প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...
Showing posts with label টাইম মেশিন. Show all posts
Showing posts with label টাইম মেশিন. Show all posts

Wednesday, March 29, 2023

কার্তিক চন্দ্র সাহা'র অন্তিম কবিতা

 কার্তিক চন্দ্র সাহা'র অন্তিম কবিতা


আমি শ্রী কার্ত্তিক চন্দ্র সাহা। জেলা করিমগঞ্জ। পোষ্ট অফিস ফকিরাবাজার। ব্যবসায় বাবার আমদানী ভালো তাই কলেজে গেছি, বি.এ পাশ করতে পারছি। বেকারত্বের দুশ্চিন্তাও নাই মনে। এখনো বিয়া শাদি করিনাই। দিন কাটাই পথে পথে ঘুইরা। আড্ডা দিয়া আর বিড়ি সিগারেট টাইন্যা।

একেকদিন ভাবি যাই গিয়া। যাই গিয়া এই ঘরবাড়ি ছাইড়া, এই গ্রামগঞ্জ ছাইড়া। যাইগিয়া এই বাজার, শ্মশান, হাসপাতাল, কবরিস্থান সব পার হইয়া। যাই গিয়া 'নিরুদ্দেশ' হইয়া। কিন্তু আমি জানিনা 'নিরুদ্দেশ' ঠিক কুন দেশ তবে আমি জানি আমি নিরুদ্দেশ হইলে আমার মা'বাপের কষ্ট হইব। বড়দা,মেজদারো হইব। বৌদির হইব। ছুট বইনটা আমার ন্যাওটা। তার কষ্ট বেশী হইব। কিন্তু  হেইটাও জানি, যে, আমি শ্রী কার্ত্তিক চন্দ্র সাহা, আমার লেইগ্যা আটকাইয়া থাকতোনা কিচ্ছুই। তে’ও একেকদিন ভাবি যাই গিয়া। যাই গিয়া ই ঘরবাড়ি ছাইড়া, এই গ্রাম গঞ্জ ছাইড়া। যাইগিয়া এই বাজার, শ্মশান, হাসপাতাল, কবরিস্থান সব পার হইয়া। যাই গিয়া 'নিরুদ্দেশ' হইয়া।

আমি জানিনা 'নিরুদ্দেশ' ঠিক কুন দেশ , আমি জানি ‘নিরুদ্দেশ’ এমন এক দেশ যেখানো দিনের বেলা যাওন যাইত না।

ছুটো জেগাত সবে সবরে চিনে। বাসো-গাড়িত উঠলে চিনা মাইনষের হাজার সওয়াল। 'কিউরিসিটি'। 'কই যাও', 'কেনে যাও', 'কবে আইবায়'... ই সমস্ত কারণে গঞ্জ, গ্রাম, মফস্বলো মানুষ, হয় নিরুদ্দেশ যায়না আর যুদি যায়, তে তারে লইয়া মাতামাতি করলেও, পোস্টার লাগায় না, পত্রিকাত বিজ্ঞাপন দেয় না।

 একদিন শেষে আমি ঠিক-অই বাইর হইয়া গেলাম। মনে মনে ই ঘরবাড়ি ছাইড়া, এই গ্রাম গঞ্জ ছাইড়া। এই বাজার, শ্মশান, হাসপাতাল, কবরিস্থান সব পার হইয়া গেলাম হাটতে হাটতে। হাটতে হাটতে আমার চুল লম্বা অইল, দাড়ি লম্বা অইল, হাতের, পাউএর নউখ লম্বা অইল। হাটতে হাটতে হাটতে হাটতে পকেটের পয়সাকড়িও ফুরাইল আস্তে আস্তে।

তারপরে একদিন আমি আর হাটলাম না। আমি রাস্তার সবচেয়ে কাছের জঙ্গলো ঢুইক্যা পছন্দমতো একটা গাছের কিনারো দুই হাত মেইল্যা দাড়াইলাম আর মনে মনে, দিনে, রাইতে, দুফরে, বিকালে,রইদে, বিষ্টি এ, ঝড় এ,তুফানে আমার শরীর অ গজাইল শক্ত বাকল। আমার হাতে পায়ে হইল পাতা আর ফুলের সংসার। আমার ডালো আইয়া ব’য়, জিরায়, ঝগড়া দরবার করে হাজার কিসমের কাকপক্ষী আর মনোহয় একেকদিন, যে কুনুদিন হই পাখিটাও আইব ...

আইব, আইয়া বইয়া, জিরাইয়া আবার যাইব গিয়া উইড়া অই পাখিটাও যেটার  জেলা করিমগঞ্জ। পোষ্ট অফিস ফকিরাবাজার আর যেটা থাকে অই সপড়িগাসো যে বাসার ছুটো ছেলের নাম আসিল শ্রী কার্ত্তিক চন্দ্র সাহা।

যে অনেক বচ্ছর ধইরা সপড়ি গাছ হইয়া আসে হই পুকুরপাড়ো।

১২ /০২/২০২১ – ২৯/০৩/২০২৩

বেঙ্গালোর

 

 

Thursday, May 6, 2021

খড়িতে লিখিত কথা

 খড়িতে লিখিত কথা

 

