প্রবেশিকা
Friday, December 20, 2019
এই বই যাঁর লেখা ...
Sunday, November 3, 2019
'রূপসীবাড়ি'র নষ্ট রূপসীর সাথে..
হেমন্তের রোদগুলি জীবনানন্দের মতো শ্লথ পায়ে হেঁটে
গোধূলির দিকে যাচ্ছে বিকাল পেরিয়ে। 'কাটাখাল',
'রূপসীবাড়ি'র মতো অপরূপ নামের স্টেশনে, স্টেশনের ধারে
অর্জুন ও আঁশশ্যাওড়া গাছে ও পাতাতে হেমন্তের রোদগুলি
তিলেক জিরিয়ে নিচ্ছে যাযাবর পাখিদের মতো। যেন শেষ
ট্রেন এসে চলে গেলে তারা উড়েযাবে কুশিয়ারা
নদী পার হয়ে। উড়ে যাবে 'রূপসীবাড়ি'র থেকে
উড়ে যাওয়া রূপসীর খোঁজে। উড়ে যাবে 'কাটাখাল'
নামটির ব্যুৎপত্তি'র দিকে। হেমন্তের সন্ধ্যা নামবে
নক্সীকাঁথার মতো জীবনানন্দের মৃত রূপসী বাংলাতে।
ভাবি কবে এইসব বন্দরের দ্রাঘিমা ও অক্ষ পেরিয়ে
নিঝুম বাদুড় হয়ে আমি উড়ে যাব, দেখা হবে
'রূপসীবাড়ি'র নষ্ট রূপসীর সাথে…
সপ্তর্ষি বিশ্বাস
২/১১/১৯
Sunday, October 27, 2019
মানবজমিন
মাঝে মাঝে ভাবি প্রতিখানি মানবজমিনই
প্রকৃত আবাদ করলে হয়তো ফলতো সোনা।
হয়তো দীর্ঘ মাস, বৎসরের পরে.. হয়তোবা
ফলতো প্রকৃতই। অথচ কোদাল হাতে
নেমে প্রায় প্রতি জমিতেই দেখেছি গলিত লাশ,
হাড়মাস অথবা কংকাল। পালিয়ে এসেছি
ভয়ে, দুর্গন্ধে ও জন্মগত মধ্যবিত্ত বোধে।
মাঝে মাঝে ভাবি সেই হাড়মাস
লাশ ও কংকাল জমিতেই ছিল না'কি প্রকৃতার্থে
তারা ছিল আমারই জন্মগত মধ্যবিত্ত বোধের কফিনে?
--
সপ্তর্ষি বিশ্বাস
২৭/১০/১৯
Friday, October 25, 2019
জন্মদিন, ২০১৯
প্রতিদিনই জন্মদিন,
প্রতি ক্ষণ মৃত্যুকরোজ্জ্বল।
গর্ভগত অন্ধকারে
স্বাতী নাম্নী নক্ষত্রের জল
টলোমলো দুলে যায়
দক্ষিণ বাতাসে অহরহ
জাতিস্মর, হে অক্ষর,
মৃত্যুদূত, প্রিয় বার্তাবহ -
তোমারই ইঙ্গিতে ফেরে
প্রতি রাত্রি, দাহ্য জন্মদিন।
ছন্দে যতির মতো তুমি
শোধ করো যাপনের ঋণ।।
Wednesday, October 16, 2019
মর্মরূপনারাণের কূলে
মৃত্যুর কথা ভাবি, কেবলই মৃত্যুর। যদিও কৈশোর থেকে
রবীন্দ্রসঙ্গীতে জেনেছি মৃত্যুকে, ক্রমে, 'সত্য' রূপে।
নিয়েছি প্রয়াস বহু সে কঠিন 'সত্য'টিকে
'ভালবাসিবারে'। মর্মরূপনারাণের কূলে
ঘুম ভেঙে শিউরে উঠেছি, শিউরে উঠি রোজই
মৃত্যুর পদধ্বনি ভেবে, শিশিরের পতনশব্দকে।
অথচ সে ভীতি নয়, মৃত্যুভয় নয়, পালানোপ্রয়াসও
নয় কোনো দুর্বাসার কোনো কালোজাদু থেকে।
মৃত্যুর কথা ভেবে ভাবনার নাও ক্রমে ঘুরে গেছে
মৃতদের বন্দরের দিকে। তারা ফিরবেনা জেনে,
তারা যে ফেরেনা জেনে ব্যথা নয়, শোক নয়, অপরাধবোধে
আক্রান্ত হয়েছি কেন যে - জানিনাই, জানিনি এখনো আর
হয়তোবা জানাও হবেনা। মর্মরূপনারাণের জলে
ভেসে যাবো 'মৃত্যু' এই শব্দটিকে ভেলা করে নিয়ে।
Sunday, October 6, 2019
বাংলা নামের গ্রহে
Saturday, September 21, 2019
আমার পদ্মপত্রে
সপ্তর্ষি বিশ্বাস
সে তার প্রথম প্রেমের কথা
লিখে রাখলো গুহাগর্ভে, একটি পাথরে,
সে তার প্রথম দুঃখের কথা
লিখে রাখলো গুহাগর্ভে, একটি পাথরে।
লিখে রাখলো
প্রথম রতির কথা, প্রথম ভীতির কথা, যুদ্ধ ও শান্তির
কথা, অসংখ্য হত্যা আর সংখ্যাতীত বার
তার আপনার নিহত হওয়ার কথা, জন্ম
নেওয়ার কথা গুহাগর্ভে, পাথরে পাথরে।
“এইবার প্রথম পাপের কথা লেখো” – এরকম
আকাশবার্তা হলে সে লিখলো “নিশ্চিত নাস্তিক
আমি, ঈশ্বরের ছেলে। আমার পদ্মপত্রে
'পাপ' বলে কোনো শব্দ নেই”।
Tuesday, June 25, 2019
হবিতে যা দাহ্য নয়...
