প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label বাবার জন্য মূলতঃ. Show all posts
Showing posts with label বাবার জন্য মূলতঃ. Show all posts

Wednesday, September 7, 2022

আসার, যাওয়ার ছায়াছবি

আসার, যাওয়ার ছায়াছবি

 

নিঝঝুম দুপুর।

দীপ নিভে

গেছে

মম। 

হয়তো বৃষ্টি হয়েছিল। হয়তো হয়নি। উজ্জ্বল রোদের কোথাও বৃষ্টি মিশে আছে।

ধীরে ধীরে

এসে তুমি

যেয়ো না

গো ফিরে।

বাবা ফেরেনি অনেকদিন।

অনেকদিন থেকেই হাসপাতাল ছাড়বে ছাড়বে বলছে। ছাড়ছেনা তবু। কি যে ঠিক হয়েছে বাবার, সেও বলছেনা কিছু স্পষ্ট করে। তবে আজ ছাড়বে। যদি ছাড়ে ' ধীরে ধীরে এসে তুমি যেয়ো না গো ফিরে'। সুরে পশ্চিমের ঘাট তবু কি আশ্চর্য স্বদেশ। পিয়ানোতে বাজানো যায়। বাজিয়ে গাওয়া যায়। রত্নদীপ এসেছে। রত্নদীপ গায়। আমি গাইতে পারিনা। শুনি। গান বাজিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকি। ক্রমে, গান ঘুমে নাকি ঘুমই মিশে যায় গানে? দীপ নিভে গেছে মম।

আমি রূপককে বলি অন্তত হারমোনিয়াম বাজানো শিখিয়ে দিতে। কিন্তু রূপক হারমোনিয়াম বাজানো জানেনা। জানে মিশকিন। আমার ছেলে। আমি বাজাতে জানিনা। গান বাজিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকি। বাবার মারা যাওয়ার এক বছর পার হয়ে গেলো। দুই বছর পার হবে। তিন বছর। চার বছর...। আশ্চর্য। অনেকদিন থেকেই হাসপাতাল ছাড়বে ছাড়বে বলছে। ছাড়ছেনা তবু। কি যে ঠিক হয়েছে বাবার, সেও বলছেনা কিছু স্পষ্ট করে। আমরা অপেক্ষা করে আছি। আমাদের কোঠাটিতে। আমাদের আড্ডা কোঠাটিতে। দুটো খাট, কোঠার দুদিকে। দুটি জানলা। বাইরে শেষ বর্ষা না'কি শরৎ? হয়তো বৃষ্টি হয়েছিল। হয়তো হয়নি। উজ্জ্বল রোদের কোথাও বৃষ্টি মিশে আছে। আমারে পড়িবে মনে কখন। বাবার কি মনেই পড়েনা আমাদের? না'কি পড়ে, আসতে চায়, কিন্তু ওরা দেয়না আসতে। ওরা কারা? গান ঘুমে নাকি ঘুমই মিশে যায় গানে? রিক্সা থামলো। বাবা নামছে। রিক্সা থেকে। হাতে ব্যাগ। বাবাকে কি দুর্বল দেখাচ্ছে? বাবার চুলে পাক ধরেনি । চুল পড়েও যায়নি তেমন। বাবা কাপড় ছাড়ে। 'স্নানে যাবো'। 'দাঁড়াও, গরম জল ...'। মা। 'লাগবেনা'। বাবা। যা হোক এসে গেছে বাবা। রজনীগন্ধার গন্ধ ভরেছে মন্দিরে। আর ভয় নেই। কিসের ভয়? কেন ভয়? আমাদের ইস্কুলের জয়ন্তী। রজৎ? সুবর্ণ? রত্নদীপ গাইবে। ফাংশনে। আমি গাইতে পারিনা। শুনি। গান বাজিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকি। ক্রমে, গান ঘুমে নাকি ঘুমই মিশে যায় গানে? প্রহরে প্রহরে ? আমি গান গেয়ে জাগি। আমি গাইতে পারিনা। শুনি। বিকাল ঘনিয়ে এলো বলে। এত জলদি বিকাল? আড্ডা কোঠায় নিওন লাইট। কারণ দরজা বন্ধ। কারণ আমি সিগারেট খাই। রূপক সিগারেট খায়। সিদ্ধার্থ সিগারেট খায়। স্নান খাওয়া শেষ বাবার। এবার ঘুমানো দরকার, বাবার। পথের ধকল। আবার ফিরেও যেতে হবে। আবার ধকল। বাবা বলেনি কিছু। আমরা জানি। আমরা জানতাম। জানতাম বাবা আসবেই আজ। জানতাম ফিরেও যাবে।

ধীরে ধীরে এসে তুমি যেয়ো না গো ফিরে।

তবু যাবে। বাবা চলে যাবে।

আবার চলে যাবে? ফিরে? কোথায়? হাসপাতালে? বাবা চলে গেলে ... নাকি বাবা চলে গেলো বলেই

দীপ নিবে গেছে মম,

নিশীথসমীরে? নিঝঝুম

দুপুরে?

