প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Sunday, May 22, 2016

“শৈল রহস্য”



“শৈল রহস্য”

ব্যোমকেশের “শৈল রহস্যের” একটি বৈশিষ্ট ( নিশ্চিত মাননীয় সুকুমার সেন ইহা মিস্‌ করিয়াছেন) এই,যে, হয়, এই কাহিনী তিনটি জবানবন্দীতে লিখিত।
একঃ পত্রলেখক ব্যোমকেশ স্বয়ং
দুইঃ পত্রলেখক অজিত
তিনঃ গপ্পোকার অজিত, থুড়ি, অজিত বন্দ্যোঃ।
এবং অবশ্যই চতুর্থ জবানীটি লেখক শরদিন্দুর।
শরদিন্দুর জবানীটি অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়ার পূর্বশর্তঃ
একঃ ব্যোমকেশ ও অজিতের পত্ররচনার কায়দার মিল এবং অমিল খতিয়ে দেখা।
দুইঃ পত্রলেখক অজিতের লেখনভঙ্গির সঙ্গে এই কাহিনীর ‘ভাষ্যকার’ অজিতের লেখনভঙ্গির তারতম্যের হদিশ।
তিনঃ এই কাহিনীর ‘ভাষ্যকার’ অজিতের লেখনভঙ্গির সঙ্গে অন্য সকল ব্যোমকেশ-গল্পের ‘ভাষ্যকার’ অজিতের লেখনভঙ্গির যোগসাজস।
পত্রলেখক ব্যোমকেশ ও পত্রলেখক অজিতের লেখনভঙ্গিতে সাযুজ্যসম্ভাবনার কথা সম্ভবতঃ শরদিন্দুর মর্মেও উদয় হয়েছিল নতুবা ব্যোমকেশ কেন তার পত্রের আরম্ভেই তার পত্রলেখার দস্তুরী নিয়ে শিবের গীত গাইবে এবং সম্পূর্ণ পত্রটি অসম্ভব গল্পকারসুলভভাবে লেখা সত্ত্বেও কেন লিখবে “গল্প বলার আর্ট জানা নেই বলেই বোধহয় পরের কথা আগে বলে ফেললাম”? – প্রকৃত প্রস্তাবে, “পরের কথা” আগে বলার এই কায়দাও গল্পকারসুলভ কেননা এই “পরের কথা”তেই রয়েছে অশরীরী আত্মার উপস্থিতির ইঙ্গিত যা পত্র পাঠক তথা গল্প পাঠককে কৌতুহলী করে তোলে সবিশেষ।
ব্যোমকেশ ও অজিতের পত্রে ভাষা প্রয়োগগত কোনো ব্যবধান নেই। বরং অজিতের পত্র ‘অজিত বন্দ্যোঃ’র বাচনভঙ্গির থেকে ঢের সরল রৈখিক। তারতম্য প্রতিক্রিয়ায়। হৈমবতীদর্শনে অজিতের সিক্ত, শুভ্র বসনা রজনীগন্ধার উল্লেখ ততোদূর ভাষাগত ঊর্ণাজাল নয় যতোটা মানসিক প্রতিক্রিয়াগত। পক্ষান্তরে, উদাহরণ হিসাবে, “অর্থম্‌ অনর্থম” এ সত্যবতী-বর্ণনে অজিত কবি।
পত্রলেখক ব্যোমকেশ ও পত্রলেখক অজিতের লেখনভঙ্গিতে সাযুজ্যসম্ভাবনার মর্মে এই মনস্তত্ত্বও অসম্ভব নয়, যে, ব্যোমকেশ, হে হোক যতোই তুখড়, হোক্‌ যতোই ‘সাহিত্য-ওয়েল্‌রেড’ ( নানা কাহিনীতে, নানা স্থানে তার রবীন্দ্রউদ্ধৃতির কথা’ই যদি শুধু ধরা যায়) তথাপি সে লেখক নয় অতএব ‘লেখক’ অজিতের লেখ্যভাষাদ্বারা সে অজান্তেই আক্রান্ত। অর্থাৎ অজিত নয় ওয়াট্‌সন্‌ যার লেখ্য ভাষার উপরেও হোম্‌সের কটাক্ষ এবং অবদান বিদ্যমান। অজিত একজন পুরাদস্তুর লেখক এবং তৎকারণে তার ভাষাভঙ্গির দ্বারা তার নিকটবন্ধুর ভাষাভঙ্গি প্রভাবিত হওয়া অতি স্বাভাবিক।
অবশেষে ব্যোমকেশের কথা ধার করেই বলি “সত্যি কি ভেবেছিলেন তা জানেন কেবল শরদিন্দু। আমি মোটামোটি যা আন্দাজ করেছি, তাই তোমাদের বলছি’...

ঘুম ঘর