবল থেকে

যা আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

–----






Saturday, August 16, 2025

অল্পদূর সঙ্গে হেঁটে যাওয়া

 অল্পদূর সঙ্গে হেঁটে যাওয়া

[ আরবি কবি নিজার কাব্বানি’র ছায়ায় ]



১।

সে চায় 

নতুন ভাষা, ব্যাকরণ। নতুন অক্ষর

যা তার বন্ধুর মাপমতো, যা তার প্রীতিতে 

খাপ খাবে, মিলে যাবে 

তাদের প্রেমের 

মাপে মাপে।

#

সব

শব্দকোষ, সব

অভিধান থেকে ছুটি নিয়ে

সে চায় এমন ওষ্ঠ, এমন অধর

যা পারে দেশলাই কাঠি, যা পারে

ফুলের গাছ হ'তে। সে চায়

অধর ওষ্ঠ 

ঝরাবে, উড়াবে শব্দ 

সমুদ্র যেভাবে

জলপরী 

ভাসায় অথবা জাদুকর

তার টুপি থেকে

যেভাবে খরগোস।

২।

সবগুলি জমানো অক্ষর

শ্লেটপাথর

খাতা-বই, ব্ল্যাকবোর্ড, চকখড়ি সহ

স্বত্ব ছেড়ে 

এক কথায় দিয়ে দিতে রাজি

যদি কেউ দিতে পারো তাকে

একটি অক্ষর, যে অক্ষর জানে

বন্ধুর সৌন্দর্যে এক

নাকছাবি হতে।

#

সে চায় পাঁচটি মাত্র

নতুন আঙ্গুল। উঁচায় লম্বায় যারা  

মাস্তুলের মতো। নতুন আঙ্গুলে

কবিতা-গয়না গড়ে দিতে চায়

সে তার

বন্ধুকে।


Monday, January 15, 2024

আবার ব্রেখট, আবার সেই “তিন পয়সার পালা”

 আবার ব্রেখট, আবার সেই “তিন পয়সার পালা”


১।

পলি। 

মহোদয়গন, অভদ্র বা ভদ্র, যা'ই হন, যাঁরা

এই “তিন পয়সার পালা” 

পয়সা দিয়ে দেখতে এসেছেন এবং যাঁরা 

মঞ্চে রয়েছেন, সক্কলে দেখছেন —-

আজকে আমার বিয়ের প্রথম, প্রথম বিয়ের

রাত। দেখাই যাচ্ছে প্রাসাদ কিংবা

হোটেল-মোটেল নয়, শহর থেকেও দূরে —-

হা: হা, আস্তাবলে! ডাকাত-চোরের 

রাজার আস্তানাতে। এমন কেন? কারন, জানোইতো,

আমার বীর, প্রেমিক প্রবর স্বামী

ডাকাত-চোরের নিজেই সর্দার, মাথা এবং ঘাড়

কয়টা আছে কার —- না শোনে কথা

আমার কাপ্তেনের? কিন্তু তবু একজনেও তারা

গাইবে না গান, আমার বিয়ের প্রথম, আমার প্রথম বিয়ের

বাসর রাতেও । বলুন তো আপনারা

গান ছাড়া কি চলে —- বিয়ে? বাসর জাগা? নিজেই আমি তাই

গান শোনাবো, তবে 

মহোদয়রা, অভদ্র বা ভদ্র, যা'ই হন, “তিন পয়সার পালা” 

পয়সা দিয়ে দেখতে এসেছেন এবং যাঁরা 

মঞ্চে রয়েছেন, তাদেরকেও ঢুকতে হবে গানে। না না, গাইতে হবেনা। তবে

কথা বলতে হবে। গানের আশেপাশে

গড়তে হবে সরাই, যে সরাই এ জেনী

থাকতো এবং গাইতো এই গান। আমার নাম যে পলি

জানেন সকলেই। পলি

গাইবে জেনীর গান। সরাইখানার লোক হয়ে আপনারা

বলুন দেখি: “ জেনী, তোমার জাহাজ এ বন্দরে

ভিড়ছে কবে? ভিড়ছে তো ঠিক?” —- বেশ, দারুন বলেছেন। অন্য আরেকজন

বলুন: “ আরো কতো বাসন মাজা, কাপড় কাচা বাকি?

মিষ্টি জেনী, জলদস্যুর রানী?” —- দারুন না হলেও

মন্দ বলেননি তো। জেনীর গানে

এবার আমার পালা। আমার

তিন পয়সার পালা।


জেনীর গান।

দেখছো যা, মোটামোটি সত্য।

বাঁদী আমি খালাসীর সরাই'এ।

বাসন মাজার সাথে কাপড়ও

ধুতে হয়। বিছানার চাদরও

তোষক, বালিশ দিই বদলে।

বকশিসে কানাকড়ি দিলেও

হেসে “থেংক-ইউ” বলি তোমাদের।

যদিও তোমরা কেউ-ই জানোনা

বাঁদীর মুখোশ-পরা আমি কে।

টুটাফুটা শাড়ি, সায়া, ব্লাউজে

যদিও রয়েছি আমি আজকে,

তবে দেখে নিয়ো ঠিক, একদিন

রাত্রে জাহাজঘাটে, হল্লায়

তোমরা সবাই যাবে চমকে।

ভাববে হাসছে কেন মুচকি

সরাই'এর বাঁদী এই জেনীটা?