হবিতে যা দাহ্য নয়...
-----------------------------
“মা নাই আর” ভোরহরকরা এসে টেলিগ্রাম দিয়েগেলো
বন্ধুর মাতৃবিয়োগের। বাতাসের হাত থেকে কাঁচের বাসনগুলি পড়ে
ঝন্ ঝন্ ভেঙ্গেগেলো চৈতন্যের শ্যাওলাঢাকা ঘাটে।
কাঁচের টুকরো বেঁধা মর্মরক্তপাতে দিবস ধূসর হলো
চালচিত্রে , নাদেখা শ্মশানে। হাওয়া এসে বলে দিয়েগেলো
এ বাক্যটি লিখেযেতে হবে
সকলেরই, টেলিগ্রামে, গুহায়, প্রস্তরে।
এ বাক্যটি লিখেযেতে হবে
সকলেরই, টেলিগ্রামে, গুহায়, প্রস্তরে।
মুখাগ্নি সম্পূর্ণ হলে বিধিবদ্ধ ফিরে যেতে হবে
হবিতে যা দাহ্য নয় সেই গর্ভগৃহের সন্ধানে , প্রলয়পয়োধিজলে ,
সঙ্গীহীন ভেসে । “মা নেই” এ বাক্যাংশটি মনেআনে ভিড়,
ভিড় থেকে অদূরে দাঁড়ানো খালি'পা ও ছেঁড়া গেঞ্জি গায়ে
কখনো বড় না হওয়া একটি শিশুকে ।।
[ বন্ধু অমিতাভ নাগের মাতৃবিয়োগ সংবাদ পেয়ে …]
Monday, February 25, 2019
অভিধান
অভিধান
-------------
ঈশ্বর
-------
ঈশ্বর,
এক অলীক স্বর
- কেউ কেউ শোনে।
ঈশ্বর,
এক অলীক স্বর
- কেউ কেউ নিরত নির্মাণে।।
প্রেম
---------
অন্ধ হয় আলোকের নদি
তুমি এসে ছুঁয়েদাও যদি৷।
Tuesday, December 18, 2018
"ধূলোর নাগর"
ধূলো ওড়ে,
Tuesday, October 23, 2018
বিধর্মীর ধর্মমতামত
বিধর্মীর ধর্মমতামত
------------------------------------
ধ্যানে যোগে আস্থা নাই,
ভরসা নাই ঋষিবাক্যে, বেদে।
যে কুসুম অনায়াসে উদ্যানে বা ক্লেদে
সমভাবে জন্ম নিয়ে অযত্নেই বেড়ে
অতঃপর অন্তর্গত নক্ষত্রনিকরে
মিশে গিয়ে ফিরে আসে
মৃত্যুহীন স্মৃতির শিয়রে
কেবল সেসব বৃক্ষে, গুল্মে অথবা
লতায়, পাতায়, ঘাসে, শিশিরে শিশিরে
প্রকৃত অমৃত রেখে অন্ধকার, দাহ্য দেবতারা
প্রতিরাত্রে মৃত্যুগ্রহে উড়ে গিয়ে ফের
গণিকাভগিনী গর্ভে পরের সকালে
জন্ম নিয়ে এ সকল দ্রাঘিমা, অক্ষকে
রক্ষা করে মর্ষকামী ঈশ্বর ও
আলোকিত ঋষিবাক্যহেন
সমুদয় তক্ষকের থেকে।
#
সুতরাং ক্লেদ থেকে ক্লেদের গভীরে
নেমেযাই জেনে নিতে
ক্লেদজ কুসুমরাজি
কোন গর্ভে, কি জাদুতে ফোটে।।
Sunday, September 30, 2018
গৃহপথ,মর্মবনস্থলী
Saturday, September 29, 2018
স্টেশনবাবুর মেয়ে
দূরপাল্লার ট্রেন থেমেছে ছোট্ট ইস্টিশনে।