আমাদের কথা

 আমাদের পাথর ভেঙ্গে যাওয়া

আমাদের দাঁড় টেনে গান গাওয়া

আমাদের মাছ নিয়ে যায় চিল

আমাদের পদ্যে অন্ত্যমিল

 #

আমরা মাত্রা বুঝিনা

আমরা ছন্দ খুঁজিনা

আমাদের অন্ধকারে ঢিল

আমাদের পদ্যে অন্ত্যমিল

#

 আমাদের একটিও নেই বাঁশি

তবু মনটা বনবাসী

খোঁজে সমুদ্দুরের নীল

আমাদের পদ্যে অন্ত্যমিল

 #

আমাদের পদ্যে অন্ত্যমিল

আমাদের মাছ নিয়েছে চিল ।।


পাতা ঝরে

 পাতা ঝরে।

ঝরেছিল।

ঝরবে, ঝরুক।

ভুলেযাবো,

ভুলেযাই , রোজই ,

কিছু চোখ

কিছু কিছু মুখ।

#

মুখাগ্নিতে সব মুখই ধূসর, উজ্জ্বল

স্বাতী নক্ষত্রের থেকে ঝরেপড়া জল

চেয়েছিল সব মুখই

দৃষ্টিছাড়া চোখে

#

                      কেউ পেলো?

#

নিঝুম উঠান ভরে

                   পাতাদের শবে।

 

 শার্দুল

 স্মৃতি মরু? মরীচিকা? ক্ষত ? ক্ষতস্নান ?

দীপ? শিখা? না'কি শুধু

মনগড়া ভুল ?

শেষ দৃশ্যে তোমাকেও, জেনো,

গিলে খাবে স্মৃতির শার্দুল ।

 অমৃত

 ঋণ কর –

মদ খাও,

কুক্কুট-মাংস খাও

দিয়ে গব্য ঘৃত

কেননা প্রতিটি কানা

জানে মনে মনে

গণিকা-ভগিনী-যোনি-

ভিন্ন নাহি

কোনোও অমৃত।

 

ভস্ম ঝরে পড়ে

 টানা

ঝুল বারান্দার শেষে

আরামচেয়ারে বসে

খবরকাগজ পড়ে

আমার জীবন ।

আমার যাপন ফেরে

ভিক্ষা করে

নগরে বন্দরে

নানাদিন

নানা ভেক ধরে ।

আর

দূরে,

গ্রহান্তরে

জীবন ও যাপনহীন

আমি

পুড়ি

একা।

এই গ্রহে

ভস্ম ঝরে পড়ে।

 

আমাদের সকল সঞ্চয়

আমাদের সকল সঞ্চয়

অপচয়

হয়ে যায়

আমাদেরই ভাগ্য-প্রতিভায়।

অন্যথায়

জীবনের যমজ যাপন

সারাক্ষণ

মাছির মতন

খেয়ে যেতো দৈব অভীপ্সায়

আমাদের সব রক্ত

সব অভিপ্রায় ।

 

 

 

Wednesday, April 21, 2021

প্রেত-প্রেতিনীর প্রেমকথা

 প্রেত-প্রেতিনীর প্রেমকথা

শিল্পী Gustave Doré


দান্তে নামের একটি যুবা পণ করেছে

নরক কিম্বা স্বর্গে বিলীন এক কবরে

পঁচিশ বছর যে মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে

পাতার বাঁশির সুরে তাকে জাগিয়ে দিয়ে

তাকে নিয়েই প্রেতপুরী সে দেখতে যাবে।

#

বিয়াত্রিচে নামের মেয়েই সেই প্রেতিনী,

স্বর্গদোরের মতন নীরোম, অমল-যোনি।

আখরভেলায় পার হয়ে সে বৈতরণী

দান্তে বুড়োর সঙ্গে দেবে সত্যি পাড়ি

'স্বর্গ' নামের নরকাধম কল্পলোকে?

#

বিয়াত্রিচের নাভির থেকে একটি নুড়ি

কুড়িয়ে আনি দান্তে নামের প্রেতকে দিতে।

প্রেত-প্রেতিনীর কল্পপ্রেমের নিবিড় ক্ষতে

স্বর্গ-নরক প্রকৃত হয় অনর্থকই।।


“পূরবী"

 “পূরবী"

 


জাহাজ থেকে জাহাজ। বন্দর থেকে বন্দর।

হারনা-মারু, আন্ডেস্‌, লিসবন …

নীল দিন, গড়িয়ে গিয়ে রাত, চাঁদঢালা।

চাঁদের কুহক ছিঁড়ে

ঝড়, কোনোদিন, হেউঢেউ, অন্ধকার

মধ্যদিনেই।  অপর বন্দর

ঝিলিমিলি, শান্ত

সন্ধ্যারাগে।

যে রাতে মাতাল চাঁদ,

যে রাতে ওঠেনি চাঁদ

সিন্ধুপারে, হয়তো তখনো …

নোনা জলে ধোয়া নীল দিনে,

ঢেউএর ফেনার মতো ধূসর দুপুরে,

গোধূলিতে,বিকালে, সন্ধ্যায়,

টের পাওয়া যায়

পদপাত

জাহাজ থেকে জাহাজে। বন্দর থেকে বন্দরে।

কার?

কোন বীজ ক্রমে মহীরূহ

চৈতণ্যের,চেতনার

“মোহিনী আড়ালে"?

#

যেন কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে বন্দরে।

#

দু'হাজার চব্বিশ থেকে ঊনিশশো চব্বিশের দিকে

যাত্রীজাহাজ নয়, একখানি খেয়া নৌকা

এগিয়ে চলেছে

অক্ষরে, শব্দে, যতিতে

যেন কেউ প্রতীক্ষায় আছে

প্রান্তিক, শেষলেখা হয়ে

পুনরায়

সেই পূরবীতে ...

 

 

 

 

 

২।

“কিভাবে পাঠালে ডাক পার করে মানচিত্র, মরুঝড়, সমুদ্র-তুফান?