আট-পাল তুলে ঠিক সে জাহাজ

আসবে এ বন্দরে, আসবেই।


আট-পাল তোলা ওই জাহাজে

বন্দুকবাজ জনা পঞ্চাশ

দখল করবে এই দ্বীপটি।

আর আমি নোংরা এ সরাই'এর

যে জানালা সব চেয়ে উঁচু, তার

পাল্লায় হাটখোলা দাঁড়ালে

তোমরা ভাববে, কেন হাসছে

মুচকি মুচকি এই জেনীটা?


পলকে দেওয়াল গুলি, শহরের

গুঁড়ো হয়ে মিশে যাবে ধূলিতে —-

তবু এ সরাই ঠিকই থাকবে।

তোমরা ভাববে, কেন এখনো

এ সরাই ভাঙছে না এরা কেউ?

কার বাসা নোঙরা এ সরাই এ?

বন্দুকবাজ জনা পঞ্চাশ

গান গেয়ে রানী-অভিবাদনের

দেখবে এ গলী ধরে আসছে।


পরদিন ভোরবেলা, রাস্তায়

আমাকে রানীর সাজে সাজিয়ে

কাঁধে তুলে ওরা পথে নামলে

তোমরা দুচোখ তুলে কপালে

বলবেই: আরে, এটা কি হলো?

এ রানী সত্যি সেই জেনী কি?

আট-পাল তুলে ঠিক সে জাহাজ

আসবে, এ দ্বীপে ঠিক আসবেই।


একশো জোয়ান যুবা-খালাসী

তোলপাড় তুলবে এ শহরে।

সবাই কে বেঁধে নিয়ে শিকলে

আমার সামনে খাড়া করবে।

আমার পায়ের কাছে, মাটিতে,

টুপী খুলে জোয়ানরা বলবে:

“হুকুম করুন, কার খুলিতে

ফুটো করে দিতে হবে, বুলেটে”।

প্রবল দুপুরে পোড়া শহরে

সামান্য হেসে আমি বলবো:

“ ফুটো হোক সবগুলি খুলি-ই”।

প্রথম লাশটি গেলে গড়িয়ে

চুল খুলে দিয়ে আমি খিল খিল

বালিকার মতো হেসে উঠবো।


তারপর আট-পাল জাহাজের

বন্দুকধারীদের সর্দার

আমাকে কিনারে নিয়ে ভাসাবে

বিজয়ী জাহাজ নীল সাগরে।



আট-পাল তুলে ঠিক সে জাহাজ

আসবে, এ দ্বীপে ঠিক আসবেই।

হেসে নাও যতো পারো ততোদিন —-

জেনী ও পলি'কে নিয়ে তোমরা।

তবে জেনো সব-শেষ দৃশ্যে

আমাদেরই হাতে প্রাণ-ভোমরা।


সপ্তর্ষি বিশ্বাস

১৪।০১।২৪ —- ১৫।০১।২৪

Tuesday, October 3, 2023

যে ঠাকুর জমিন-দার

 যে ঠাকুর জমিন-দার

[ কবি ওমপ্রকাশ বাল্মিকী র " ঠাকুর কা কুঁয়া" র ছায়ায় ]


চুলা মাটির। মাটি, পুকুর

ছেনে তোলা। পুকুর

কার? যে ঠাকুর,

জমিন-দার।

#

ক্ষুধা রুটির। রুটি আটার। কার

আটা? আটার ক্ষেত? পুকুর

যার। যে ঠাকুর,

জমিন-দার।

#

বলদ, হাল, জোত, খামার

সবই তাঁর, পুকুর

যার। যে ঠাকুর,

জমিন-দার।

লাঙ্গলও তাঁর, কেবল ঘাম,

রক্ত, খাটা —- হে আমার, হে

তোমার। এবং শেষে

ফসল কার? সবই তাঁর, পুকুর

যার। যে ঠাকুর,

জমিন-দার।

#

পানি ও জল, শস্যাগার,

এবং পাড়া, রাস্তাঘাট, 

সবই তাঁর, পুকুর

যার। যে ঠাকুর,

জমিন-দার।

তাইলে বাকি

সব আমার? 

গ্রাম? শহর? দেশটি আর

দেশের ভার?

দশের ভার?

—-

সপ্তর্ষি বিশ্বাস 

০৩/১০/ ২০২৩

Friday, August 26, 2022

যখন অন্ধকার

যখন অন্ধকা

                  "O lonely watcher of the skies,  Do you hear the night wind and the sighs Of harps ..."

                                                                          CHAMBER MUSIC, III, James Joyce



 


বিশ্ব যখন নিদ্রা মগন, যখন 

অন্ধকার, কে একা আকাশ-প্রহরী,

হে একা আকাশ-প্রহরী, মর্মে শোনো 

বীনার ঝঙ্কার, রাত্রির? দাহ্য বেদনার? 

সূর্য-তোরণ ওঠে কেঁপে? কুয়াশা সরণি ধ’রে ধীরে

চলা-ধ্বনি ভেসে আসে কার? 

#

বিশ্ব যখন নিদ্রা মগন, যখন 

অন্ধকার, গো অচেনা, হে অজানা

তুলে যেও বীনা-তারে এমনই ঝঙ্কার –

আকাশ-প্রহরী এসে সুরে তালে খুলে দেবে

আলোকের কুয়াশা-দুয়ার।



ঘুম ঘর