প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label হাওয়ায় হাওয়ার খোদকারি. Show all posts
Showing posts with label হাওয়ায় হাওয়ার খোদকারি. Show all posts

Friday, December 20, 2019

এই বই যাঁর লেখা ...

এই বই যাঁর লেখা ...

“এই বই যাঁর লেখা তাঁকে আমি চিনি। বইটই
পড়ে নয়, শুধুমাত্র একবার দেখে। একবার। একবারই
দেখা। সে এক দুর্যোগ রাতে পসরা সাজিয়ে নিয়ে একা
তেমাথার মোড়ে নিঝ্‌ঝুম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
অবশেষে দেহ জুড়ে শ্রান্তি আর চোখ ভরে ঘুম
নেমে এলে ফিরে চলেযাব ভেবে মোড় ঘুরতেই
দেখা। তাঁর সাথে দেখা। দেবতা বা দেবদূত নয়
মানুষের মতো এক সুশ্রী পুরুষ তিনি আমার কিনারে,
কিনারে কিনারে হেঁটে চললেন রাত্রির বিখ্যাত সেই
“কেলিকুঞ্জ” অথবা সরাই’এ। তাঁকে দেখে আমার কথারা
খই হয়ে ফুটে উঠলো আর সারাপথ চুপচাপ তিনি
সরাই-কোঠায় ঢুকে বেয়ারা ছোকরাটিকে ভদ্‌কা দিতে
বল্লেন তবে ছোকরাটির দেরী দেখে নিজেই গেলেন
সরাই এর ভিতরবাড়িতে। সরাই’এর একা ঘরে  
দেহ জুড়ে শ্রান্তি আর চোখ ভরে ঘুম এলো ফিরে।
কেজানে সরাই’এর চেনা ওই ময়লা সোফাতে
কতক্ষন কেটেছিল আমার ঘুমিয়ে। ঘুম ভাঙ্গতেই
দেখি আমার শিয়রে তিনি, যেন মোমবাতি। আমার
লজ্জা লাগলো, ভয়ও লাগলো – কেননা ঘুমানোর
নিয়ম, এরকম, “কেলিকুঞ্জে” নেই। তাই যেই বলতে
গেলামঃ “দুর্যোগে, বিষ্টিবাতাসে ...” তিনি হেসে, মৃদু
হেসে,আমার চুলের গোছাটি হাতে নিয়ে
বল্লেনঃ “আরেকটু ঘুমিয়ে নাও তুমি। আমি আছি। কিচ্ছু
ভেবোনা”। ঘুম ভাঙ্গলো ভোরবেলা। কাকভোরে দেখি
আমার শিয়রে তিনি, যেন মোমবাতি। বল্লেনঃ “ এবার
আমাকে যেতে হবে”। আমার হাতের মুঠোতে
গুঁজে দিয়ে বেশ কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে হাতের মুঠোটি
বন্ধ করলেন তিনি আলতো চুমুতে। “ কিছুইতো
করেননি তবু এটা কেন” – বলবার আগেই দেখি তিনি
যাচ্ছেন। যাচ্ছেন ধীরপায়ে হেঁটে। বেরায়া ছোকরাটি
এবারে বল্লো কাছে এসেঃ “চেনোনা
ইনি কে”? বলেই কি এক পত্রিকা এনে
আমাকে দেখালো তাঁর ছবি। জানালো যে
তিনি কবি এবং লেখকও” – মেয়েটির, গল্পবলা
মেয়েটির চোখেমুখে দুষ্টুমি যে মিশেছিল
তা’ত ধরা পড়েছিল সহজেই, সহজেই
ম্যাক্সিক গোর্কীর চোখে। এ ছাড়াও
পরিত্যক্ত এবং অনাথ পশুশাবকের
আর্তি ছিল তার চোখে, চোখের দৃষ্টিতে।
এ সকল পারহয়ে গোর্কীর চোখ
দেখেছিল অন্য এক ছবি চেনা কবি
আলেকজেন্ডার ব্লখের।

সপ্তর্ষি বিশ্বাস
২০/১২/২০১৯
বেঙ্গালোর

Sunday, November 3, 2019

'রূপসীবাড়ি'র নষ্ট রূপসীর সাথে..