কি করে জানালে তাকে তুমিই দোসর তার এ জন্মের জলজ-যাত্রার? – প্রশ্ন করি

বন্দরে প্রতীক্ষারতা অপরূপা প্রেত-রমণীকেঃ "কিভাবে সে চাঁদ উঠলে পরে

জানলো এ ফেলে যাওয়া মালাটি তোমার? বন্দরে নামার আগেই

কি করে চেনালে তুমি তাকে তোমার গম্বুজে লীন

সঙ্কেতের আলো-অন্ধকার?” – প্রেতিনী বলেনা কিছু। স্ফীংসের মতো মৃদু হাসে।

সে হাসিতে দুলে ওঠে মানচিত্র, কাল, পটভূমি। উনিশশো চব্বিশ সাল থেকে

দেখাযায় একটি জাহাজ কুয়াশা-কুহকে ভেসে আসে...

#

“যে ডাক পাতাল থেকে আসে

যে ডাক অমাবস্যা রাতে টেনে আনে চাঁদকে জোয়ারে

যে ডাক শিকড় হয়ে থাকে বৃক্ষটির প্রাণের মাটিতে

তাকে চিনে পারে প্রকৃত নাবিকই শুধু – কোনোও কম্পাস,ম্যাপ, সারেং'এর সহায়তা ছাড়া ...”

একজন শীর্ণ প্রেত একা, একমাত্র যাত্রী এই কুয়াশাপোতের, ধীর পায়ে নেমে আসে, বলেঃ

“যেভাবে দান্তের ডাক একদা জাগিয়েছিল বিয়াত্রিচে নামের মেয়েকে

সেভাবে কাউকে তুমি কোনোদিন দেখেছো কি ডেকে?”



Monday, March 29, 2021

মুখ

 মুখ


" শুধু তাই নয়। সই জাল করে 

বাবার এফডি গুলোও লোপাট করেছে।

 নেশা টেশা করে, তবে আদতে জুয়াড়ি।

দেবীটিও দেবাহেন।

 "প্রেম" কে " বিবাহে" ঝলসে এখন পুড়িয়ে খাচ্ছে 

একে-অন্যের ত্বক। তবে তলেতলে 

টাকাপয়সার খাতে দুটিতেই জুটি... 

 ... তবে জানো, ব্রিলিয়ান্ট ছিল, গান করত ভালো ...

 নাটক টাটকও করত --

 তারপর কখন, কিভাবে...."

 বন্ধু থামে। তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাটির ছবি 

ক্যানভাসে লিখতে গিয়ে দেখি 

আমারই একটি মুখ নিহিত দর্পণে 

ভেসে ওঠে, হেসে ওঠে, বলেঃ

" কি হে, এরকমই একটি কাহিনীতে 

'নায়ক' হওয়ার কথা 

ছিল তোমারোতো -- 

ঠিক কিনা?  যদি না সে বিন্দুটি থেকে

স্রেফ  অকারণে 

না নিতে দক্ষিণে বাঁক... 

 তোমার বন্ধুর ওই ভ্রাতাটিও,হায়, একই বিন্দুর থেকে

 কেন যে উত্তরমুখী বাঁক নিয়েছিল ...

কেন একই মোড়ে এসে ভিন্ন ভিন্ন বাঁক নেয়

প্রতিটি মানুষ, নৌকা

 এই  প্রশ্ন থেকে যাবে 

অনুত্তর

হয়তোবা পৃথিবীর মৃত্যু অবধি ..."।

#

কোন পথ কাকে নিয়ে যাবে কোন গন্তব্যের দিকে

এই কথা ভাবি আর

 নিজেকে ঝলসে খাওয়া মোচ্ছবের রাত মনে আসে। 

Friday, March 5, 2021

মোম জ্বলে

 মোম জ্বলে

মোম জ্বলে, দূরের জানলায় ।

শিখা কাঁপে, তুষার-হাওয়ায়। 

মোমশিখাটিকে দেখে দেখে

যে কিশোর আজ হেঁটে যায়

সে কি জানে যখন সে হবে

'ডাক্তার জিভাগো', তারপরে

দেখা হয়ে যাবে তারই সাথে

যে আজ জানলা থেকে একা

মোমের আলোতে চেয়ে দেখে

অন্ধকারে অন্ধকার একা

পথ হাঁটে

বিষাদের বিশাল প্রান্তরে? ...

 [ দেবলদা, দেবল দেবের জলরঙ্গে আঁকা মোম-জ্বলা ছবিটিই এই রচনার প্রাণ ও প্রেরণা।]


উৎখাত

 উৎখাত

আমার শোণিত থেকে একদিন নিজহাতে, ভাবি, মুছে দেবো

পিতৃত্ব,পুত্রত্ব,পতী,কুটুম্ব ও অন্য সব যাপন আর জন্মগত

ক্ষতচিহ্ন গুলি। সমস্ত এলবাম থেকে সবগুলি হাসিরাশি

গ্রুপফোটো আমি ভেঙ্গে ফেলবো আছ্‌ড়ে ফেলে মেঝে ও দেওয়ালে।

নিজস্ব মানচিত্রে রাখা সব আয়না, ঘষা কাঁচ, পারদ-দর্পন

টুকরো টুকরো করে খাওয়াবো ঈশ্বর আর ঈশ্বরীকে দিয়ে।

পিতা,পুত্র,পতী আর 'সচেতন নাগরিক', কবি - ইত্যাদি অনর্থক

অব্যয়ের ভিড়ে, আমি, হায়,  জন্ম থেকে নিজেকে দেখিনা।।

//২০২১

 

