প্রবেশিকা

ভিড়েই রয়েছি মিশে, নিজবেশে, তাই চিনতে পারছেনা কেউ। এ'ই স্বাভাবিক। ম্যাজিক-মাহাত্ম্য ছাড়া, ম্যাজিক-মাহাত্ম্যের মূলে অন্ধকার টুপি আর ঝোলা কোট ছাড়া, কে হে আমি? কে’বা আমি? কিভাবে ভিড়কে বলি ইন্দুরে কেটেছে টুপি, লাল-নীল রুমালের ঝাঁক উড়ে গেছে পায়রা, কাক হয়ে...

Wednesday, October 30, 2019

সেজোমামা

সেজোমামা

আজকাল আমি আর একদমই পারিনা সেজোমামা। দামী হোক,

কমদামী হোক দুই পেগ, বড়জোর তিন পেগে বেহেড আউট

হয়ে যাই। অকালে অক্কা না পেলে হয়তো তোমার সাথে

বসতাম। কেননা এখন আমি ‘রাজা’, ‘রাঙ্গাদির ছেলে’ ৪৭

ছুঁয়েছি নিজেও। তোমরা তো ১৯৪৭ ছুঁয়েছিলে।

                                                জীবিত তোমাকে আমি

শেষ কবে দেখেছি কেজানে। আমার বিয়ের পরে বর-বৌ জোড়ে

তোমাদের বাড়ি গেছি বিধিবদ্ধ নিমন্ত্রণে আর তখনই তোমার ফোটো,

মামির টেবিলে, দেখামাত্র চমকে উঠেছি। এখন নাহয় গালে এবং গতরে

মাংস লেগেছে, তা নাহলে ওই ফোটো একেবারে আমি। ‘নরানাং

মাতুলক্রম’?

              মরতে মরতেও তুমি মামিকে বলেছো গাইতে ‘এ মায়া

প্রপঞ্চময়’, জানি। তুমি জানো না’কি তোমার এই ভাগ্নেবৌটিও,

তেমন ওস্তাদ কিছু নয়, তবে গান গাইতে পারে। জানো নাকি

এ আমারো খুবই প্রিয় গান। তাকে আমি শিখে রাখতে বলেছি

কেননা মরবার আগে যদি বাহ্যজ্ঞান থাকে তাহলে আমিও

শুনে মরতে চাই ওই গান।

 

জীবিত তোমাকে আমি শেষ কবে দেখেছি কেজানে। অথচ

তোমাকে দেখি পাশে এসে বসো প্রায়ই যখনই একলা ঘরে

বসে গান শুনি। অকালে অক্কা না পেলে হয়তো তোমার সাথে

বসতাম বোতল নিয়েও কোনোদিন। আমি ‘রাজা’, ‘রাঙ্গাদির ছেলে’

৪৭ ছুঁয়েছি নিজেও। তোমরা তো ১৯৪৭ ছুঁয়েছিলে।

ঘুম ঘর