'রূপসীবাড়ি'র নষ্ট রূপসীর সাথে..
হেমন্তের রোদগুলি জীবনানন্দের মতো শ্লথ পায়ে হেঁটে
গোধূলির দিকে যাচ্ছে বিকাল পেরিয়ে। 'কাটাখাল',
'রূপসীবাড়ি'র মতো অপরূপ নামের স্টেশনে, স্টেশনের ধারে
অর্জুন ও আঁশশ্যাওড়া গাছে ও পাতাতে হেমন্তের রোদগুলি
তিলেক জিরিয়ে নিচ্ছে যাযাবর পাখিদের মতো। যেন শেষ
ট্রেন এসে চলে গেলে তারা উড়েযাবে কুশিয়ারা
নদী পার হয়ে। উড়ে যাবে 'রূপসীবাড়ি'র থেকে
উড়ে যাওয়া রূপসীর খোঁজে। উড়ে যাবে 'কাটাখাল'
নামটির ব্যুৎপত্তি'র দিকে। হেমন্তের সন্ধ্যা নামবে
নক্সীকাঁথার মতো জীবনানন্দের মৃত রূপসী বাংলাতে।
ভাবি কবে এইসব বন্দরের দ্রাঘিমা ও অক্ষ পেরিয়ে
নিঝুম বাদুড় হয়ে আমি উড়ে যাব, দেখা হবে
'রূপসীবাড়ি'র নষ্ট রূপসীর সাথে…

সপ্তর্ষি বিশ্বাস
২/১১/১৯

Sunday, October 27, 2019

মানবজমিন

মানবজমিন 
  মাঝে মাঝে ভাবি প্রতিখানি মানবজমিনই 
প্রকৃত আবাদ করলে হয়তো ফলতো সোনা।
হয়তো দীর্ঘ মাস, বৎসরের পরে..  হয়তোবা 
ফলতো প্রকৃতই। অথচ কোদাল হাতে
নেমে প্রায় প্রতি জমিতেই দেখেছি গলিত লাশ,
হাড়মাস অথবা কংকাল। পালিয়ে এসেছি
ভয়ে, দুর্গন্ধে ও  জন্মগত মধ্যবিত্ত বোধে।
                      মাঝে মাঝে ভাবি সেই হাড়মাস
 লাশ ও কংকাল জমিতেই ছিল না'কি প্রকৃতার্থে 
তারা ছিল আমারই জন্মগত মধ্যবিত্ত বোধের কফিনে?
--
সপ্তর্ষি বিশ্বাস 
২৭/১০/১৯

Friday, October 25, 2019

জন্মদিন, ২০১৯

জন্মদিন,২০১৯

প্রতিদিনই জন্মদিন,
প্রতি ক্ষণ মৃত্যুকরোজ্জ্বল।
গর্ভগত অন্ধকারে
স্বাতী নাম্নী নক্ষত্রের জল
টলোমলো দুলে যায়
দক্ষিণ বাতাসে অহরহ
জাতিস্মর, হে অক্ষর,
মৃত্যুদূত, প্রিয় বার্তাবহ -
তোমারই ইঙ্গিতে ফেরে
প্রতি রাত্রি, দাহ্য জন্মদিন।
ছন্দে যতির মতো তুমি
শোধ করো যাপনের ঋণ।।

Wednesday, October 16, 2019

মর্মরূপনারাণের কূলে

মর্মরূপনারাণের কূলে
মৃত্যুর কথা ভাবি, কেবলই মৃত্যুর। যদিও কৈশোর থেকে
 রবীন্দ্রসঙ্গীতে জেনেছি মৃত্যুকে, ক্রমে, 'সত্য' রূপে।
নিয়েছি প্রয়াস বহু সে কঠিন 'সত্য'টিকে
'ভালবাসিবারে'।  মর্মরূপনারাণের কূলে
ঘুম ভেঙে শিউরে উঠেছি, শিউরে উঠি রোজই
মৃত্যুর পদধ্বনি ভেবে, শিশিরের পতনশব্দকে।
অথচ সে ভীতি নয়, মৃত্যুভয় নয়, পালানোপ্রয়াসও
নয় কোনো দুর্বাসার কোনো কালোজাদু থেকে।
মৃত্যুর কথা ভেবে ভাবনার নাও ক্রমে ঘুরে গেছে
মৃতদের বন্দরের দিকে। তারা ফিরবেনা জেনে,
তারা যে ফেরেনা জেনে ব্যথা নয়, শোক নয়, অপরাধবোধে
আক্রান্ত হয়েছি কেন যে - জানিনাই, জানিনি এখনো আর
 হয়তোবা জানাও হবেনা। মর্মরূপনারাণের জলে
ভেসে যাবো 'মৃত্যু' এই শব্দটিকে ভেলা করে নিয়ে।