Wednesday, February 17, 2021

এবার তাহলে ফিরি

এবার তাহলে ফিরি



এবার তাহলে ফিরি... 
সন্ধ্যা তার অন্ধকার ও তারাচোখ নিয়ে
মার্জারীর মতো চুপিচুপি
দিনশেষে ফিরেছে দাওয়ায়।
পাড়ি জমাবার আগে
তারো কথা, রূপকথা গুলি
হবে শুনে যেতে।

এবার তাহলে ফিরি।
তোমাদের বাগান, প্রাসাদ,নদী,ঘাট -
সবই তো দেখালে।
ঘুরে ঘুরে দেখার আড়ালে
দিনের সূর্য নিয়ে
মাঝি পাড়ি দিলো।
এবার আমারো ফেরা
প্রয়োজন 
নিজঘরে, বনের কিনারে।
সেখানে সন্ধ্যা তার
 কুপি জ্বেলে একা
অপেক্ষায় বসে আছে, আর
পাড়ি দিতে হলে আমাকেও
লন্ঠন জ্বালাতে হবে
তার কুপি থেকে... 
এবার তাহলে ফিরি।

থেকোনা অপেক্ষা করে।
আবার এ পথে এলে, কথা দিচ্ছি, ঠিক দেখা হবে।

১৬/০২/২০২১

Sunday, February 14, 2021

"ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর"

 "ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর"


মার্জারশিশুটিকে দেখি। তিন মাস

বয়সের বীর। মা হারানো। রাস্তা থেকে

এনে তেতলার ফ্ল্যাটে 

পুনর্বাসন 

দিয়েছে আমার ছেলেমেয়ে।

আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ি।

অর্থাৎ সিমেন্টের

খোপ-খুপচি, ঝুলন্ত ব্যালকনি,

ঝাঁপ দিলে কিংবা গেলে দরজা খোলা পেলে

বার হয়ে, সমূহ বিপদ তার। আর

'প্রতিবেশী',  নগরের এ সকল খোপে, খুপচিতে,

প্রকাশ্যে বিষধর না'ও হয় যদি

তাহলেও বিষ দিয়ে বেড়ালছানাকে

গোপনে হত্যা করতে

সক্ষম সিংহভাগি, তাই

ভাগ্যবান এ মার্জারশিশুর পৃথিবী 

দুই  বিএইচকে'র এই খোপ,খুপচি,

চিলতে "ব্যালকনি"। কিন্তু সে গত তিন মাসে

জেনেছে যে, দরজাটি খুল্লেই আছে

আরো এক 'অবাক পৃথিবী'। জেনেছে যে

যে'ই যায় ওই দরজা খুলে

সে'ই যায় অবাক-পৃথিবী-পথে,

সে'ই যায় দূরে। হয়তোবা তাই

যেই আসে দরজা পেরিয়ে

মন দিয়ে শুঁকে তারই জুতো।

হয়তো সে ভাবে

সুদূরের ঘ্রাণ কিংবা স্বাদ কিংবা নিভৃত ঠিকানা

লেগে আছে কিংবা লেখা আছে

এ সকল জুতোর শরীরে।

হয়তোবা এই ঘ্রাণে সে'ও

মনে মনে পাড়ি দেয় দূরে.... 

'অবাক পৃথিবী' পথে ফেরে ঘুরে  ঘুরে... 

তাকে দেখে কেন মনেপড়ে,

মনেহয় কেন

আমিও কি নই তারই মতো?

যে দূরের দ্বার রুদ্ধ আমারো সম্মুখে

পুঁথির অক্ষরে আর স্বপ্নে আর গানে

আমিও কি প্রকৃত প্রস্তাবে

শুঁকিনা, শুঁকছিনা, প্রকার অন্তরে

সুদূরের আক্ষরিক জুতো?

আহা, যদি দরজাটি ওই

কোনোদিন মুহুর্তের তরে

খোলা পাওয়া যেতো... 

Thursday, February 11, 2021

মেঘবেতার থেকে প্রচারিতঃ একগুচ্ছ কবিতা

 মেঘবেতার থেকে প্রচারিতঃ একগুচ্ছ কবিতা

 


আমার ও হাওয়ার  বসবাস

 যতগুলি পথ চলে গেছে

পাহাড় পেরিয়ে কোন বনে,

আমার পায়ের ছাপ তুমি

খুঁজে পাবে তাদের বিজনে।

 

যেখানে পেয়েছি পাতা,ঘাস -

লিখেছি সেখানে চালচুলো।

আমার ও হাওয়ার বসবাস

ঘিরে নেচে চলে গেছে ধূলো।

 

ধূলিপথে পায়ে পায়ে হেঁটে

মিশে যাবো ধূলিতে আবার।

ধূলি থেকে জন্ম নেবে ধূলো,

এভাবেই হবে পারাপার …


“ দীপ জ্বেলে যাই"

দীপ জ্বেলে রখে যায় কেউ

মন্দিরের সিঁড়িতে, মাজারে।

প্রদীপের শিখাটি একাকী

জ্বলে জ্বলে নিভে যায় দূর

যাযাবর রাতের বাতাসে।

আমাদেরো ভুলগুলি ক্রমে

একটি একটি তারা হয়ে

জোনাকির মতো জ্বলে ওঠে

মাজারের ধারে,ঝোপেঝাড়ে।

 

দীপ জ্বেলে বসে থাকে কেউ

আঙিনায়, এলোচুল খুলে।

পথিক আসে না, রাত যায় -

ভোর আসে পাহাড় পেরিয়ে ।

আমাদেরো পাপগুলি ছায়া

হয়ে ফেরে সাথে সারাদিন

স্মৃতিগুলি মর্ম-পৃথিবীতে

উদ্বাস্তু, মানচিত্রহীন।

 

