দ্বৈপায়ন ব্যাসের কবিতা
১।
সঞ্জয়, বিদুর কিংবা তৃণভোজী সহদেব নয়
আমাকে অন্তিম দৃশ্যে দুর্যোধন, কর্ণ কিংবা
ভীষ্ম ভূমিকাতে মঞ্চে হাজির করো, অথবা বিজনে
শরশয্যা পেতে দিও পিগ্মীদের বিষমাখা বাণে –
আমাকে বিশিষ্ট করো নিরুত্তর দাহ্য অনুধ্যানে...
অন্তরালে ক্ষত তবু জনতার কেউ নই জেনে
একাকী জলধি ঘেরা পৃথিবীর শেষ কৃষ্ণদ্বীপে
লিখেযাবো বার্তাগুলি – গুহাগাত্রে, শিলায়, পাথরে –
দ্রৌপদীর প্রীতি নয়, ভক্তি নয়, উইংসের পাশে
দুঃশাসন হেন তার নারকীয় চুল ছিঁড়ে আমি
বীরের মতন মরব শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীগীতার মুখে তুড়ি মেরে –
আমার কোতল চেয়ে মিটিং, মিছিল করবে মৃত সৈনিকেরা,
তথাপি হবোনা আমি ‘আরেকজন’ তৃণভোজী জনতার ভিড়ে।।
২।
আমার সমস্ত পাপ সোনার ঘড়ায় ভরে আমি
পুঁতে রেখে চলে যাবো পৃথিবীর শেষতম শমীবৃক্ষ তলে।
আপামর ধর্মস্থানে মেয়েদের শৌচাগারি আমি
রেখে যাবো সন্ধানের সাংকেতিক লিপি ও জ্যামিতি।
শুধু সেই খোঁজ পাবে যে আজো নিঝুম রাতে বোধিবৃক্ষতলে
ধ্যানে নয় – মেতে ওঠে মর্ষকামী তুমুল সঙ্গমে।
দানবের অনির্বান ধিকিধিকি চিতার হবিতে
বিড়ি জ্বেলে নিয়ে আমি গণিকা বোনের পিঠে চুপে
ছ্যাঁকা দিয়ে লিখে রাখবো এ জন্মের লব্ধ অভিজ্ঞান –
অমৃতের পুত্র নয় – দেবতার আমি শেষ জারজ সন্তান।।
৩।
এ জীবন কতো ব্যাপ্ত টের পাই মাঠে শুয়ে
সমুদয় চিতা নিব্লে মেঘহীন নিদাঘের রাতে।
এ জীবন কতো ক্ষুদ্র জানা যায় রাতে হাঁটুমুড়ে
নারীর উরুর কাছে, যোনি চিহ্নে, সিক্ত ইশারাতে...
আমি’ত জেনেছি দুই’ই – জেনে যাবো আমরন – তবু
ব্যাপ্ত না আবদ্ধ আমি মুহুর্মুহু এই প্রশ্ন নিয়ে
নিয়ত ফিরিয়ে দিয়ে শূন্যগর্ভ নীতিকথা,ধর্মকথা গুলি
নিজেরি পাঁজরে ঘষে আমার অসিটি আমি নিয়েছি শানিয়ে –
নিহিত পাতালই জানে আমার সমস্ত পাপ, খোয়া যাওয়া পুণ্য ইতিহাস –
নিমন্ত্রণে নয় – জেনো – তোমাদের প্রত্যাখানে প্রকৃতার্থে আমার উল্লাস।।