Sunday, October 6, 2019

বাংলা নামের গ্রহে


                                                                          বাংলা নামের গ্রহে

ছিলেন সে এক দেবী, সংস্থিতা মাতৃরূপেণ।
ছিল তাঁর আবাহন, বিদায় ও বোধন
বাংলা নামের গ্রহে, প্রতি ঘরে ঘরে। ছিল সেই
ঘরগুলি, ‘গৃহ’ বলা হতো যাকে,পায়ে চলা পথশেষে
“গৃহিণী গৃহম্‌ উচ্চতে” - আম,নিম, কাঁঠাল ছায়াতে।
তখন ছিলেন দেবী সংস্থিতা মাতৃ রূপে,নিদ্রারূপে,
ক্ষুধা,তৃষ্ণা,লজ্জা,শান্তিরূপে। পাশাপাশি সামন্ত প্রভুর
ঠাকুরদালান ছিল, অহমিকা, অত্যাচারও ছিল। তবুও
কোথাও ছিল মন্দ্র এক মন্ত্রহেন সুর
বাংলা নামের গ্রহে । সম্বৎসর ধরে প্রকৃত প্রতীক্ষা ছিল
দেবীর আসার বাংলা নামের গ্রহে
প্রত্যেকের গৃহে গৃহে, দাওয়ায়, দাওয়ায়।
ছিলেন বীরেন ভদ্র দৈববাণীহেন বাংলা নামের গ্রহে
শরৎ ঋতুর ভগীরথ। তারপর বিয়াল্লিশে, ছেচল্লিশে নাকি
উনিশশো সাতচল্লিশ কিংবা তারো আগে, পরে
কোনো এক সালে বাংলা নামের গ্রহ ব্ল্যাকহোল হয়েগেলে পরে
ব্ল্যাকহোলের প্রেত ও বামনেরা বসতি গড়লো ফের
গ্রহান্তরে, ইঁদুরের মতো। ইঁদুরির মূর্তি গড়ে 'দেবী' বলে
সাজালোও তাকে সম্বৎসরের মতো তবে জানলোনা প্রকৃত
মাতৃরূপে সংস্থিতা দেবী আর এই গ্রহপথে কখনো আসবেনা
কেননা মাতৃরূপে সংস্থিতা দেবী
ছায়াপথে ভ্রাম্যমতী
একা একা
রাস্তা হারিয়ে।




Saturday, September 21, 2019

আমার পদ্মপত্রে

 আমার পদ্মপত্রে
সপ্তর্ষি বিশ্বাস

সে তার প্রথম প্রেমের কথা
লিখে রাখলো গুহাগর্ভে, একটি পাথরে,
সে তার প্রথম দুঃখের কথা
লিখে রাখলো গুহাগর্ভে, একটি পাথরে।
লিখে রাখলো
প্রথম রতির কথা, প্রথম ভীতির কথা, যুদ্ধ ও শান্তির
কথা, অসংখ্য হত্যা আর সংখ্যাতীত বার
তার আপনার নিহত হওয়ার কথা, জন্ম
নেওয়ার কথা গুহাগর্ভে, পাথরে পাথরে।
“এইবার প্রথম পাপের কথা লেখো” – এরকম
আকাশবার্তা হলে সে লিখলো “নিশ্চিত নাস্তিক
আমি, ঈশ্বরের ছেলে। আমার পদ্মপত্রে
'পাপ' বলে কোনো শব্দ নেই”।

Tuesday, June 25, 2019

হবিতে যা দাহ্য নয়...