১৪/০৯/২০২০ – ১০/২/২০২১

 

কথার পা'চালি

  ১।

একটি দুটি কথা

লেখার আকুলতা

একটি দুটি পাতা

ঝরার ব্যাকুলতা

নিয়ে হাওয়ায় দোলে ।

কিংবা বাদলজলে

ভাসতে ভাসতে চলে।

শাদাই থাকে  খাতা

 একটি

        দুটি

               কথা …

 ২।

 একটি দুটি কথা

পাতার মতো ভেসে

আসে ঘাটের পাশে

আশায়।  কেউ তা শোনে যদি

কেউ না তুলে নিলে

হাতছানি দেয়

নদী।

৩।

এলোমেলো কথা লিখে রাখি।

এঁকে রাখি গুহায়, পাথরে।

দৃশ্যাতীত ছবি লিখে রাখি -

লিখে রাখি মেঘের আখরে।

কাগজ-নৌকার মতো দিন

রাত্রির 'নম্র নীল' জলে

ভেসে যায়

        অক্ষরের

                আঙ্গিনা

                           পেরিয়ে ...

১৩/০৯/২০২০ ---১০/০২/২০২১

  

 মেঘরেডিয়োর গান

 দূরে নীল পাহাড়ের কাছে

মেঘের যে বাসাবাড়ি আছে

সেখানে নিঝুম রাতে বাজে

রেডিওতে অবলুপ্ত গান।

 

সকাল এলেই ভেসে ভেসে

চলে যায় অন্য কোনো দেশে ।

নতুন গানের ঝাঁক এসে

ভিড় করে মেঘ-রেডিওতে।

 

আমি ওই গান শুনে জাগি।

সেসব তারার কথা ভাবি

যাদেরকে পার হয়ে, উড়ে

এসেছি এ খড়ে , গ্রহান্তরে।

 

'ভিন গ্রহে যেতে হবে ফিরে'

– মাঝে মাঝে হাওয়া এসে বলে।

যাওয়ার সময় গান গুলি

 কার হাতে দিয়ে যাব, ভাবি -

 

দূরে নীল পাহাড়ের কাছে

মেঘের যে বাসাবাড়ি আছে

তাদেরকে দিয়ে যাই যদি

তারা কি বাজাবে গান গুলি?

 ২২/১০/২০২০ – ১০/০২/২০২১

 

 

 

 

 

Wednesday, February 10, 2021

নিদ্রিত শব্দগুলি দিয়ে

 নিদ্রিত শব্দগুলি দিয়ে 

নিদ্রিত শব্দগুলি দিয়ে 

সক্ষম হবো কি নির্মাণে 

নিদ্রারত একটি শহর 

শব্দদের না জাগিয়ে 

শুধু কফিনের মতো 

পাশাপাশি রেখে 

একটি শহর -- পাহাড়িয়া কিংবা সমতল

 যে শহরে ঘরে ঘরে ঘুম বাস করে 

ঘুম ফুল হয়ে ফোটে ঘাসে ঘাসে

 রিফুজিলতাতে

ঘুমন্ত রাস্তা ধরে সকালভ্রমণে যায় 

ঘুমন্ত মানুষ 

ঘুমন্ত বাজার হাটে দামাদড়ি,কেনাবেচা,

 হুলস্থূল ও হাল্লাগোল্লা চলে

 ছোটবড় মাছ নিয়ে, মদ, মুর্গি 

মেয়েছেলে নিয়ে ---

 তবু বাজার জাগেনা।

শীতরাতে উঠোনে বা মাঠে

স্টিরিও সঙ্গীতসহ ক্যাম্পফায়ার জ্বলে। 

স্তব্ধতা ভাঙ্গে তবু ঘুম ভেঙে উঠে না শহর।

 ঘুমন্ত প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমা।

হাউসফুল।  ব্ল্যাকের টিকিট নিয়ে 

হাতাহাতি, রক্তারক্তি

 লাঠি হাতে শেয়ালপুলিশ

পরিস্থিতি নিয়ে আসে 'দ্রুত নিয়ন্ত্রণে'।

 অতঃপর ফিরে যায় তারা 

টিলার উপরে ঘুমে-

-ডুবে-থাকা সদর থানাতে। 

ঘুমন্ত মসজিদ, মন্দির এবং গির্জাতে 

প্রার্থনা ও উৎসব হয়। ঘুমন্ত মসজিদ,গির্জা, মন্দিরেরা কখনো জাগেনা। 

ঘুমের কিনার দিয়ে ঘুমহীন ট্রেনে কিংবা বাসে যেতে যেতে আমি 

জানলা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি 

ঘুমন্ত শহরে মানুষেরা 

বসে আছে দোকানে,বেঞ্চিতে,গৃহে - গান 

বাজছে রেডিওতে আর 

ঘুমফুল, ঘুমগাছ গুলি

লতাপাতা মেলে ক্রমে ঢেকে দিচ্ছে 

ঘুমশহর,প্রেক্ষাগৃহ,পীচরাস্তা, ঘুম... 

ঘুমহীন শব নিয়ে 

জেগে উঠছে

নদীনালা, শ্মশান, কবর... 