 

 

 

Saturday, July 23, 2022

ব্যক্তিগত শিক্ষা বিষয়ে

 ব্যক্তিগত শিক্ষা বিষয়ে

 

সিগারেট টানতে প্রথম শেখার পরেই

বাবার কায়দায়

সিগারেট ধরে রাখা আঙ্গুলের ফাঁকে

যত্ন করে রপ্ত করেছি। বাবার কাছেই

মার্ক্সবাদে হাতেখড়ি তবে 

আমাদের মার্ক্সবাদী পথ

ক্রমশ ভিন্ন পথে গেছে। শেক্ষপীর, চসার, ইয়েটস

এঁদের সাথেও পরিচয়,  প্রথমত বাবার কাছেই। যে রকম দাবা খেলা, থিন এরারুট খাওয়া

বাটার লাগিয়ে। শালীনতা সীমা পারকরা

বেশ কিছু গালাগালি, কিভাবে শুশ্রূষা করা

বেড সোর... আরো কত কি'যে

শিখেছি বাবার কাছে

ভুলে গেছি কেননা সেসব 

অজান্তেই রক্তে মিশে গেছে।

#

মা'র কাছ থেকে এখনো তেমন কিছু শিখিনি, কেননা

নিঃশর্ত মমতা ও মায়া

টের পাওয়া যায় শুধু, শিক্ষা করা

অসম্ভব 

প্রকৃত প্রস্তাবে।

Wednesday, June 29, 2022

২০০৬

২০০৬

 

" ইশ, শুধু নামই শুনেছি। হাতে নিয়ে

দেখার সুযোগ

হয়নি। পড়া তো দূরের... "

সেকেন্ডহ্যান্ড বইদোকান থেকে

কিনে আনা জন ক্রিস্টোফার

খন্ড গুলি দেখতে দেখতে বাবা বলেছিল।

যদিও এই মহাগ্রন্থ নাম

সেভেনে, বাবার মুখেই আমি, প্রথম শুনেছি।

বল্লামঃ " এখন পড়ে নাও। এখানে

যদি না পারো করিমগঞ্জ

নিয়ে চলে যেও। আমার জন্য আমি

আরেক সেট কিনে নেবো, ওই

বইদোকানেই

আছে"। বাবা মাথা নাড়লো। বইগুলি

কাছে রাখলো। তবে

পড়লোনা। নিলোওনা। প্রকৃত প্রস্তাবে

আমার তখন রীতিমতো অভিমান..

রাগই হয়েছিল।

আজ

আন্দাজ করতে পারি এরকম মহাগ্রন্থ, দীর্ঘ বই, নতুন ভাবনার কোনো মনোজ প্রোজেক্ট

নেওয়ার টেনশন

তখন আর বাবা

নিতে চায়নি। নেয়নি

তাই বইগুলি অনেকবার বলা সত্ত্বেও।

আমার পুত্রটি

পৃথিবীর নানাবিধ নতুন চিন্তার নানা বই

এনে দেয়। তার ইচ্ছা থাকে

আমি পড়ি। পড়ি আমি কিছু কিছু তবে

বেশির ভাগই যাকে বলে " ব্রাউস",

তা'ই করে রেখে দিই। টের পাই

পুত্রেরো অভিমান, রাগ...

ভাবি, সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা

বহনের সময়, বয়স

পেরিয়ে কি চলেছি আমিও?

সম্ভবত।  তবে

এই কথা পুত্র তার উনিশ, কুড়িতে

  বুঝবেনা। আমিও কি ২০০৬ সালে,

চৌত্রিশ বছর বয়সেও

বুঝেছি এ কথা?

#

প্রায় সব বইএর সঙ্গেই টুকরো টুকরো বাবা মিশে আছে।

ঘুম ঘর