হবিতে যা দাহ্য নয়...
-----------------------------
  
“মা নাই আর” ভোরহরকরা এসে টেলিগ্রাম দিয়েগেলো
বন্ধুর মাতৃবিয়োগের। বাতাসের হাত থেকে কাঁচের বাসনগুলি পড়ে
ঝন্‌ ঝন্‌ ভেঙ্গেগেলো  চৈতন্যের শ্যাওলাঢাকা ঘাটে।
কাঁচের টুকরো বেঁধা মর্মরক্তপাতে দিবস ধূসর হলো
চালচিত্রে , নাদেখা শ্মশানে। হাওয়া এসে বলে দিয়েগেলো
এ বাক্যটি লিখেযেতে হবে
সকলেরই, টেলিগ্রামে, গুহায়, প্রস্তরে।


এ বাক্যটি লিখেযেতে হবে
সকলেরই, টেলিগ্রামে, গুহায়, প্রস্তরে।
মুখাগ্নি সম্পূর্ণ হলে বিধিবদ্ধ ফিরে যেতে হবে
হবিতে যা দাহ্য নয় সেই গর্ভগৃহের সন্ধানে , প্রলয়পয়োধিজলে ,
সঙ্গীহীন ভেসে । “মা নেই”  এ বাক্যাংশটি  মনেআনে  ভিড়, 
ভিড় থেকে অদূরে দাঁড়ানো খালি'পা ও ছেঁড়া গেঞ্জি গায়ে
কখনো বড় না হওয়া একটি শিশুকে ।।

[ বন্ধু অমিতাভ নাগের মাতৃবিয়োগ সংবাদ পেয়ে …]


Monday, February 25, 2019

অভিধান

অভিধান
-------------
ঈশ্বর
-------
ঈশ্বর,
এক অলীক স্বর
- কেউ কেউ শোনে।
ঈশ্বর,
এক অলীক স্বর
- কেউ কেউ নিরত নির্মাণে।।

  প্রেম
---------
অন্ধ হয় আলোকের নদি
তুমি এসে ছুঁয়েদাও যদি৷।

Tuesday, December 18, 2018

"ধূলোর নাগর"


"ধূলোর নাগর"


ধূলো ওড়ে,
পথের শিয়রে।

"ধূলোর নাগর", তুমি এভাবে ভোলাবে
পথদিশা? দিশাপথ? - আমাকে বিপথে
নেবে বলে এত ছল?
                 এত আয়োজন? "ধূলোর নাগর"
আমি ধূলোতেই ফিরেযাব বলে
ধূলো দিয়ে লিখেছি এ ঘর।


"ধূলোর নাগর", এসো যুগল প্রয়াসে
              বাতাসনূপুরপরা নর্তকীর দোরে
                                           টোকা দিই
                                                 উড়ে যেতে যেতে।
[স্মরণঃ "কবি", তারাশংকর ]

৩০/১১ - ১৮/১২/২০১৮

Tuesday, October 23, 2018

বিধর্মীর ধর্মমতামত

বিধর্মীর ধর্মমতামত
------------------------------------

ধ্যানে যোগে আস্থা নাই,
ভরসা নাই ঋষিবাক্যে, বেদে।
যে কুসুম অনায়াসে উদ্যানে বা ক্লেদে
সমভাবে জন্ম নিয়ে অযত্নেই বেড়ে
অতঃপর অন্তর্গত নক্ষত্রনিকরে
মিশে গিয়ে ফিরে আসে
মৃত্যুহীন স্মৃতির শিয়রে
কেবল সেসব বৃক্ষে, গুল্মে অথবা
লতায়, পাতায়, ঘাসে, শিশিরে শিশিরে
প্রকৃত অমৃত রেখে অন্ধকার, দাহ্য দেবতারা
প্রতিরাত্রে মৃত্যুগ্রহে উড়ে গিয়ে ফের
গণিকাভগিনী গর্ভে পরের সকালে
জন্ম নিয়ে এ সকল দ্রাঘিমা, অক্ষকে
রক্ষা করে মর্ষকামী ঈশ্বর ও
আলোকিত ঋষিবাক্যহেন
সমুদয় তক্ষকের থেকে।
#
সুতরাং ক্লেদ থেকে ক্লেদের গভীরে
নেমেযাই জেনে নিতে
ক্লেদজ কুসুমরাজি
কোন গর্ভে, কি জাদুতে ফোটে।।