২৯/১ -- ০৯/২/২০২১

কাহিনী

কাহিনী 

'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
কাঠের দোতলা বাড়ি। অচেনা শহরে
মধ্যরাত। মেঘ। তাতার বাতাস
ফিরছে , নিশিডেকে গলিতে, সড়কে।
এমত আবহে 'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
মোমবাতি হাতে নিয়ে কাঠের সিঁড়িটি বেয়ে
থমকে দাঁড়িয়ে পড়ি নামতে গিয়েও।
আমি কি 'সাইমন' না'কি
অন্য কেউ? ভাবি, সাইমনই
খুলে দিয়েছিল নাকি
দরজাটি? না'কি সে খোলেনি?
যে ডাকছে সে ফিরে গিয়েছিল না'কি
ঘাতকের ছুরি তার পিঠে বিঁধেছিল?
মোমবাতি হাতে ফিরে এসে
হাতড়াতে থাকি গ্রন্থগুলি।
এই পর্বে কোন গ্রন্থ থেকে কোন দৃশ্য
অভিনীত হবে, আমি কোন চরিত্র – সকলই
বলে দিয়েছিল কেউ, কোনোদিন,
কোনো এক পান্থশালাতে।
এখন কিছুতে আমি
মনে আনতে পারছিনা গ্রন্থনাম এবং আমার
চরিত্র, ভূমিকা কিংবা
কাহিনীর পরিণতি। তবু
'সাইমন, সাইমন' বলে
দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ।
কাঠের দোতলা বাড়ি। অচেনা শহরে
মধ্যরাত। মেঘ। তাতার বাতাস
ফিরছে, নিশিডেকে গলিতে, সড়কে …

//২০২১

[ আমার স্বপ্নগুলি সচরাচর অদ্ভুত রকমেরই হয়। আজকের স্বপ্নটা যেন আরোও অদ্ভুত। এই স্বপ্নে

আমার বাস্তব স্ত্রী'ই আমার পত্নী। আমাদের শিশুপুত্র আছে একজন। তাকে, একজন আয়ার দায়িত্বে রেখে
বেড়াতে বেরিয়েছি। কিন্তু সঙ্গে যে যুবতীটি সে আমার পত্নী নয়। … বেড়াতে বেরিয়েছি। অচেনা শহর। মেঘলা ঘোধূলি। আমার সঙ্গিনী মেয়েটির পরনে কিরিস্তানি বিবাহ-পোশাক। আমরা শহরের সমস্ত কবরে যাচ্ছি। ফুল রাখছি, বোকে রাখছি। সামান্য পেছনে আমার বাবা ও মা। স্বপ্নে বাবা-মা'র বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। আমিও যুবক। সঙ্গের রমণীটি অত্যন্ত কামোদ্দীপক। গরম যুবতী।
এক সময় স্থির হলো বাড়ি ফেরা হবে। বাড়ি মানে পাহাড়ি শহরের কোনো বাজার রাস্তার কোনে আসাম-টাইপ, তবে দোতলা একটি বাড়ি। একতলায় মা-বাবা থেমে গেলো। দোতলায় ওঠামাত্র ফরাসী আয়াটি আমার সঙ্গিনীটিকে ঝামড়ে উঠলোঃ 'এতো কম বেতনে কি এসব পোষায়? এরপরে, ডিউটি আওয়ার শেষে বাচ্চা দেখলে এক ঘন্টায় এক গিনি...' সঙ্গিনীও কিছু বল্লো তাকে। অতঃপর বিছানায়, ঘুমন্ত শিশুর পাশে শুয়ে পড়লো সে'ও। তখনো সন্ধ্যা হয়নি। নোংরা মেঘে আকাশ আবৃত। দোতলার জানলা থেকে আমি গলীর মোড়ের দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছিলাম যেন কারো। … সে এলো। সে আমার বাস্তবের স্ত্রী। স্বপ্নে সেই কলেজ বয়সী। আমার সঙ্গিনীর সাথে এখন যে ঘুমন্ত শিশু সে আমার আর আমার পত্নীরই ছেলে। পত্নী তাকে দেখতে এসেছে। লুকিয়ে। আমিও চাই সে দেখুক। চাই সে'ই নিয়ে যাক আমাদের শিশুপুত্রটিকে। … তবু যদি অধুনা ঘুমন্ত এই যুবতীটি দেখে ফেলে, তবে …
তবে ঠিক কি হবে কেজানে। তখুনি খেয়াল হল এরপরে কি যে হবে সবই লেখা আছে হুগো'র উপন্যাসে, 'লা মিজারেবল্‌' এ। কিন্তু কোথায় পাই 'লা মিজারেবল্‌'? ভাবছি আর শুনতে পাচ্ছি ফিসফিস স্বরে বৌ আমাকে ডাকছে নিচ থেকে। ভয়ে ভয়ে আমি দেখছি যুবতীটির ঘুম ভাঙ্গলো কিনা। না, ভাঙ্গেনি। আমি ছেলে কোলে করে পেছনের লোহা-সিঁড়ি বেয়ে আমার বৌ'এর দিকে যেতে ভাবছি - কি হবে? আমাকে কি আমরণ থাকতে হবে না'কি এই রতিপটিয়সী তবু বদমেজাজ যুবতীর সাথে? আমার বৌ'এর সাথে পুনর্মিলন হবে না'কি কোনোদিন আর? তখন আবারো মনে এলো এরপরে কি যে হবে সবই লেখা আছে হুগো'র উপন্যাসে, 'লা মিজারেবল্‌' এ। কিন্তু কোথায় পাই 'লা মিজারেবল্‌'?

