প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label ২০২৪. Show all posts
Showing posts with label ২০২৪. Show all posts

Sunday, April 28, 2024

পুরনো খাতা থেকে

 


সে কুন্তল

–-------------

বৃষ্টিদিন। জন্ম-ঋণ

অথৈ মেঘে মেঘে। নেই তো নীল —-

একটি চিল

উড়ছে ডেকে ডেকে

কার সে নাম? জল-পাতাতে লিখে

মেঘ-ঘোড়ায়

ওই যে ধায়

কোন পাড়ার দিকে? “বৃষ্টি হোক”

কার দু’চোখ

কোন জানালা থেকে

মিনতিময়? ঘুমেও রয়

শাপলা হয়ে ফুটে?

বৃষ্টিজল

অনর্গল

সে কুন্তলে ছোটে।

১।১১।২০১৭



সান্ধ্যছবি, শব্দ-রেখায়

–----------------------------

গুচ্ছগোলাপ, দ্রাক্ষাকুঞ্জ এবং পুচ্ছ বনময়ূরীর —-

অস্তরবির রশ্মিছটা, পাঁপড়ি —- মৃত শ্বেতকরবীর,

সন্ধ্যাগমে স্মৃতির রেখা পুঞ্জমেঘে নিমজ্জমান —-

নীড়াভিমুখ পক্ষীডানায় স্তব্ধ-মুখর গোধূলিতান।

দুর্গ-ছবির আনাচকানাচ অন্ধকার না কুজ্ঝটিকা?

দূর-ঝরোখায় একলা জ্বলে শব্দ, সন্ধ্যাদীপের শিখা।

#

শব-শকট, সব শকট হারালো পথ মন্ত্রবলে?

অশ্বারোহী সঙ্গী ছাড়াই আঙ্গুরকুঞ্জ পেরিয়ে চলে।

গুচ্ছ-গোলাপ হাতছানি দেয় অন্ধ শত নর্তকীদের —-

চক্রবালে প্রতীক্ষমান রথাশ্বগজ প্রেতপুরুষের।

#

স্ফটিক পাত্রে দাহ্য সুরা অস্ফুট শীৎকারের ঘোরে

ছড়িয়ে দিল দুর্গদোরে, শ্বেতকরবী, টুকরো করে।

#

অস্তমিত তখন গোলাপ এবং পুচ্ছ বনময়ূরীর।

উদ্ভাসিত শুধু তোমার শব্দগত নগ্ন শরীর।।


২৮।০১।২০১৮


Sunday, March 3, 2024

অযাচিত

 অযাচিত


১।

অনন্ত বারান্দা-রাত, হাঁকডাক, পড়শি স্বজন। কারো বিয়ে?

কি উৎসব? ভুলে গেছে মন। অযাচিত যে এসেছে

সে’ও ছিল পড়শী কখনো। তখনো তো আসতে পারতো,

আসেনি যে কেন …

তখনো তরজা-বেড়া, গ্রহপ্রান্তে ওঠেনি দেওয়াল। বেড়া ভেঙ্গে, পার করে,

তরকারি, টুকরো কথা বিনিময়-কাল। অনায়াসে আসতে পারতো

তরকারি, মাংস-বাটি দিতে কিংবা নিতে। ভুলে ফেলে যেতে পারতো

দুয়েকদিন চুলবাঁধা ফিতে। ফিরিয়ে দেওয়ার ছলে

বেড়া-ভাঙ্গা ট্রাঙ্ক-রোড ধরে যাওয়া যেতো

কেউ-নেই-কোথাও দুপুরে। যায়নি কিছুই ফেলে, অস্পষ্টও

ডাকেনি কখনো। গ্রহান্তর থেকে আজ 

অযাচিত এসেছেই কেন? কারো বিয়ে? কি উৎসব? ব্যস্ততার ধ্বস্ত বারান্দায়

কি করে জানলো প্রান্তে পাবেই আমায়? “কে কবে পেয়েছে কিছু,

কোনোদিন, খুঁজে? পাওয়া গেছে শুধু তা’ই, যখন এসেছে যারা,

নিজের গরজে”। — এতো দীপ্ত মেধা তার! এতো স্নিগ্ধ কথার গড়ন!

জানতেনা আগে তুমি? সত্য বলো, মন। 


২।


মন তো জানেনা সত্য। মন জানে মায়া। কোথায় সত্যের শুরু

স্মৃতিও জানেনা। কোন ঘাটে কত কড়ি কার কাছে দেনা –

কেবল স্বপ্নই জানে, নিত্য অনিত্য রাতে প্রত্ন মুখোশে

গ্রহান্তর থেকে বার্তা সে’ই নিয়ে আসে। অনন্ত বারান্দা-রাত

জুড়ে আজ কিসের উৎসব? হুড়াহুড়ি-রত ওই

কারা তারা সব? অযাচিত যে এসেছে প্রকৃতই যাঞ্চা তাকে

করোনি তুমি কি? নাকি এ মুখোশ-মুখ 

ভিন্নজন ? স্বপ্নে মুখামুখি? 

অনন্ত বারান্দা-রাত্রি, হুড়াহুড়ি ভিড়ে এক 

অবলুপ্ত, অযাচিত-জন –

মুখ না মুখোশ? 

জানবে, নিজের গরজে এসে জানাবে যখন। 


—- –

সপ্তর্ষি বিশ্বাস

৩/০৪/২৪





Sunday, January 28, 2024

খড়কুটো

 খড়কুটো

–-----







মা দেয় মেয়ের চুল বেঁধে৷ দুপুরের ছাতে

দিহাড়ী মজদুরি থেকে এক চুল আলস্য-সময়

আড়ালে আঁচলে বেঁধে নিয়ে

মা দেয় মেয়ের চুল বেঁধে৷ একজন দু:সাহসী,

সম্ভবত পরিচিত, বিড়াল- বালক

এনামেল থালাটির দিকে অবলীল এলে,

এনামেল থালা থেকে তুলে

কন্যার কিশোরী হাত কি এমন দেয় ওই

বিড়াল-বালকটিকে, যা তাকে উজ্জ্বল করে আর

‘আনন্দ’ শব্দটিকে লুফে

সে তার ছোট্ট থাবা দিয়ে

ছড়ায় এ দুপুর আর 

দুপুরের ছাতে? এনামেল থালা থেকে তুলে

কন্যার কিশোরী হাত

যা দেয়, যা'ই দেয়, তা

আমাদের আছে বা ছিলো কি

কোনোদিন?  আজ নেই৷ তবে 

ছিল —- শস্তা চিরুনী-দাঁতে আটকানো 

রুক্ষ একটি দু'টি চুলের মতন

মমতা, করুনা, প্রীতি —- এনামেল থালার এক ধারে

যত্নে জমিয়ে রাখা 

শাকভাত, মাছ-কাঁটা,মাংস-হাড়

মমতায়, প্রীতি, করুনায়৷ এ সবই অনেকদিন আগে

যদিও বিক্রি হয়ে গেছে, তবু এই

চুলবাঁধা ছবি, এই চিরুনিতে আটকে থাকা চুলে

টের পাই আশ্বাসের খড়কুটো আছে৷ 


–--- 


ঘুম ঘর