প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Thursday, July 9, 2015

ডাকঘর






ডাকঘর

১।।
কার ঠিকানার খোঁজে সকাল দশটার থেকে এ ধূসর গোধূলি অবধি
হে বয়স্ক, নিবিষ্ট পিওন, সুস্পষ্ট ক্লান্ত আপনি
অলিগলিময় এই পাড়ার জঠরে?
প্রতি ধূর্ত্ত বাসিন্দাই অস্বীকার করছে এই খামে লেখা ঠিকানা ও নাম?
পুরোহিত ও পুলিশ যুগপৎ আড়ালে বলছে ডাকতে
এ চিঠির  গোপন নিলাম?

গোধূলির হে নিবিষ্ট, বয়স্ক পিওন
এ পাড়ার আটটি কুঠুরি আর নয় দরজা ঘুরে দেখা হলে
প্রাপকের চিহ্ন যদি প্রকৃতই না মেলে তাহলে
জানবেন ঘুণাক্ষরে এ পত্রের প্রাপক আমিই –

নাড়তে হবেনা কড়া। আপনার পথ চেয়ে আমার জানালা
খোলা থাকে রাত্রিদিন। তাই কেউ  “স্পাই” বলে, কেউ বলে সাজানো পাগল –
আসলে জানেনা এরা আপনি এই সভ্যতার শেষ রাজা আর
আপনার পত্রাকাংখী আমি সেই শেষতম বালক- অমল-





২।।
পৃথিবীর সব অক্ষে, সব দ্রাঘিমায়
প্রাপকের ঠিকানা অথবা
ঠিকানায় প্রাপকের হদিশ না পেয়ে
ফিরে আসে যে সকল পোস্টকার্ড, খাম ও গ্রিটিংস্‌-
-হে ডাকবিভাগ কর্তা – পৃথিবীর – মহাপৃথিবীর –
প্রত্যাখ্যাত সে সকল পত্র গুলি তুমি
আমাকে পাঠিয়ে দিয়ো – দয়া করে – শেষ ডাকে – প্রতি গোধূলিতে –


সে এক হরকরা কবে মৃত্যুশয্যাশায়ী এক সম্রাটের পত্র নিয়ে একা
– শোনা যায় – অশ্বারোহে নেমেছিল পথে –
পেরোতে পারেনি তবু প্রাসাদের প্রাচীর, সীমানা –
কতো যুগ? নগরের পথে পথে
কাগজে কুড়িয়ে ফেরা
অমল জানেনা...


রবীন্দ্রনাথ ও কাফ্‌কা স্মরণে...

ঘুম ঘর