এরপরে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘোর কাটলে ধীরে ধীরে লেখা হলো কবিতাটি ]



Monday, February 8, 2021

একটি 'লুটিস' : বিক্রি হবে কবিতার খাতা ও আরো দুটি একলা কবিতা

 একটি 'লুটিস' : বিক্রি হবে কবিতার খাতা ও আরো একটি একলা কবিতা

 


 একটি 'লুটিস' : বিক্রি হবে কবিতার খাতা

 কিছু কবিতার খাতা বিক্রি হবে অতি সস্তা দরে। নিলাম টিলাম নয়,

চৌমাথায়,বাজারের মোড়ে কিলো দরে বেচে দেওয়া হবে 

অসংখ্য কবিতাচেষ্টা কাটাকুটি সহ ছোট-বড় নানাবিধ খাতা ও কাগজে। 

আরো কিছু পৃষ্ঠা আর খাতা ছিল,তবে সে সবের পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে 

কখনো নৌকা কিংবা এরোপ্লেন বানিয়ে বানিয়ে বাতাস ও জলের কাছে 

সমর্পণ করা হয়ে গেছে।  বাকি যা রয়েছে এখনো

যদি কেউ কিনতে চান, তবে, পাওয়া যাবে

অতীব শস্তায় । তবে আগামী দুই দিন শুধু। তারপর জল,বাতাস 

এই দুই আদি দেবতার লেলিহান ও দাহ্য সখা আগুনের কাছে 

খাতা আর পৃষ্ঠাগুলি সুনিশ্চিত  সমর্পিত হবে।

অতএব ক্রেতাগন, কবি যশোলোভী, দ্রুত এসে নিয়ে যান কিনে

কবিতার এ ভ্রূণগুলি, এ বাজারে, নামমাত্র দামে।

 ২।২।২১ - ৮।২।২১

 

গদ্যে লিখিত আত্মজীবনী বিষয়ে

 " আত্মজীবনী লেখা,গদ্যে, অসম্ভব।  যারাই লিখেছে, হয় কিছু গোপন করেছে কিংবা

বাহাদুরি পেতে লিখেছে বানানো কথা --এমন বলছি না, তবে, গদ্য-জীবনীতে আমি সুনিশ্চিত সক্ষম হব না বলতে প্রকৃতার্থে জীবনের সেই কথাগুলি যেগুলি পেয়েছি আমি

বাদুর বাগান থেকে হেঁটে যেতে মাঠ কোটা ঘুরে। অন্যথায় কুশিয়ারা, বরাক নদীতে...

গণিকাভগিণী আর জিরি চিরি নদীদের  বুক থেকে

কুয়াশার আঁচল সরিয়ে।"

এতগুলি বাক্য তিনি বলেননি,অগ্রজ কবি,শুধু বলেছেন,

"আত্মজীবনী লিখুন” আমার এই ধৃষ্ট প্রস্তাবেঃ "আত্মজীবনী লেখা,  অন্তত আমার পক্ষে,

গদ্যে, অসম্ভব। 

আমার কবিতাগুলি কালানুক্রমিক ভাবে

বলে গেছে প্রকৃত আত্মজীবনী।

বুঝতে পারবে যদি পড়ো  মনোযোগ দিয়ে... "

#

অগ্রজ কবির বাড়ি থেকে বারহয়ে  হয়ে এসে লক্ষ্যহীন হাঁটি পথে,ভাবি

আমার জীবন-গল্প, আলো-অন্ধকার সহ ,কবিতায়, প্রকৃত কি বলেছি নিভৃতে?

নাকি "শিল্প", দুরূহ এ স্পর্শনুড়ি লোভে

আমার কবিতাগুলি আমারই স্বাক্ষরসহ

অন্য কোন মানুষের অবিরল গল্প বলে গেছে?

২।২।২১ - ৮।২।২১

 

 

 

 

 

 

 ধূলি আর প্রতিমার কথা

 "This dust was once the man"... Whitman

 
এই মুঠো-ধূলি ছিল একদা প্রতিমা।

ছিল প্রাণ দানব দলন। তৃতীয় চোখের জ্যোতি,

যোনির মহিমা, অভিমান, দুচোখে কাজল -

সবই ছিল যা যা থাকে প্রানপ্রতিমার। তারপর

রোদে,জলে, হাওয়ায়, বাতাসে তার ক্ষয়, যথারীতি -

যথারীতি মুঠোধূলি আজ। তথাপি এই ধূলি থেকে

স্বপ্নে আজো দেহ নেয় তৃতীয় চোখের জ্যোতি, যোনির প্রতিভা আর

গর্জন তেলের ঘ্রাণ, পরচুলা, ডাকের সে সাজ...

 

সপ্তর্ষি বিশ্বাস

৮/০২/২১

---------------+++

“ This dust was once the man,

Gentle, plain, just and resolute, under whose cautious hand,

Against the foulest crime in history known in any land or age,

Was saved the Union of these States.”

Whitman এর এই কবিতাটি আগেও পড়েছি। দাস প্রথার অবসান, আমেরিকায়, ঘটানোর মহানায়ক লিংকন কে শ্রদ্ধা করি আমিও। তবে এই ঘটনাও, আদপে, উৎপাদন ও বন্টন সম্পর্কে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটায়নি। শুধু সামন্তবাদের থেকে বুর্জোয়া পুঁজিবাদের দিকে আমেরিকাকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে মাত্র।..  হুইটম্যান যেহেতু ওই যুগের সন্ততি সুতরাং তাঁর স্বাভাবিক লিংকন-ভক্তি কে আমি বুঝি আর শ্রদ্ধা করি। কিন্তু লিংকন যেহেতু আমার মর্মে কার্ল মার্ক্স বা লেনিনহেন দাগ কাটেন নি, তাই হয়তো কবিতাটিও আমাকে নাড়া দেয়নি। এখনো দেয়না। তবু তারই প্রথম পংক্তি আজ আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিল এই বাংলা কবিতাটি।