Sunday, September 30, 2018

গৃহপথ,মর্মবনস্থলী


গৃহপথ,মর্মবনস্থলী
১।
বিশ্বাসের নির্বিকল্প বালিবাঁধগুলি
নিজহাতে চূর্ণ করে পরিপূর্ন সংশয়ের পথে
কবে নিয়ে যাবে,বলো,দ্বিধাহীন গো মাধবী,
"দিন যায়,সন্ধ্যা হয়ে আসে" ...

অক্ষরের মৃত্যু নাই, শব্দই অমর জোনাকি।
তবু শুধু চকমকি ঠুকে
রহস্যআঁধারেবৃত তোমার সদর,গলী,
গৃহপথ,মর্মবনস্থলী
আলোকিত হবে কোনো ঝোড়োরাতে
অথবা জ্যোৎস্নাতে?

অক্ষরের মৃত্যু নাই, শব্দই অমর জোনাকি।
আমারো অক্ষরভিন্ন অন্য কোনো নৌকা নাই,সংস্থান নাই,
অথবা পারের কড়ি শেষ পাড়ানির।সে কড়ি তোমাকে দিলে
কি থাকে আমার বলো
লেখার টেবিল ছাড়া,নিরক্ষর বর্ণমালা ছাড়া?

অক্ষরের মৃত্যু নাই, শব্দই অমর জোনাকি।
এবং অক্ষরভিন্ন আমি ও আমার মধ্যে
অন্য কোনো সেতু নাই, পারাপার নাই।
সেতুপথে একা আমি ভিক্ষা চাইনি তবু
ভিখারীর মতো
হাত পেতে বসে আছি
অচল পয়সা চেয়ে, কানাকড়ি চেয়ে।
কার আশে?
দ্বিধাহীন গো মাধবী,
জানিনি এখনো।


২।
কার আশে বসে আছি ভিখারীভঙ্গিতে আজো সেতুপথে ভিক্ষাপাত্রহীন?
জানিনি এখনো আর জানিবার সাধও নাই কোনো।
সেতুপথে তুমি যদি না'ই আসো হেমন্ত অবধি
তাহলে প্রতীক্ষাগুলি পুড়িয়ে পুড়িয়ে শেষতম শীতরাত্রে আমি
মেতে উঠবো অনাবিল আগুন-উৎসবে, অন্যথায় সেতু ভেঙ্গে ঝাঁপ দেবো
তুলে আনতে চেতনার লুপ্ত প্যাপীরাস।না পেলে তলিয়ে যাব
প্রত্যাখ্যান করে সব দৈব সহায়তা কেননা কখনো আমি শিখিনি তৃপ্ত হতে
ঝিনুক কুড়িয়ে
২৯/০৯/২০১৮

Saturday, September 29, 2018

স্টেশনবাবুর মেয়ে


স্টেশনবাবুর মেয়ে






দূরপাল্লার ট্রেন থেমেছে ছোট্ট ইস্টিশনে।
বিকাল হারায় লাগিয়ে দিয়ে
               "হলুদ বনে বনে"।
দু'এক মিনিট থেমে থাকার ফাঁকে
দু'একটি লোক নামে। আমার জান্‌লা থেকে
একটি বাড়ি,টালির,দেখি
               হাঁটাপথের দিকে।
কোত্থেকে এক সত্যি ময়ূর এসে
পেখম ছড়ায় টালির বাড়ির
              চিলতে বারান্দাতে।
ট্রেন ছেড়েযায়, তক্ষুনি,হায়,
             এই ছবিটি ছিঁড়ে।
সন্ধ্যা ঘনায়, শিরীষশাখায়
             চাঁদ ওঠে লাফ দিয়ে।
#
কে পোষে ওই ময়ূর, ভাবি,
স্টেশনবাবুর মেয়ে?

৮/৭/২০১৮-২৯/০৯/২০১৮

ঘুম ঘর