প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label স্বপ্ন পদাবলী. Show all posts
Showing posts with label স্বপ্ন পদাবলী. Show all posts

Wednesday, February 10, 2021

কাহিনী

কাহিনী 

'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
কাঠের দোতলা বাড়ি। অচেনা শহরে
মধ্যরাত। মেঘ। তাতার বাতাস
ফিরছে , নিশিডেকে গলিতে, সড়কে।
এমত আবহে 'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
মোমবাতি হাতে নিয়ে কাঠের সিঁড়িটি বেয়ে
থমকে দাঁড়িয়ে পড়ি নামতে গিয়েও।
আমি কি 'সাইমন' না'কি
অন্য কেউ? ভাবি, সাইমনই
খুলে দিয়েছিল নাকি
দরজাটি? না'কি সে খোলেনি?
যে ডাকছে সে ফিরে গিয়েছিল না'কি
ঘাতকের ছুরি তার পিঠে বিঁধেছিল?
মোমবাতি হাতে ফিরে এসে
হাতড়াতে থাকি গ্রন্থগুলি।
এই পর্বে কোন গ্রন্থ থেকে কোন দৃশ্য
অভিনীত হবে, আমি কোন চরিত্র – সকলই
বলে দিয়েছিল কেউ, কোনোদিন,
কোনো এক পান্থশালাতে।
এখন কিছুতে আমি
মনে আনতে পারছিনা গ্রন্থনাম এবং আমার
চরিত্র, ভূমিকা কিংবা
কাহিনীর পরিণতি। তবু
'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
কাঠের দোতলা বাড়ি। অচেনা শহরে
মধ্যরাত। মেঘ। তাতার বাতাস
ফিরছে, নিশিডেকে গলিতে, সড়কে …

৯/২/২০২১

[ আমার স্বপ্নগুলি সচরাচর অদ্ভুত রকমেরই হয়। আজকের স্বপ্নটা যেন আরোও অদ্ভুত। এই স্বপ্নে

আমার বাস্তব স্ত্রী'ই আমার পত্নী। আমাদের শিশুপুত্র আছে একজন। তাকে, একজন আয়ার দায়িত্বে রেখে
বেড়াতে বেরিয়েছি। কিন্তু সঙ্গে যে যুবতীটি সে আমার পত্নী নয়। … বেড়াতে বেরিয়েছি। অচেনা শহর। মেঘলা ঘোধূলি। আমার সঙ্গিনী মেয়েটির পরনে কিরিস্তানি বিবাহ-পোশাক। আমরা শহরের সমস্ত কবরে যাচ্ছি। ফুল রাখছি, বোকে রাখছি। সামান্য পেছনে আমার বাবা ও মা। স্বপ্নে বাবা-মা'র বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। আমিও যুবক। সঙ্গের রমণীটি অত্যন্ত কামোদ্দীপক। গরম যুবতী।
এক সময় স্থির হলো বাড়ি ফেরা হবে। বাড়ি মানে পাহাড়ি শহরের কোনো বাজার রাস্তার কোনে আসাম-টাইপ, তবে দোতলা একটি বাড়ি। একতলায় মা-বাবা থেমে গেলো। দোতলায় ওঠামাত্র ফরাসী আয়াটি আমার সঙ্গিনীটিকে ঝামড়ে উঠলোঃ 'এতো কম বেতনে কি এসব পোষায়? এরপরে, ডিউটি আওয়ার শেষে বাচ্চা দেখলে এক ঘন্টায় এক গিনি...' সঙ্গিনীও কিছু বল্লো তাকে। অতঃপর বিছানায়, ঘুমন্ত শিশুর পাশে শুয়ে পড়লো সে'ও। তখনো সন্ধ্যা হয়নি। নোংরা মেঘে আকাশ আবৃত। দোতলার জানলা থেকে আমি গলীর মোড়ের দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছিলাম যেন কারো। … সে এলো। সে আমার বাস্তবের স্ত্রী। স্বপ্নে সেই কলেজ বয়সী। আমার সঙ্গিনীর সাথে এখন যে ঘুমন্ত শিশু সে আমার আর আমার পত্নীরই ছেলে। পত্নী তাকে দেখতে এসেছে। লুকিয়ে। আমিও চাই সে দেখুক। চাই সে'ই নিয়ে যাক আমাদের শিশুপুত্রটিকে। … তবু যদি অধুনা ঘুমন্ত এই যুবতীটি দেখে ফেলে, তবে …
তবে ঠিক কি হবে কেজানে। তখুনি খেয়াল হল এরপরে কি যে হবে সবই লেখা আছে হুগো'র উপন্যাসে, 'লা মিজারেবল্‌' এ। কিন্তু কোথায় পাই 'লা মিজারেবল্‌'? ভাবছি আর শুনতে পাচ্ছি ফিসফিস স্বরে বৌ আমাকে ডাকছে নিচ থেকে। ভয়ে ভয়ে আমি দেখছি যুবতীটির ঘুম ভাঙ্গলো কিনা। না, ভাঙ্গেনি। আমি ছেলে কোলে করে পেছনের লোহা-সিঁড়ি বেয়ে আমার বৌ'এর দিকে যেতে ভাবছি - কি হবে? আমাকে কি আমরণ থাকতে হবে না'কি এই রতিপটিয়সী তবু বদমেজাজ যুবতীর সাথে? আমার বৌ'এর সাথে পুনর্মিলন হবে না'কি কোনোদিন আর? তখন আবারো মনে এলো এরপরে কি যে হবে সবই লেখা আছে হুগো'র উপন্যাসে, 'লা মিজারেবল্‌' এ। কিন্তু কোথায় পাই 'লা মিজারেবল্‌'?

