কাগুজে
“কোথায় চলেছ পৃথিবী
তোমারও নেই ঘর
আছে ঘরের দিকে যাওয়া” – কোথায় চলেছ পৃথিবী, অমিয় চক্রবর্তী
পৃথিবীর ঘর নেই। যাওয়া আছে
ঘরের দিকে। আমারও ঘরের দিকে
যাওয়া আছে। ঘর নেই। বই
ঘরভর্তি আছে। অক্ষরজ্ঞানের পর থেকে
বই আর অক্ষরে অক্ষরে
ছাত্র পাঠক নাকি
উইপোকা আমি? জানিনা এখন আর
তিপ্পান্ন বচ্ছরের পরে
চাইনা জানতেও। তবে টের পাই
দেখতে শুনতে মানুষের মতন হলেও
আমার প্রত্যঙ্গ অঙ্গ হাড্ডি চামড়া
কাগজেই গড়া। মগজেও অক্ষরের
উপনিবেশ আর আমার সকল মত
মতামত কখনো বা কখনো
কোনো কাগজে মুদ্রিত। তাই হাড্ডি
জল করে যারা
তাদের নিকটে যাওয়া
হবেনা কখনো। কাগুজে মানুষ
কাছে গেলে হাড্ডি জল করা মানুষেরা
ভীত হয়। লাগাবাসা থেকে
কাপ চেয়ে এনে প্লেট ধুয়ে
চা জোগায়। হাওলাতে
বিস্কুট এনে প্লেটে রাখে
ভিতু ভিতু হাতে। কাগুজে মানুষ
চলে গেলে
হাড্ডি জল করা মানুষেরা
হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। যদি কেরোসিন ঢেলে
কাগজের আমিটিকে
আমূল পোড়ানো যেতো তবে
হাড্ডি মাংসের আমি
ভুবন পাহাড় থেকে
আসতো কি
ফিরে?