প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Saturday, June 13, 2026

বৃষ্টিবাদল হচ্ছিল তাই

 বৃষ্টিবাদল হচ্ছিল তাই 


১।

বৃষ্টিবাদল থামার পরেও 

একটি দু'টি বিন্দু ঝরে

ডালের থেকে পাতার থেকে

একটি দুটি কথার মতন

যেসব কথা একটি দুটি

হয়না কিংবা যায়না বলা

কথার পিঠে কথার ভিড়ে

অনেক অনেক কথার পরে

হঠাৎ নামা নীরব থেকে

বৃষ্টিবাদল থামার পরেও 

একটি দু'টি বিন্দু যেমন

ডালের থেকে পাতার থেকে

তেমনি দুটি একটি কথা

শুনবো কবে? বলবো কবে?

নতুন বাদলবৃষ্টি নিয়ে

আকাশ সাজে আকাশ সাজে।


২। 




বৃষ্টিবাদল হচ্ছিল তাই সড়ক ফাঁকা

সদর গলী ঘাট আঘাটা বৃষ্টি মাখা, বৃষ্টি ঢাকা

একটি কিশোর কাক কেন যে ভিজছে একা

চিলেকোঠার টিনের চালে এই বাদলে

বৃষ্টিবাদল মাখতে থাকা এই বিকালে।..

#

বৃষ্টিবাদল মাখতে থাকা এই বিকালে

অনেক দূরে, হতেও পারে গ্রহান্তরে

বৃষ্টিবাদল ছাঁট এড়াতে গাছতলাতে

কেউ আছে কি ছাত্তি ছাড়া দাঁড়িয়ে একা?

ভিজতে থাকা কিশোর-কাকের বন্ধু নাকি?

#

ভিজতে থাকা কিশোর-কাকের বন্ধু নাকি?

ভিজতে ভিজতে অপেক্ষাতে রয় কি কাকের?

দূর শহরে কাক-কিশোরও প্রতীক্ষাতে

কাঁটাতারের শহরসীমায় তাকিয়ে থাকে?


