প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Saturday, June 30, 2018

রাতকাহন



[ প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে যে অক্ষরগুলিকে পার হয়ে এসেছিলাম আজ তাদের ছায়াতে বসে টেরপাই তারা জীবিত অদ্যাপি।
 টেরপাই তারা অন্য অবয়ব চায় ...]


রাতকাহন

১।
হিম হিম চাঁদ
একফালি রাত
কুয়াশা চাদর
শীতাতুরা নদী
কোথাও আগুন
জ্বলে ধিকি ধিকি

আগুন পোহানো
দিনগুলি যেন
ওই পরপারে
জেগে আছে আজো
তুমি তো নৌকো
পুড়িয়ে এসেছো
তবে কেন ভাবো

তবু জেগে থাকো
লেখা ও লেখনী
নিয়ে একা একা
অযুত রাত্রি
যেন তান্ত্রিক
নিরত চক্রে

আত্মা নামাবে
মদ ঢেলে খাবে
নিজ করোটিতে
যোনিপদ্মের
ঘ্রানে তারপর
মেলে দেবে ডানা

যেন রাতপাখি
অথবা বাদুড়
লাশ হয়ে ঝোলে
বিজলীর তারে
নিথর ডানায়
পরের সকালে

রাত্রি কাহন
চুপে লেগে থাকে
নিথর ডানায়
তবুও আগুন
জ্বলে ধিকি ধিকি
তোমার পাখায়?

২।
চরাচরে কেউ
নেই আর জেগে
নাকি চরাচর
হারিয়ে গিয়েছে
নিজেই কখন
কোনো কুয়াশায়

গাছেরা ঝাপসা
কুয়াশা চাদরে
গলা জড়াজড়ি
কাছে দূরে তারা
খসে খসে যায়
নদীর নাভিতে

ছবি ভেসে আসে
বর্শাবাতাসে
ফের যায় মুছে
এই কি চেয়েছো
জীবনের কাছে
মরনের কাছে

বানানো ছন্দ
সাজানো গোছানো
লাশ হয়ে ঝোলে
বিজলীর তারে
নিথর ডানায়
পরের সকালে।।
২১ জানুয়ারী ২০০১, গৌহাটী
ফিরেলেখাঃ ৩০ জুন ২০১৮, বেঙ্গালোর

ঘুম ঘর