প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Tuesday, October 29, 2019

বড়মাসী

বড়মাসী
বাস্তবে আমাদের কোনো 'মামাবাড়ি' কখনো ছিলনা। মাতামহী, 
দূরের মানুষ, নামমাত্র বসবাস দেওরের সংসারের ভিড়ে। মাতুলেরা
১৯৪৭ সালে বাস্তুহারা আর সব জনতার মতো পেটেভাতে
কষ্টে প্রতিষ্ঠিত নানা অক্ষে, নানা দ্রাঘিমাতে। 'বড়মাসী' –
উদ্বাস্তু সংসারের বড়মেয়ে। অতএব 'বধূ' প্রায় বালিকা বয়সে।
'পক্ষীমাতা', বালিকা বয়সে। 'দিদি, মা'র মতো'। - মা বলেছে।
মামারা বলেছে। আমিও পেয়েছি টের যখন ভূগর্ভস্থ তাঁর স্নেহঘ্রাণে
ক্রমে ক্রমে ভুলেগেছি বাস্তবে আমাদের কোনো 'মামাবাড়ি'
কখনো ছিলনা। 
'নক্সী কাঁথা' শিল্পটির মতো অধুনা বিলুপ্ত যে স্নেহের সীবনশিল্প
তার সূঁচে এবং সূতোতে বুনে তোলা বড়মাসীদের বাড়ি
তেমন দালান, হর্ম্য, রাজপ্রাসাদ নয়। আত্মিয়-স্বজন এলে
রাত্রিবেলা মেঝে জোড়া ঢালাও বিছানা, দুপুরে পংক্তিভোজ,
পাকঘরে, “যোগমাসী, আলুভাজা, আরো”.. বড়মাসীদের বাড়ি
আজো আছে। বড়মাসী নেই। 'নেই' নাকি ঘুমিয়ে রয়েছে
এসকল অক্ষরের দাহ্য ছায়াতে?...

ঘুম ঘর