প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label নাবিকী. Show all posts
Showing posts with label নাবিকী. Show all posts

Friday, April 3, 2015

হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা



হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা

 ১।

হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা, এসো ঘরে ফিরি।

যদিও এ পাল্প্‌ ফিক্‌শনে চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল
এ অভেদটি পুনরায় প্রমাণিত করা -
যে, হয়, সব ঘুঁটেকুড়ানিরা, আসলেই ডাল্‌সিনিয়া –
- রাজকন্যা -ডেল্‌ টবোসো – যদি সে প্রেমিক
ততোদূর বীর হতেপারে যতোটা বীরত্ব থাকলে
টিনের অসিটি ভরসা- আক্রমণ করাযায় “উইন্ড্‌মিল্‌”কেও ...
তথাপি রাজা ও গজা, মন্ত্রী আর পুরোহিতভায়া,
বিদূষক এবং পন্ডিত
আমাদের এ পাল্প্‌ গল্প নিয়ে
বিশ্বরূপ অন্যথায় অশ্বমেধহেন
হিংস্র রগড় চেয়ে
“ক্লাসিক্‌”, “এপিক্‌” বলে রটালো বাজারে ...
অর্থ হয়, অদ্যাপিও ঘুঁটেকুড়ানিরা
পেলোনা পুকুরে খুঁজে খোয়া যাওয়া রানীর মুকুট –
যদিও তুমি ও আমি, হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা,
চিরবীরখ্যাতিতে ভূষিত…

অতএব ভুলেগিয়ে সেইসব অলৌকিক অভিযানমালা
হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা, “উইন্ড্‌মিল্‌”, সরাই পেরিয়ে
এসো ফিরি সে গৃহেই ফের
যে গৃহ সাম্রাজ্য আজো সর্বজয়া, লীলাদিদিদের …

হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা, আমাদের কীর্তিকাহিনী
ধরাধামে সকলেই জেনেছে কিঞ্চিৎ! –
এরকমই শোনাগেছে চন্ডীমন্ডপে আর
আধ্যাত্মিক স্ট্রিপ্টীজ্বার্‌’
কারা যেন চোঙা ফুঁকে শহরে, বাজারে
রটিয়েছে সিনেমাইস্কোপে
দেখাযাবে আমাদের মারাত্মক ধর্মযুদ্ধগুলি!
( যাবে নাকি একদিন – চুপিচুপি –
দেখে আসতে ভোজবাজি
নিজ চর্মচোখে? -)
আরোও তাজ্জব বাৎ! হে স্যাঙ্গাৎ!
এনামেল থালাবাটি, জগমগ বন্ধক রেখে
বাইস্কোপ হলে গিয়ে – রাজকন্যা – ডালসিনিয়া – নিজে –
দুবার এসেছে দেখে আমাদের দৈব ইতিহাস!
এবং বেরিয়ে এসে শামুদা ব্ল্যাকারের কাঁধে মাথা রেখে চুপে
সত্যি সত্যি দুইদিনই অঝোরে কেঁদেছে…
অতএব ভুলেগিয়ে সেইসব অলৌকিক অভিযানমালা
হে স্যাঙ্গাৎ, স্যাঙ্কোপাঞ্জা, “উইন্ড্মিল্‌”, সরাই পেরিয়ে
এসো ফিরি সে গ্রামেই ফের
যে গ্রামে সে ডালসিনিয়া আজো
হয়তোবা পথ চেয়ে আছে আমাদের …

Sunday, March 29, 2015

পত্রলেখা





পত্রলেখা
এবার নিজের নামে একখানা চিঠি লিখতে হবে;
ইমেইল মেসেজ নয় – শুভঙ্করী কালি ও কলমে।

জমির দলিল, চিঠি, শ্রাদ্ধ ও বিবাহ চিঠিতে
বেশ্যাবোনের কাছে “আইনত” যাওয়ার হোটেলে
 এবং  সর্ববিধ “দরকারি” দস্তাবেজে, নীচে,
বাধ্যতামূলক লেখা – “পার্মানেন্ট এড্রেস” আর পিন্‌ ,
যে চিঠি নিজের নামে – ঘুণাক্ষরে তার লেফাফাতে
অস্থায়ী ঠিকানা থাকবে? “কেয়ার অফ্‌” এ “হে ঈশ্বর” আর
সম্বোধনে লেখা থাকবে – “ ওহে, তুমি –
জন্মান্তের ঘাতক আমার” ... ? ...

ঠিকানা “অস্থায়ী” তাই  ঐ চিঠি রি-ডাইরেক্ট্‌ হয়ে
উড়েযাবে নানাহাতে, নানারাতে, নানা অজুহাতে
বেশ্যাবোনের মতো – নানাদিন – নানা ডাকঘরে –
“স্থায়ী” ঠিকানার থেকে পলাতক আমি একা
শিয়াল ও কুত্তার সাথে ঝিঁঝিঁডাকা পথে নামলে পরে
চিঠির অক্ষরগুলি বিলুপ্ত কম্পাসহেন
আরেক মানচিত্র আঁকবে – অন্ধকারে – ঘুমের শিয়রে -

কখনো নারীকে নিয়ে





কখনো নারীকে নিয়ে
কখনো নারীকে নিয়ে বিশদ ভাবিনি।

বহুজন্ম পাশাপাশি, কাছাকাছি তবু
বৃক্ষনাম না জেনেই বৃক্ষতলে আশ্রিতের মতো
বেঁচে আছি – প্রেমে, কামে, ঘৃণায় আর রিরংসায়, মোহে –
রহস্যগ্রন্থের মতো প্রতিপত্রে শিহরণ শেষে
দেখেছি শেষের পৃষ্ঠা প্রতিবারই পোকায় কেটেছে।
কাহিনীকারের প্রতি অহেতুক নির্ভরতাহেতু
পাতা উল্টেগেছি আর কবিতাও লিখেছি, তথাপি
কখনো নারীকে নিয়ে বিশদ ভাবিনি ...
অদ্যাবধি আমি তাই
বয়ঃসন্ধিঘোরলাগা বালকের মতো
আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনি নারী নিয়ে যতো কেচ্ছা, যতো কানাকানি ...

যদিও নাড়ির টানে বহুজন্ম বাঁধাআছি তবু
কখনো নারীকে নিয়ে বিশদ ভাবিনি।

ঘুম ঘর