এখন প্রত্যেক গান

 এখন প্রত্যেক গান





এখন প্রত্যেক গান বিস্মৃতি-স্মৃতির সিম্ফনি। যেমন “যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি” গরম-গুমোট রাত, ফিলিপ্স টেপরেকর্ডারে পংকজ মল্লিক আর মা’র কাকা, সাধুদাদু, বাইরের কোঠায় বসে। চোখ বেয়ে জল। জলধারা। যেমন ‘যেদিন সকল মুকুল …” গরম-ছুটির দুপুর একটা বেজে দশ। দেরী হয়ে গেলো বলে গায়কের নাম আর শোনাই হলোনা। অদ্ভুত বেদনা নাকি বেদনার একজন বয়ঃসন্ধি জানালার ধারে দাঁড়িয়েছে এসে।  “যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি” – এইচ-এম-ভি’র এক বাক্স রবীন্দ্র সংকলন, ভবতোষ ধরের কাছ থেকে ধার করে এনে শোনা। “যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি” – আসলে সিম্ফনি অথবা অর্কেস্ট্রা এক রবিকবি, পংকজ মল্লিক, গ্রীষ্ম, সাধুদাদু, ভবতোষ ধর আর মফস্বলি কিশোর রাত্রির। যেমন “বড়ি শুনি শুনি হ্যায় জিন্দেগী ইয়ে জিন্দেগী”। সেই ভবতোষ ধর, এইচ-এম-ভি’র ‘লিজেন্ডস অফ গ্লোরি”। কিশোরকুমার সদ্য প্রয়াত। ক্লাস নাইন, জিষ্ণু দত্ত, এডভান্সড ম্যাথ এ পার্মুটেশন-কম্বিনেশন। ফিলিপ্স টেপরেকর্ডার আবহে। কান খাড়া। গেটের আওয়াজ মানেই বাবা এলো। বন্ধ করতে হবে গান। পড়তে পড়তে গান শোনা …। টের পেলে উপায় থাকবেনা। “জিনা ইঁইয়াহা মরনা ইঁয়াহা মরনা ইঁয়াহা” – কুটুমামা। পাশের বাড়ির লক্ষীভটের শালা। তখন “ইয়াদে” বেরোচ্ছে খুব। নকল গলায় বাজছে আসল গানের কথা, সুর।  “জিনা ইঁইয়াহা মরনা ইঁয়াহা মরনা ইঁয়াহা” – বর্ষার পড়ন্ত বিকাল। সদ্য বৃষ্টিথামা রাস্তা। রাস্তায় কিশোর চোখে চিরুনি তল্লাসি – কিশোরী কখন ফিরবে এই রাস্তা ধরে? “ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস”, “কে যেন গো”,“নিঝুম সন্ধ্যায়” — নিঝঝুম দুপুর-রাস্তা। কাঠের আলমারির মাথায় ফিলিপ্স রেডিও। এক’টা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। “এ শুধু গানের দিন” – বিশ্বকাপ ফুটবল, সরাসরি সম্প্রচার বাংলাদেশ জাতীয় টিভিতে। দুই খেলার মধ্যবর্তী শূন্যস্থান পূর্ণ করতে সিনেমা – এ দেশের, বাংলাদেশের, নানান দেশের। খেলায় উৎসাহ নেই। ক্লাস সেভেন। বাড়িতে টিভিও নেই। রামেন্দ্র ভটের বাড়ি। ‘পথে হলো দেরী”। ইস্কুল-ফিরত বিকাল। সেদিনও সামান্য আগে বৃষ্টি হয়েছিল। “ওগো মোর গীতিময়” সদ্য যৌবন ঢলে ঝলমল করে ওঠা চিত্রাদির কৃষ্ণকলি তাপ। “জেমস ফ্রম বেঙল”। টি-রিসিজ। আর পিঠে হেমন্ত “কোন পাখি …”। 

আবার ফিরে আসা ‘গীতবিতান”, গীতির বিতানে। “তপের তাপের বাঁধন কাটুক”। ক্লাস নাইন। ঋতুরঙ্গ স্ক্রিপ্ট লিখি। শুভাশিস গান জোগান দেয়। বর্ষায় এসে “তপের তাপের বাঁধন কাটুক”। শোনামাত্র নিজেই বর্ষা বৃষ্টি। অচেনা অজানা মেঘে ক্লাস নাইন উথাল পাথাল। শুভাশিসদের বাড়ি। চিত্রবানী রোড। এখন প্রত্যেক গান বিস্মৃতি-স্মৃতির সিম্ফনি। অথবা অর্কেস্ট্রা এক রবিকবি, পংকজ মল্লিক, শুভাশিস, গ্রীষ্ম, সাধুদাদু, মুকেশ, কিশোরকুমার, শিলচর রেডিও স্টেশন, ভবতোষ, মনোজ দেব, টি-সিরিজ আর মফস্বলি রাতের দিনের। তাই এখন আর গানের কিনারে কিনারে হেঁটে হেঁটে 

গানের নিকটে যাওয়া সম্ভব হয়না আমার। গানের কিনারে কিনারে হেঁটে গেলে এখন বাঁশের পাতা, দুপুরের ঘুমঘুম, রাত্রির না-ঘুম নিশুত। গানের কিনারে কিনারে হেঁটে গেলে এখন জানলা, মেঘ, বৃষ্টিছাঁটে ঝাপসা হওয়া কাঁচ। মন্মথ দাসের বাড়ি, সকালের মেঘলা পুকুর, অসুস্থ  শিশুটি মা-বাপের থেকে পঞ্চাশ মাইল দূরে বাস করে চিকিৎসা-কারনে । “পরের জেগা পরের জমি” শিবেন চক্রবর্তী। চিরন্তন আবহ সঙ্গীত …।

#

এখন প্রত্যেক গান বিস্মৃতি-স্মৃতির সিম্ফনি।


ঘুম ঘর