প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label শরতে বাড়ি ফেরা ও অন্যান্য ব্যর্থ অভিযান. Show all posts
Showing posts with label শরতে বাড়ি ফেরা ও অন্যান্য ব্যর্থ অভিযান. Show all posts

Monday, January 6, 2014

দোলন’কে



দোলন’কে
ছোট্ট আমার বোন
বলছি তোকে শোন্‌
‘বুঝতে পারা’র বোঝা
‘বোঝা’র মানুষ’ খোঁজা
নামিয়ে হাটের ধারে
মনের অন্ধকারে
চোখটি মেলে তাকা –
হিম কুয়াশায় ঢাকা
মাঠের অন্য ধারে
নিঝুম পুকুরপাড়ে
একটি তারা আছে –
চায় সে তোরই কাছে
শুনতে মনের কথা


আর যা কিছু সবই
শূন্য ছায়াছবি
শীতের ঝরাপাতা

ছোট্ট আমার বোন
বলছি তোকে শোন্‌
সেই তারাটির কাছে
যা কিছু তোর আছে
উজাড় করে দিলে
সব পাবি তুই ফিরে
আকূল করা নীলে ...

Monday, December 30, 2013

সাইন্স ফিক্‌শন্‌






সাইন্স ফিক্‌শন্‌


একদিন সে’ই ছিল এ গ্রহের আদি অধীশ্বর।
ঢলেপড়া রৌদ্রে তার মহাবলী ছায়া
নীলনদে ভেসে গেছে আমাজন অরণ্য পেরিয়ে।

অপর আরেক গ্রহে
কিছু দিন, মাস, ঋতু, শতক কাটিয়ে
এই গ্রহে ফিরে এসে পুনরায় দেখি তাকে –
সুখে আছে।
সুখে আছে নদীতীরে শান্ত ঘর বেঁধে।
তাকে ঘিরে ধূ ধূ মাঠ –
ঢেকে গেছে লাঙ্গলের সবুজ পৌরুষে।

যদি বাদ দেওয়া যায় যুদ্ধ ও বাণিজ্যলীন
আরো কিছু শতক-কাহিনী,
তবে তাকে দেখা যাবে
বারান্দায়, আলবোলা হাতে।
মাঠ নেই, সবুজ পৌরুষ নেই, তবু
সামনে উঠান আর কিনারে সাজানো এক বাগান রয়েছে ...
রয়েছে মর্মর মূর্তি
উর্বশীর স্মৃতি হয়ে
মোরাম বিছানো লাল পথের কিনারে।

আজ
আরো কিছু শতকের কিছু
দুরারোগ্য প্রগতির শেষে
তাকে দেখি –
নিজেকে সে কেটে ছেঁটে কি সহজে পোষ মানিয়েছে
তিন কোঠা জোড়া তার
তেতলায়, ফ্ল্যাটে, ক্যাম্প্‌-খাটে –

যদি এই গ্রহে আমি ঘুরে আসি আজ থেকে দু শতক পরে
আরো কতো কেটে ছেঁটে নিজেকে সে  কতো ‘ছোটো’ করে
বাসা নেবে আরো কতো ‘ছোটোতর’ ঘরে? ...

Sunday, December 29, 2013

শীত সকালের দুটি কবিতা





শীত সকালের কবিতা

অলস কুয়াশা থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসে রোদ।

পর্দা ঠেলে উড়ে আসা দূরের বাতাস
সঙ্গে করে নিয়ে আসে
খোয়া যাওয়া বন্ধুদের মুখ, কোলাহল –

যদিও সকলে জানে এ জীবন পদ্মপাতে জল
তবু যেন দু’চার আনা সিকি বা আধুলি
বেশী জোটে আজ ঐ ভিখারিনী মেয়ের কপালে ...

কমলার ঘ্রানে ম’ম রোদে পিঠ দিয়ে
বারান্দায় বসেছে যেজন
আজ যেন আসে তার গতজন্মে আকাঙ্ক্ষিত চিঠি ...

আমার এ শুভেচ্ছাটুকু, হে শীতের রোদ, তুমি
গণিকা বোনের ঘরে পৌঁছে দিও –
শাঁসালো খদ্দের নিয়ে
দরজায় টোকা দেওয়া ফুর্তিবাজ দালালের মতো।




স্বপ্নে বন্ধু বান্ধব

“কি’রে আজ কলেজে যাবিনা?”
“যেতে হবে। অনার্সের দুটো ক্লাস আছে”...
-শুনতেই মনে পড়লো এখন কলেজে
বন্ধুরা যায় ক্লাস ‘নিতে’। আমাদের ‘ক্লাস করা’ দিন-
কেলাস পালিয়ে মাঠে আড্ডামারা, গাঁজা খাওয়া দিন –
ফুরিয়ে গিয়েছে আজ বহুকাল হলো।


ঘুম ভেঙ্গে মনে পড়লো বন্ধুদের সাথে
স্বপ্নে ছাড়া বহুকাল দেখাশোনা নেই,
‘ই-মেইল্‌’ আর ‘টেক্স্‌ট্‌’ ছাড়া
বাক্যালাপ নেই –

পুকুরের পাড়ে ঐ হোস্টেলও নেই আর, তবে
পুকুরের অন্য পাড়ে গাছ গুলো আজো আছে
সারা গা’য়ে শ্যাওলা না’কি স্মৃতিকথা নিয়ে? ...
 

ঘুম ঘর