কবির স্বদেশ
১।
বিলুপ্ত জ্যোৎস্নার রেখা আজো নগ্ন বাঁধানো
উঠানে।
- এটুকুই বিলাসিতা, যৌনাচার,এটুকুই বিষন্ন
সম্বল।
দূরের ট্রেনের শব্দে রাত গুলি ঢেউএর মতন ...
অথচ আমার কোনো গন্তব্য ও পথশেষ নেই।
প্রবল ধারার মতো আছ্ড়ে পরা নেই কোনো
নির্ধারিত প্রবল প্রস্তরে।
কেননা কবির কোনো বিধিবদ্ধ স্বদেশ থাকেনা।
শুধু এক জ্যোৎস্না থাকে, পরী থাকে,
আর থাকে অন্তর্গত নিজস্ব ভাসান।
বিলুপ্ত জ্যোৎস্নার রেখা নগ্ন দেহে শুয়ে থাকে
বাঁধানো উঠানে।
- এটুকুই বিলাসিতা, যৌনাচার,এটুকুই বিষন্ন
সম্বল।
অনেক জন্ম আর শ্মশানের ভিড়ে
কবিজন্ম পদ্মপাতে একবিন্দু নীল নোনাজল।
২।
প্রকৃত কবির কোনো নিরাপদ স্বদেশ থাকেনা।
যে দেশেই মাঠ পার হয়ে -
- হয়তো বরফে ঢাকা, অন্যথায় প্রগাঢ় সবুজে -
সন্ধ্যাবেলা একা একা দিগন্তের পথে হাঁটে একটি
বালক
সে সমস্ত দেশেতেই যাপনের তাঁবু ফেলে এক যুগ বাস
করে কবি।
তারপর আর জন্মে একা হেঁটে চলে আসে কবি।
চলে আসে যেখানে মেয়েরা
মায়াময়ী নার্স থেকে মধ্যরাতে তুমুল গণিকা -
অথবা লেনিন-বাণী, দাদের মলম আর হস্তরেখাবীদ
যেখানে বসত করে -পাশাপাশি -গলীর দেওয়ালে...
সেখানেও অবলুপ্ত জ্যোৎস্নাটির রেখা
নগ্ন দেহে শুয়ে থাকে নোংরা উঠানে।
- এটুকুই বিলাসিতা, যৌনাচার,এটুকুই কবির সম্বল।
প্রতিটি বিদেশ তাই প্রকৃত কবির মর্মে
ধীরে ধীরে প্রাকৃত স্বদেশ হয়ে ওঠে।
প্রকৃত কবি'ই শুধু জানে
নীলাকাশ,নীলাঞ্জন, গুহাতে সাধনা শুধু নয় -
সিফিলিসে পুড়ে যাওয়া যোনির থেকেও
কবিতার মৃত্যুহীন জন্ম হতে পারে।।