এরপরে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘোর কাটলে ধীরে ধীরে লেখা হলো কবিতাটি ]



Thursday, January 28, 2021

কে যেন জলের কল খোলা রেখে চলে গেছে ...

কে যেন জলের  কল  খোলা  রেখে  চলে  গেছে ...

 


কে যেন জলের কল খোলা রেখে চলে গেছে আর

সরুরেখা জল ঝরছে উপচে ওঠা বালতিতে, তার

শব্দে কাঁপছে অচেনা শহরে জোড়া ঘরবাড়ি গির্জা,গম্বুজ।

 তোপের আওয়াজে কারা প্রহর ঘোষণা করল এইমাত্র ,তবু

"রাত কত হল" ঠিক বোঝাই গেল না । আকাশেও তারা বলতে

সংখ্যাতীত 'কালপুরুষ' শুধু। কম্পাসের কাঁটা

উন্মাদের মতো ঘুরছে, অবিরাম,  "এন্টি ক্লকওয়াইজ" ।

 কে যেন জলের কল খোলা রেখে চলে গেছে, তাই

একটি একটি করে গ্যাস পোস্ট চলে গেল

জল-শব্দ-উৎস সন্ধানে। লোকজন,  কাকপক্ষী কেউ নেই রাস্তাঘাটে তবু

 ত্রিনয়নী ট্রাফিক সিগন্যালের তিন চোখই নিবিড় রক্তিম।

সরুরেখা জল ঝরছে খোলা কোনো কল থেকে আর

সেই শব্দ ছাপিয়েও কানে ভেসে আসছে পদশব্দ – খুনীটির? নাকি কোনো

গণিকা-বোনের? তবে এ শহরে আজ আমি আর দৃশ্যাতীত আততায়ী ছাড়া

আমি আর নামহীন বেশ্যা-বোন ছাড়া

কেউ নেই? অন্য কোনো আখ্যান ও কি নেই

 তোমার ঘুমের তূণে, গো রজনী, গো রমনী,

  'এক্সিট' বিহীন এই খাঁখাঁ করা প্রেক্ষাগৃহ ছাড়া?

 

২০—২৮/ জানুয়ারী, ২০২১

বেংগালোর


Thursday, August 4, 2016

স্বপ্ন পদাবলী | স্বপ্নঃ জুলাই ৭, ২০১৬





স্বপ্ন পদাবলী

স্বপ্নঃ জুলাই ৭, ২০১৬
১।
বাবা পত্রিকা পড়ছে।
দিশী স্টেট্‌স্‌ম্যান্‌ থেকে কোনোও খবর
শোনাচ্ছে মা’কে।
মা’র তাড়া পাকঘরে দ্রুত ফিরবার।
তবু শুনছে। হাতে খুন্তি নিয়ে।
শাড়ির আঁচল দিয়ে কান, মাথা ঢাকা।
হয়তোবা শীতকাল। তবে
বাবার পরণে দেখি
সূতির গেঞ্জী আর শাদা লুঙ্গি শুধু।
গ্রীষ্মকাল তবে কি বাবার?
কোনের জান্‌লার পর্দা মাঝে মাঝে সড়ে যাচ্ছে হালকা হাওয়াতে।
সামনের বারান্দায় জমা অন্ধকার থেকে
এই ছবি দেখা যাচ্ছে নিওন আলোতে।
আমরা কি ইস্কুলে পড়ি?
না’কি সদ্য কলেজ ছুঁয়েছি?
এই দৃশ্যে মা’বাবা দুজনই বড়জোর চল্লিশ পেরোনো।
কোনো দূর সন্ধ্যার এই এক টুকরো ছবি
কোনোদিম মন টুকে রেখেছে কোথাও।
অনাথ যাপনে আজ
ছবিগুলি উড়ে আসে
ঘুমের গহনে গাঢ় সাইরেনের মতো…

বারান্দাটা আর নেই।
বারান্দার সিঁড়ির কিনারে
আমার নিজস্ব সেই অন্ধকারও নেই।

তবু আছে। মনেহয় আছে।
কার কন্ঠে বাজে গানঃ
“হে পূর্ণ তব চরণের কাছে…”

ঘুম ঘর