বাড়ি ফেরাঃ - দুর্গাপূজা ২০১৩
লুপ্ত দুর্গের
দ্বারে
মধ্যদিনে যবে গান
বন্ধ করে পাখি
লুপ্ত দুর্গের
দ্বারে দাঁড়িয়ে একাকী
ডেকে বলিঃ ‘আবার
এসেছি দেখো
আমি সেই মিথ্যাবাদী
বালক রাখাল
বাঁশি নেই, ধেনু
নেই, পরিধান সেই বৃক্ষছাল
নেই – তবে বুকে
পিঠে এসব উল্কিতে
আঁকা আছে তোমাদের
ঘৃণা, প্রেম, স্মৃতি ও চুম্বন –
জলদস্যু বেশে আজ
আভিযানে অবলীল তবু
সঙ্কেতে এঁকেছি সেই
কদম্বের বন
জাহাজের পালে আর
শোণিতের স্রোতের অতলে
যেখানে সে নাভিপদ্ম
চিতার চোখের মতো জ্বলে –
দেখো, দ্বার খুলে
দেখো – আমি সেই কবেকার লুপ্ত আলাদীন –
মৃত এ শহরে ফের
ফিরি করছি বেলোয়াড়ি শরতের দিন ...
অন্য কোনো দেশে
যাবো বলে...
যে শেখরদা শহরের
সমস্ত গলীতে
পায়ে হেঁটে বিলি করত
কবিতার তূলো ও পশম
আজ সে’ই শেখরদারি
হাঁটতে গেলে হাঁপধরে –
রিক্সা করে বাড়ি
ফিরে যায় ...
যাঁর আসা-যাওয়া
দেখে
মেলাতো ঘড়ির কাঁটা
শহরের বেবাক জনতা
সেই তিনি, গৌতমদা’র
বাবা, আজকাল মাঝরাতে জেগে
মশারি গুটিয়ে ফেলে
বলেনঃ ‘সকাল হলো –
যাই, হেঁটে আসি ...’
না, আমি এখানে নয়,
অন্য কোনো দেশে যাবো বলে
মধুকর ডিঙ্গাটি
ভাসিয়ে ভুল করে এখানে এসেছি –
যে ‘আমি’ এসব দেখে
পরদিন ভোরে
প্লেনে চড়ে উড়ে যায়
পুনরায় মমিদের দেশে
না, আমি এখনো সেই ‘আমি’কে
চিনিনা -