Sunday, February 7, 2021

'আগামীকাল' এর ফাঁদ

  'আগামীকাল' এর ফাঁদ

 

অনেক 'আগামীকাল'  পেরিয়েছি তবু

পরের বাঁকের মুখে  দেখেছি  'আগামীকাল' 

ওঁৎ পেতে আছে যাপন-সহজ-পাঠ শেষে 

অ-সহজ ও অর্থহীন অক্ষরের মতো। 

আমাদের 'গতকাল' গুলি তীর্থগামী-অন্ধ-নির্বোধ, 

খোঁড়া পায়ে শূন্যগর্ভ 'আগামী'র খাদে 

ঝাঁপ দেয়, মড়ে। 

বন্ধু তুমি , বিদূষক, ত্রস্তে নিভাও সব

মোম ও মশালগুলি এখুনি, কেননা

আমাদের কায়াহীন ছায়া কৃত যাত্রাপালা, 

গর্ভস্রাব যাপন কাহিনীর অন্তে কিছু নেই,হায়,

সম্রাট ও ভিখারী-ভূমিকা পালাশেষে

আমূল বিস্মৃত। 

পালার  কাহিনীটিও যে রচেছে সে নিজে বিকৃত মেধা 

এবং আমরাও  জানিনা কি  --'যাপন' গহনে হয় 

শ্বাপদের হুংকারহেন হিংস্র হল্লা, ধ্বনি আর তজ্জনিত 

ভীতিতে অঙ্কিত একটি আখ্যান যার 

তাৎপর্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখা নেই কোনো।।

১৩ই ডিসেম্বর ২০২১

===============

[ কবিতাটি মনে আসে, প্রায় রোজই। পুনর্লিখিত হত, রোজ না হলেও, প্রায়শই।  এই বদলে যাওয়ার 'লগ' থাকলো এখানে ]


====    ||| ===== || ======== ||| ===== ====    ||| ===== || ======== ||| =====

অনেক 'আগামীকাল' এতাবৎ পেরিয়েছি তবু

দেখেছি বাঁকের মুখে 'আগামীকাল' এর ফাঁদ

পাতা আছে যাপন-সহজ-পাঠ শেষে অ-সহজ ও

অর্থহীন অক্ষরের মতো। আমাদের 'গতকাল' গুলি,

নির্বোধের মিছিল যেমন, এগিয়েছে খোঁড়া পায়ে

সে সকল শূন্যগর্ভ 'আগামী'র দিকে । অতএব

তুমি বন্ধু, তুমি বিদূষক, নির্বাপিত কর সব

মোম ও মশালগুলি, ত্রস্তে, এখুনি কেননা

মোমের মতনই আমাদের কায়াহীন ছায়া কৃত

যাত্রাপালা, শূন্যগর্ভ যাপন কাহিনী, শেষ হবে আর

তারপর কিছু নেই, সম্রাট ও ভিখারী-ভূমিকা

আমূল বিস্মৃত। প্রেক্ষাগৃহে বাসা গড়ে

সূচীভেদ্য অতল আঁধার। - এ কাহিনী যে বলেছে

সে নিজে বিকৃত মেধা এবং আমরাও

প্রত্যেকে জানিনি কি, জানিনা কি

যাপন গহনে হয় শ্বাপদের দন্তহেন

হিংস্র শব্দ আর তজ্জনিত ভীতি বিরচিত

একটি আখ্যান যার 

তাৎপর্য, ব্যাখ্যা নেই কোনো।।

====    ||| ===== || ======== ||| ===== ====    ||| ===== || ======== ||| =====

  [ আগু-কথা বা পিছু-কথাঃ  আমার বাবার আজকাল অনেক কথাই মনে থাকেনা আবার অনেক কথাই উঠে আসে নিশ্চেতনের কোনো সংলগ্নতায় যা আমাদের চেতনা পারেনা ঠাউর করতে সর্বদা। অশীতিপর এই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও অধ্যাপকটি আজ হঠাৎ বল্লেন সেই পংক্তিগুলিঃ  Tomorrow, and tomorrow, and tomorrow,

Creeps in this petty pace from day to day … আমার মনে পড়লো এদের ছায়ায় আমিও কখন, ২০০০ সাল নাগাদ একটি কবিতা-প্রয়াস নিয়েছিলাম। 'অনুবর্তন' পত্রিকায় হয়েছিল মুদ্রিতও…

"অনেক 'আগামীকাল' পেরিয়ে দেখেছি

 তবু থাকে আরো বহু 'কাল', আগামীকালের মতো

অলীক, ধূসর পথ মৃত্যুর আঙ্গিনা অবধি।

বিদূষক, বন্ধু, তুমি

নিভাও ত্রস্ত হাতে শীর্ণ এ মোমবাতিমালা ...”

… এতোদূরই মনে আছে এখন। কিন্তু বাবা পুত্র কৃত রচনাটি পুরোই শুনতে চায়। তাই ঠিক ২১ বছর পরে, আমার নস্টালজিয়া আর বাবার শোনার ইচ্ছা'কে সম্বল করে আবার খেলায় বসলাম এই প্রিয়তম পংক্তিগুলি নিয়ে। … যা দাঁড়ালো তা'ই ২০২১ এর, আমার,  'Tomorrow, and tomorrow, and tomorrow,

'    এর ছায়া কবিতা।

- সপ্তর্ষি বিশ্বাস, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ বেঙ্গালোর]

ঘুম ঘর